"উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে" উক্তিটি যথার্থ।
সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ তার মনের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সাহিত্য যদি অন্যের বোধগম্য না হয়, তবে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই লেখকদের উচিত উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হওয়া।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন চোখ ভোলানো না হয়। সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি চুরি করা ভালো নয়; ভালো নয় নকল শৌখিনতা। তাই তিনি এমন কবির আগমন প্রত্যাশা করেছেন, যিনি নির্বাক মনের কথা এবং সাধারণের মর্মবেদনার কথা সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় প্রকাশ করতে পারেন। কবি দূরে থেকেও যেন তাদের কথা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে শুনতে পান। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক বাংলা সাহিত্যের নতুন লেখকদের বলেছেন- যশের জন্য, অর্থের জন্য না লিখতে। মানুষের মঙ্গল সাধন হবে না এমন সাহিত্য রচনা করতেও নিষেধ করেছেন। যা অসত্য এবং যা বলার অধিকার নেই তা সাহিত্যে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন, তাঁর বলা কথাগুলো নতুন লেখকরা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং দোষত্রুটিগুলো সংশোধন করে উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করবেন।
উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক একই চেতনার অধিকারী। তাঁরা চেয়েছেন নতুন লেখকরা যেন কোনো রকম খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে না লেখেন। তারা যেন সাধারণ মানুষের কথা সহজ-সরল ও সুন্দরভাবে সাহিত্যে তুলে ধরেন, যাতে করে বাংলা সাহিত্য উৎকর্ষ লাভ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ- উভয় জয়গায় নতুন লেখকদের কাছে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার প্রত্যাশা করা হয়েছে। তাই বলা গা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।