অধ্যায়-২ : নাগরিক ও নাগরিকতা (Full Syllabus) পৌরনীতি ও নাগরিকতা

SSC পৌরনীতি ও নাগরিকতা এর অধ্যায়-২ : নাগরিক ও নাগরিকতা (Full Syllabus) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৫৩

প্রশ্ন

পৌরনীতি ও নাগরিকতা

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্ত্রী ও এক সন্তানের সাথে রহিম মিয়া গ্রামে বাস করে। করিম মিয়া তার প্রতিবেশি। গ্রামের কেউ করিম মিয়াকে বসবাস করতে বাধা দেয় না। সে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সে সততার সাথে ভোট দেয়। নিয়মিত কর প্রদান করে।

Mymensingh · 2023

ক
সমাজ কাকে বলে?

উত্তর

সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একদল জনগোষ্ঠী যখন সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে তখন তাকে সমাজ বলে।
খ
মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর

বংশ গণনা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিবারের যে দুটি ধরন রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মায়ের বংশপরিচয়ে সন্তানরা পরিচিত হয় এবং মা পরিবারের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া এ ধরনের পরিবারের মেয়েরাই শুধু সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। সাধারণত এরূপ পরিবারের স্বামী তার নিজ পরিবার ছেড়ে স্ত্রীর পরিবারভুক্ত হয়ে বসবাস করে। বাংলাদেশের গারোদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যায়।
গ
রহিম মিয়ার পরিবারটির ধরন ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

রহিম মিয়ার পরিবারটির ধরন হলো একক পরিবার। পারিবারিক গঠন কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবারের দুটি রূপ পরিলক্ষিত হয়। যথা একক পরিবার ও যৌথ পরিবার। যে পরিবার এক পুরুষে আবদ্ধ অর্থাৎ পিতার অধীনে তার স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানাদি বাস করে তাকে একক পরিবার বলা হয়। একক পরিবার একটি ক্ষুদ্র পরিবার। উদ্দীপকের রহিম মিয়া স্ত্রী ও এক সন্তানের সাথে গ্রামে বাস করেন। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, রহিম মিয়ার পরিবারটি একটি একক পরিবার। কারণ তার পরিবারে সে তার স্ত্রী এবং তার অবিবাহিত সন্তান বাস করে। এরূপ একক পরিবার আকারে ক্ষুদ্র হয় বলে এরূপ পরিবারকে অনু পরিবারও বলা হয়। দিন দিন এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ
করিম মিয়ার কর্মকাণ্ডে "পৌরনীতি ও নাগরিকতার" বিষয়বস্তুর যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

করিম মিয়ার কর্মকান্ডে পৌরনীতি ও নাগরিকতার বিষয়বস্তু 'নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য' দিকটি ফুটে উঠেছে। পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় পৌরনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় অথবা নাগরিকতার অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের আলোচনার বিষয়বস্তু। উদ্দীপকে গ্রামের কেউ করিম মিয়াকে বসবাস করতে বাধা দেয় না। সে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সে সততার সাথে ভোট দেয়। নিয়মিত কর প্রদান করে। করিম মিয়া সম্পর্কিত এসব তথ্যাবলি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যকে উপস্থাপন করে, যা পৌরনীতি ও নাগরিকতার অন্যতম বিষয়বস্তু। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ভোগ করি, তেমনি আমাদেরকেও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা, সন্তানদের শিক্ষিত করা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোটদান ইত্যাদি। আলোচনা শেষে বলা যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা'র বিষয়বস্তু। তাছাড়া সুনাগরিকতার বৈশিষ্ট্য, সুনাগরিকতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করার উপায় 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্ত্রী ও এক সন্তানের সাথে রহিম মিয়া গ্রামে বাস করে। করিম মিয়া তার প্রতিবেশি। গ্রামের কেউ করিম মিয়াকে বসবাস করতে বাধা দেয় না। সে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সে সততার সাথে ভোট দেয়। নিয়মিত কর প্রদান করে।

Mymensingh · 2023

ক
সমাজ কাকে বলে?

উত্তর

সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একদল জনগোষ্ঠী যখন সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে তখন তাকে সমাজ বলে।
খ
মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর

বংশ গণনা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিবারের যে দুটি ধরন রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মায়ের বংশপরিচয়ে সন্তানরা পরিচিত হয় এবং মা পরিবারের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া এ ধরনের পরিবারের মেয়েরাই শুধু সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। সাধারণত এরূপ পরিবারের স্বামী তার নিজ পরিবার ছেড়ে স্ত্রীর পরিবারভুক্ত হয়ে বসবাস করে। বাংলাদেশের গারোদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যায়।
গ
রহিম মিয়ার পরিবারটির ধরন ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

রহিম মিয়ার পরিবারটির ধরন হলো একক পরিবার। পারিবারিক গঠন কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবারের দুটি রূপ পরিলক্ষিত হয়। যথা একক পরিবার ও যৌথ পরিবার। যে পরিবার এক পুরুষে আবদ্ধ অর্থাৎ পিতার অধীনে তার স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানাদি বাস করে তাকে একক পরিবার বলা হয়। একক পরিবার একটি ক্ষুদ্র পরিবার। উদ্দীপকের রহিম মিয়া স্ত্রী ও এক সন্তানের সাথে গ্রামে বাস করেন। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, রহিম মিয়ার পরিবারটি একটি একক পরিবার। কারণ তার পরিবারে সে তার স্ত্রী এবং তার অবিবাহিত সন্তান বাস করে। এরূপ একক পরিবার আকারে ক্ষুদ্র হয় বলে এরূপ পরিবারকে অনু পরিবারও বলা হয়। দিন দিন এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ
করিম মিয়ার কর্মকাণ্ডে "পৌরনীতি ও নাগরিকতার" বিষয়বস্তুর যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

করিম মিয়ার কর্মকান্ডে পৌরনীতি ও নাগরিকতার বিষয়বস্তু 'নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য' দিকটি ফুটে উঠেছে। পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় পৌরনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় অথবা নাগরিকতার অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের আলোচনার বিষয়বস্তু। উদ্দীপকে গ্রামের কেউ করিম মিয়াকে বসবাস করতে বাধা দেয় না। সে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সে সততার সাথে ভোট দেয়। নিয়মিত কর প্রদান করে। করিম মিয়া সম্পর্কিত এসব তথ্যাবলি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যকে উপস্থাপন করে, যা পৌরনীতি ও নাগরিকতার অন্যতম বিষয়বস্তু। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ভোগ করি, তেমনি আমাদেরকেও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা, সন্তানদের শিক্ষিত করা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোটদান ইত্যাদি। আলোচনা শেষে বলা যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা'র বিষয়বস্তু। তাছাড়া সুনাগরিকতার বৈশিষ্ট্য, সুনাগরিকতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করার উপায় 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাকিব বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেছে। পড়ালেখা শেষ করে সে যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিবাহ করে বসবাস করছে। মেরিনার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

Mymensingh · 2023

ক
তথ্য অধিকার কী?

উত্তর

তথ্য অধিকার অর্থ কোনো কিছু সম্পর্কে জানার অধিকার।
খ
নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নাগরিকতা হচ্ছে নাগরিকের গুণ বা মর্যাদা। পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিক ও নাগরিকতা বিষয়ক আলোচনাই পৌরনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করে এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত সব সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে, তাকেই নাগরিক বলা হয়। আর নাগরিকরা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের দেয়া যে মর্যাদা লাভ করে, পৌরনীতিতে তাকেই নাগরিকত্ব বা নাগরিকতা বলে।
গ
মেরিনা কোন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মেরিনা জন্মনীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করেছে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা লাভের দুটি নীতি প্রচলিত আছে। এর একটি হলো জন্মনীতি ও অন্যটি জন্মস্থান নীতি। জন্মনীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে শিশু যে দেশে বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতা যে দেশের নাগরিক তাদের সন্তানও সেই দেশের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- বাংলাদেশের কোনো দম্পতি যুক্তরাজ্যে গিয়ে সন্তান জন্ম দিলে জন্মনীতি অনুসারে ঐ সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করবে। কারণ তার পিতা-মাতা বাংলাদেশের নাগরিক। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মেরিনার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এক্ষেত্রে মেরিনার নাগরিকতা তার বাবা-মার নাগরিকতা দ্বারা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ জন্মনীতি অনুযায়ী কোনো সন্তানের নাগরিকতা তার পিতামাতার নাগরিকতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও জন্মনীতি অনুযায়ী নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। সে হিসেবে মেরিনা জন্মনীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ঘ
'রাকিব দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে।"- বক্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

রাকিব দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে। মন্তব্যটি যথার্থ। কোনো ব্যক্তির একই সাথে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়াকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হয়। যেমন- বাংলাদেশে নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্মনীতি ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। ফলে বাংলাদেশি পিতামাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিক। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাকিব বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে। পড়ালেখা শেষ করে সে যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিবাহ করে বসবাস করছে। এখানে রাকিব জন্মনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক। আবার যেহেতু সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেছে সে হিসেবে সে অনুমোদন সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করতে পারে। কেননা অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা লাভের জন্য যেসকল শর্ত পূরণ করতে হয় তার মধ্যে একটি হলো ঐ রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে বিয়ে করা। রাকিবও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিয়ে করে সেই শর্ত পূরণ করেছে। তাই সে আবেদন করার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করতে পারে। তখন তার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ সে একই সাথে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, রাকিবের ক্ষেত্রে জন্মনীতি ও অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা লাভের সুযোগ বিদ্যমান বিধায় সে দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাকিব বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেছে। পড়ালেখা শেষ করে সে যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিবাহ করে বসবাস করছে। মেরিনার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

Mymensingh · 2023

ক
তথ্য অধিকার কী?

উত্তর

তথ্য অধিকার অর্থ কোনো কিছু সম্পর্কে জানার অধিকার।
খ
নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নাগরিকতা হচ্ছে নাগরিকের গুণ বা মর্যাদা। পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিক ও নাগরিকতা বিষয়ক আলোচনাই পৌরনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করে এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত সব সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে, তাকেই নাগরিক বলা হয়। আর নাগরিকরা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের দেয়া যে মর্যাদা লাভ করে, পৌরনীতিতে তাকেই নাগরিকত্ব বা নাগরিকতা বলে।
গ
মেরিনা কোন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মেরিনা জন্মনীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করেছে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা লাভের দুটি নীতি প্রচলিত আছে। এর একটি হলো জন্মনীতি ও অন্যটি জন্মস্থান নীতি। জন্মনীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে শিশু যে দেশে বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতা যে দেশের নাগরিক তাদের সন্তানও সেই দেশের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- বাংলাদেশের কোনো দম্পতি যুক্তরাজ্যে গিয়ে সন্তান জন্ম দিলে জন্মনীতি অনুসারে ঐ সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করবে। কারণ তার পিতা-মাতা বাংলাদেশের নাগরিক। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মেরিনার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এক্ষেত্রে মেরিনার নাগরিকতা তার বাবা-মার নাগরিকতা দ্বারা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ জন্মনীতি অনুযায়ী কোনো সন্তানের নাগরিকতা তার পিতামাতার নাগরিকতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও জন্মনীতি অনুযায়ী নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। সে হিসেবে মেরিনা জন্মনীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ঘ
'রাকিব দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে।"- বক্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

রাকিব দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে। মন্তব্যটি যথার্থ। কোনো ব্যক্তির একই সাথে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়াকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হয়। যেমন- বাংলাদেশে নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্মনীতি ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। ফলে বাংলাদেশি পিতামাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিক। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাকিব বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে। পড়ালেখা শেষ করে সে যুক্তরাষ্ট্রে যায় এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিবাহ করে বসবাস করছে। এখানে রাকিব জন্মনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক। আবার যেহেতু সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেছে সে হিসেবে সে অনুমোদন সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করতে পারে। কেননা অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা লাভের জন্য যেসকল শর্ত পূরণ করতে হয় তার মধ্যে একটি হলো ঐ রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে বিয়ে করা। রাকিবও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মেরিনাকে বিয়ে করে সেই শর্ত পূরণ করেছে। তাই সে আবেদন করার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করতে পারে। তখন তার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ সে একই সাথে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, রাকিবের ক্ষেত্রে জন্মনীতি ও অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা লাভের সুযোগ বিদ্যমান বিধায় সে দ্বৈত নাগরিকতা লাভ করতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব তানিম জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি তার স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র রুমনকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তাদের একটি কন্যা সন্তান জেলির জন্ম হয়। পরবর্তীতে জনাব তানিম তার স্ত্রী কন্যা জেলি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে। কিন্তু রুমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে পরিবারটি বাংলাদেশে বসবাস করে।

Dinajpur · 2023

ক
কানাডায় কোন নীতির ভিত্তিতে নাগরিকতা অর্জিত হয়?

উত্তর

কানাডায় অনুমোদনসূত্রে ও জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জিত হয়।
খ
বুদ্ধিমান নাগরিককে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?

উত্তর

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে বিধায় বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। সুনাগরিকের বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা। তাই বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকের যথাযথ শিক্ষাদানের মাধ্যমে বুদ্ধিমান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
গ
জনাব তানিম, তার স্ত্রী ও জেলি কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করল?

উত্তর

জনাব তানিম ও তার স্ত্রী অনুমোদন সূত্রে এবং তাদের কন্যা জেলী জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করল। সারাবিশ্বে নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। একটি হলো অনুমোদন সূত্রে এবং অন্যটি হলো জন্মসূত্রে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি প্রচলিত আছে। এর একটি হলো জন্মনীতি ও অন্যটি হলো জন্মস্থান নীতি। জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- কোনো বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে, সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে কতকগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। সাধারণত অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো (১) সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, (২) সরকারি চাকরি করা, (৩) সততার পরিচয় দেওয়া, (৪) সে দেশের ভাষা জানা, (৫) সম্পত্তি ক্রয় করা, (৬) দীর্ঘদিন বসবাস করা, (৭) সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত ভিন্ন হতে পারে। উদ্দীপকের তানিম ও তার স্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এক্ষেত্রে তাদের নাগরিকতা লাভের একমাত্র উপায় হলো অনুমোদনের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তাদের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা লাভের এক বা একাধিক শর্ত পালন করতে হয়েছে। অন্যদিকে তাদের সন্তান জেলীর জন্ম হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী জেলী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি ও জন্মস্থানীতি উভয়ই অনুসরণ করে।
ঘ
উদ্দীপকের রুমন ও জেলির নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের রুমন ও জেলীর নাগরিকতার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। নাগরিকতা হলো একটি রাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তির নাগরিক মর্যাদা। কোনো ব্যক্তি যখন একটি রাষ্ট্রের সব ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারে তখন তার নাগরিকতা প্রকাশ পায়। নাগরিকতার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির বৈধভাবে এবং শর্তহীনভাবে ঐ দেশে বসবাসের অনুমোদন লাভ। উদ্দীপকের রুমনের জন্ম বাংলাদেশে আর তার বোন জেলীর জন্ম হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই তাদের নাগরিকতার মধ্যে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। রুমনের জন্ম যেহেতু বাংলাদেশে, সে হিসেবে সে বাংলাদেশের নাগরিক। সে বাংলাদেশের সকল অধিকার ভোগ করতে পারবে। আর যখন সে তার বাবার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করবে তখন সে একজন বিদেশি হিসেবেই সে দেশে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে সে তার নাগরিক পরিচয় পাবে না। অন্যদিকে তার বোন একই সাথে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কারণ তার বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব দ্বারা সে বাংলাদেশের নাগরিক আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করাই সে ঐ দেশেরও নাগরিক। সে হিসেবে তার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সৃষ্টি হবে। সে একই সাথে দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে তাকে যেকোনো একটি দেশের নাগরিকতা বেছে নিতে হয়। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, একই পিতামাতার সহোদর হলেও জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকাই রুমন ও জেলীর নাগরিকতার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব তানিম জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি তার স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র রুমনকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তাদের একটি কন্যা সন্তান জেলির জন্ম হয়। পরবর্তীতে জনাব তানিম তার স্ত্রী কন্যা জেলি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে। কিন্তু রুমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে পরিবারটি বাংলাদেশে বসবাস করে।

Dinajpur · 2023

ক
কানাডায় কোন নীতির ভিত্তিতে নাগরিকতা অর্জিত হয়?

উত্তর

কানাডায় অনুমোদনসূত্রে ও জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জিত হয়।
খ
বুদ্ধিমান নাগরিককে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?

উত্তর

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে বিধায় বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। সুনাগরিকের বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা। তাই বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকের যথাযথ শিক্ষাদানের মাধ্যমে বুদ্ধিমান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
গ
জনাব তানিম, তার স্ত্রী ও জেলি কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করল?

উত্তর

জনাব তানিম ও তার স্ত্রী অনুমোদন সূত্রে এবং তাদের কন্যা জেলী জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করল। সারাবিশ্বে নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। একটি হলো অনুমোদন সূত্রে এবং অন্যটি হলো জন্মসূত্রে। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি প্রচলিত আছে। এর একটি হলো জন্মনীতি ও অন্যটি হলো জন্মস্থান নীতি। জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন- কোনো বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে, সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে কতকগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয়। সাধারণত অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো (১) সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, (২) সরকারি চাকরি করা, (৩) সততার পরিচয় দেওয়া, (৪) সে দেশের ভাষা জানা, (৫) সম্পত্তি ক্রয় করা, (৬) দীর্ঘদিন বসবাস করা, (৭) সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত ভিন্ন হতে পারে। উদ্দীপকের তানিম ও তার স্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এক্ষেত্রে তাদের নাগরিকতা লাভের একমাত্র উপায় হলো অনুমোদনের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তাদের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা লাভের এক বা একাধিক শর্ত পালন করতে হয়েছে। অন্যদিকে তাদের সন্তান জেলীর জন্ম হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী জেলী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি ও জন্মস্থানীতি উভয়ই অনুসরণ করে।
ঘ
উদ্দীপকের রুমন ও জেলির নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের রুমন ও জেলীর নাগরিকতার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। নাগরিকতা হলো একটি রাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তির নাগরিক মর্যাদা। কোনো ব্যক্তি যখন একটি রাষ্ট্রের সব ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারে তখন তার নাগরিকতা প্রকাশ পায়। নাগরিকতার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির বৈধভাবে এবং শর্তহীনভাবে ঐ দেশে বসবাসের অনুমোদন লাভ। উদ্দীপকের রুমনের জন্ম বাংলাদেশে আর তার বোন জেলীর জন্ম হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই তাদের নাগরিকতার মধ্যে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। রুমনের জন্ম যেহেতু বাংলাদেশে, সে হিসেবে সে বাংলাদেশের নাগরিক। সে বাংলাদেশের সকল অধিকার ভোগ করতে পারবে। আর যখন সে তার বাবার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করবে তখন সে একজন বিদেশি হিসেবেই সে দেশে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে সে তার নাগরিক পরিচয় পাবে না। অন্যদিকে তার বোন একই সাথে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কারণ তার বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব দ্বারা সে বাংলাদেশের নাগরিক আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করাই সে ঐ দেশেরও নাগরিক। সে হিসেবে তার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সৃষ্টি হবে। সে একই সাথে দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে তাকে যেকোনো একটি দেশের নাগরিকতা বেছে নিতে হয়। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, একই পিতামাতার সহোদর হলেও জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকাই রুমন ও জেলীর নাগরিকতার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো