"উদ্দীপকের বিষয়টি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে একজন লেখককে অনেক বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। লেখার ভাষা কেমন হবে, ছন্দ ও অলংকারের ব্যবহার কেমন হবে- এসব বিষয় মাথায় রেখেই সাহিত্যে মনোনিবেশ করা জরুরি। এই বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখলেই একজন সাহিত্যিক সফলতা অর্জন করতে পারেন।
উদ্দীপকে লেখকের লেখার জড়তা বিষয়ে বলা হয়েছে। উদ্দীপকের লেখক সর্বপ্রথম আমাদের লেখার জড়তা দূর করার কথা বলেছেন। যে সাহিত্য জড়, যার প্রাণ নেই, সেই নির্জীব সাহিত্য মানুষের কোনো উপকারে আসবে না; সেই সাহিত্য কখনো স্থায়ী সাহিত্যও হতে পারবে না। 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও উদ্দীপকের বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে উঠে এসেছে একজন নতুন লেখক কোন কোন বিষয়ে নজর রেখে সাহিত্য সাধনা করবে- সেসব বিষয়ে কিছু নির্দেশনা বা পরামর্শ। এসব নির্দেশনা বা পরামর্শ বিষয়ে উদ্দীপকে কোনো আলোচনা হয়নি।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নতুন লেখকদের সাহিত্য রচনার সময় কয়েকটি বিষয় বর্জন করতে বলেছেন এবং কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সাহিত্য রচনা করতে বলেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি প্রবন্ধে উল্লিখিত বিষয়গুলোর একটি। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও অন্য আরও অনেক বিষয় থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে বলা হয়েছে সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ, সরল ও জড়তামুক্ত। উদ্দীপকেও এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র ভাব।তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।