"উদ্দীপকটি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে প্রতিফলিত করে না।" মন্তব্যটি যথার্থ। সাহিত্য সত্য ও ধর্মের প্রতি অনুকূল হয়ে মানবকল্যাণ সাধন করে।
সাহিত্যিক সত্য-সাধক। মানুষের জন্য মঙ্গলকর কথা দিয়ে কল্যাণ পথের সন্ধান দেওয়া সাহিত্যিকের কর্তব্য। কারণ সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলে সাহিত্য মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।
উদ্দীপকে একজন সাহিত্যিকের সত্যাশ্রয়ী হয়ে মানবকল্যাণ সাধনে সাহিত্যসাধনা চালিয়ে যাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্যে নিজেকে যে একজন গৃহীর সততার সাফল্যের প্রতিচ্ছবি করে তুলে ধরেছিলেন সেই কথা বলা হয়েছে। তিনি ঘরছাড়া বিপ্লবীর সততাকে যেমন সামনে এনেছেন তেমনই মেশিনগানের সামনে জুঁইফুলের স্নিখতাকে উপস্থাপন করেছেন। এগুলো করতে গিয়ে তিনি কখনো কপটতার আশ্রয় বা কোনোকিছু ঢাকার চেষ্টা করেননি। উদ্দীপকের এই বিষয়টি আলোচ্য রচনায় প্রতিফলিত নতুন লেখকদের সত্যাশ্রয়ী হয়ে মানবকল্যাণ সাধনে সাহিত্য সৃষ্টির পরামর্শদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আলোচ্য রচনায় রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অর্থ, যশ-খ্যাতি, আত্মস্বার্থ ও মনোরঞ্জনের জন্য লেখনী ধারণ করতে নিষেধ করেছেন। ধর্মের বিরুদ্ধে বা সত্যের বিরুদ্ধে যায় এমন সব শিল্প সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এই রচনায়। এসব বিষয়ে উপদেশ, পরামর্শ উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সাহিত্যে সত্য-সাধনার দিকটি উদ্দীপক ও আলোচ্য রচনায় এক ও অভিন্ন। কিন্তু নতুন লেখকদের জন্য আলোচ্য রচনায় লেখক যেসব উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।