'উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র'- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ। সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। তাই মানবকল্যাণে সহায়ক হয় এমন সাহিত্য রচনা করা উচিত।
উদ্দীপকে কাজী মোতাহের হোসেনের সাহিত্য সম্পর্কিত একটি মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য যে সাহিত্য রচিত হয় তা যদি মানবের কল্যাণে এবং মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে নির্দেশ না করে তবে তা আক্ষেপের বিষয়। অর্থাৎ মানুষের ভালো হবে এমন সাহিত্য রচনা করা উচিত। আলোচ্য প্রবন্ধেও এই কথা বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক বলেছেন, লেখক দেশের মানুষের মঙ্গল সাধন করতে পারেন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারেন এমন লেখাই লিখবেন। এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক লেখকদের কেমনভাবে লিখতে হবে, লেখার সময় কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে, কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে হবে সেসব বিষয়ে একটি দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। যেমন- অর্থের জন্য লেখা যাবে না, যশের জন্য লেখা যাবে না, অসত্য ও ধর্মবিরুদ্ধ বিষয় সাহিত্যে আনা, যাবে না, নিজের বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না এবং কাউকে অনুকরণ করা যাবে না। এছাড়াও মঙ্গল সাধনের জন্য লিখতে হবে, কিছু লিখলে তা বারবার পড়ে সংশোধন করতে হবে এমন কথাও বলেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু একটি দিকই প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক, একজন ভালো লেখক হতে চাইলে কী কী করতে হবে আর কী কী করা যাবে না সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উদ্দীপকে সেগুলোর একটি মাত্র দিক প্রকাশিত হয়েছে।