উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্র 'খ' হলো বাংলাদেশের মৎস্যচাষ।
নিচে এর গুরত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
মৎস্য চাষ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি কৃষিক্ষেত্র। বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের উৎস হতে মৎস্য আহরিত হয়। যথা: অভ্যন্তরীণ বা স্বাদু পানির মৎস্য এবং সামুদ্রিক মৎস্য। এই মৎস্যক্ষেত্রের সাথে বাংলাদেশের বহু মানুষ জড়িত। মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের বড় একটি উৎস হলো মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র।
মৎস্য ও মৎস্যপণ্য বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম প্রধান খাত। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ হতে প্রধানত গলদা, বাগদা, হরিণাসহ বিভিন্ন জাতের চিংড়ি, স্বাদুপানির মাছের মধ্যে কার্পজাতীয় মাছ যেমন: রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি রপ্তানি করা হয়। ক্যাটফিসজাতীয় মাছ যেমন আইড়, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, কৈ, কুইচ্চা প্রভৃতি; সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ভেটকী, দাতিনা, রূপচাঁদা, ক্যাটল ফিস, কাঁকড়া ইত্যাদি রপ্তানি হয়ে থাকে। এছাড়াও শুঁটকি মাছ, মাছের আঁইশ এবং চিংড়ির খোলসও রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ ৫০টিরও অধিক দেশে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ হতে রপ্তানিকৃত মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ Value Added Product হিসেবে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিগত অর্থবছরে ৪৯৫২৯.৪০ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ২,৮৭৪.২৬ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের মৎস্যক্ষেত্রের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।