পাঠ্যসূচি বহির্ভূত বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর পাঠ্যসূচি বহির্ভূত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৮৩২

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক-বাহিনী শহর ছাড়াও ঘাঁটি বাঁধে বাংলার অসংখ্য গ্রাম-গঞ্জে। গণহত্যা, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া, লুটতরাজ আর অসহায় নারীদের উপর চালায় অকথ্য নির্যাতন। এ বিষয়টি গভীরভাবে নাড়া দেয় বিরামপুরের কিশোর জয়নালকে। সে সুযোগ খোঁজে প্রতিশোধের। একসময় সেই সুযোগ মিলেও যায়। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়া সেই গ্রামেরই ছেলে জলিল তাকে মাইন পোঁতার জন্য প্রস্তাব দেয়। জয়নাল তীব্র ঘৃণায় হানাদার বাহিনীর আস্তানার কাছে গোপনে মাইন পুঁতে দেয়। দিনের শেষে পাকিস্তানি হানাদারেরা আস্তানায় ফিরলে বিকট শব্দে মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। মুক্তির আনন্দে জয়নাল আত্মহারা হয়ে যায়।

Mymensingh · 2020

ক
বুধা রাজাকার কমান্ডারের বাড়িতে আগুন ধরিয়েছিল কেন?

উত্তর

বুধা রাজাকার কমান্ডাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়েছিল প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
খ
হরিকাকুরা গাঁ ছেড়ে চলে যাবে শুনে বুধা কষ্ট পেয়েছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

হরিকাকুরা গাঁ ছেড়ে চলে যাবে শুনে বুধা কষ্ট পেয়েছিল হরিকাকুর আদর মেশানো 'মানিকরতন' ডাক শুনতে পাবে না বলে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা তার মা-বাবা, ভাই-বোনদের চিরতরে হারিয়ে একা হয়ে যায়। এতিম বুধাকে গ্রামের সবাই ভালোবাসে, স্নেহভরে নানা নামে ডাকে। হরিকাকু তাকে অতি স্নেহে মানিকরতন বলে ডাকে। দেশে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে গ্রামের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে পালাতে থাকে। হরিকাকুও নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার আয়োজন করে। তার গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা শুনে বুধার কষ্ট লাগে। চলে যাওয়ার সময় বুধা হারিকাকুর বোঝা নিজে বহন করে তাকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেয়।
গ
উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যে উপন্যাসের বুধা চরিত্রটির কীরূপ সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যে উপন্যাসের বুধা চরিত্রের সাহসী ও প্রতিশোধস্পৃহার সাদৃশ্য বিদ্যমান। • ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। • উদ্দীপকে বিরামপুর গ্রামে পাকিস্তানিদের ঘাঁটি স্থাপন, গ্রামের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। তাদের এই অন্যায়-অত্যাচারের বিষয়টি ঐ গ্রামের কিশোর. জয়নালকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জয়নাল সব দেখেশুনে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার এই চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বুধাও মিলিটারিদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ দেখে প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। রাজাকার আহাদ মুন্সির ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারি ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকের জয়নালও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের আস্তানায় মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং সেই কাজে সফল হয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকের জয়নালের আনন্দে আত্মহারা হওয়া 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একটি সামগ্রিক চিত্রপট।”- এর সপক্ষে যুক্তিসহ মতামত দাও।

উত্তর

“উদ্দীপকের জয়নালের আনন্দে আত্মহারা হওয়া 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একটি সামগ্রিক চিত্রপট।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাঙালিরা প্রতিবাদী। তারা কখনই শত্রুর শাসন-শোষণ, অত্যাচার-নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেনি। তারা যথাসময়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা এক এতিম কিশোর। শৈশবে সে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়লেও ভীরু নয়। মিলিটারির হাত থেকে বাঁচার জন্য গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেলেও সে যায় না। গ্রামে মিলিটারি ঢুকে বাজারে আগুন দিলে বুধা সেখানে আগুন নিভাতে ছুটে যায়। পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশোধ নিতে বুধা আহাদ মুন্সির ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। কানু দয়ালের বাড়িতে রেডিওতে ভাষণ শুনে নিজেকে 'জয় বাংলা' বলে পরিচয় দেয়। মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে মিলিটারি ক্যাম্পে গিয়ে রেকি করে। বুধা কৌশলে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারিদের ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে নৌকার পাটাতনে পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে। উপন্যাসের এসব বিষয় উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। জয়নালও সাহসী কিশোর। সে পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা জলিলের পরামর্শে পাকসেনাদের আস্তানার কাছে গোপনে মাইন পুঁতে এসেছে এবং যথাসময়ে তা বিস্ফোরিত হলে আনন্দে আত্মহারা হয়েছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার মধ্যে যে সাহস ও দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তারা উভয়েই পাকিস্তানি হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গেরিলা আক্রমণ করেছে এবং সেই আক্রমণে জয়লাভ করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক-বাহিনী শহর ছাড়াও ঘাঁটি বাঁধে বাংলার অসংখ্য গ্রাম-গঞ্জে। গণহত্যা, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া, লুটতরাজ আর অসহায় নারীদের উপর চালায় অকথ্য নির্যাতন। এ বিষয়টি গভীরভাবে নাড়া দেয় বিরামপুরের কিশোর জয়নালকে। সে সুযোগ খোঁজে প্রতিশোধের। একসময় সেই সুযোগ মিলেও যায়। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়া সেই গ্রামেরই ছেলে জলিল তাকে মাইন পোঁতার জন্য প্রস্তাব দেয়। জয়নাল তীব্র ঘৃণায় হানাদার বাহিনীর আস্তানার কাছে গোপনে মাইন পুঁতে দেয়। দিনের শেষে পাকিস্তানি হানাদারেরা আস্তানায় ফিরলে বিকট শব্দে মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। মুক্তির আনন্দে জয়নাল আত্মহারা হয়ে যায়।

Mymensingh · 2020

ক
বুধা রাজাকার কমান্ডারের বাড়িতে আগুন ধরিয়েছিল কেন?

উত্তর

বুধা রাজাকার কমান্ডাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়েছিল প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
খ
হরিকাকুরা গাঁ ছেড়ে চলে যাবে শুনে বুধা কষ্ট পেয়েছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

হরিকাকুরা গাঁ ছেড়ে চলে যাবে শুনে বুধা কষ্ট পেয়েছিল হরিকাকুর আদর মেশানো 'মানিকরতন' ডাক শুনতে পাবে না বলে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা তার মা-বাবা, ভাই-বোনদের চিরতরে হারিয়ে একা হয়ে যায়। এতিম বুধাকে গ্রামের সবাই ভালোবাসে, স্নেহভরে নানা নামে ডাকে। হরিকাকু তাকে অতি স্নেহে মানিকরতন বলে ডাকে। দেশে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে গ্রামের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে পালাতে থাকে। হরিকাকুও নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার আয়োজন করে। তার গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা শুনে বুধার কষ্ট লাগে। চলে যাওয়ার সময় বুধা হারিকাকুর বোঝা নিজে বহন করে তাকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেয়।
গ
উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যে উপন্যাসের বুধা চরিত্রটির কীরূপ সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যে উপন্যাসের বুধা চরিত্রের সাহসী ও প্রতিশোধস্পৃহার সাদৃশ্য বিদ্যমান। • ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। • উদ্দীপকে বিরামপুর গ্রামে পাকিস্তানিদের ঘাঁটি স্থাপন, গ্রামের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। তাদের এই অন্যায়-অত্যাচারের বিষয়টি ঐ গ্রামের কিশোর. জয়নালকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জয়নাল সব দেখেশুনে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তার এই চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বুধাও মিলিটারিদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ দেখে প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। রাজাকার আহাদ মুন্সির ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারি ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকের জয়নালও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের আস্তানায় মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং সেই কাজে সফল হয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকের জয়নালের আনন্দে আত্মহারা হওয়া 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একটি সামগ্রিক চিত্রপট।”- এর সপক্ষে যুক্তিসহ মতামত দাও।

উত্তর

“উদ্দীপকের জয়নালের আনন্দে আত্মহারা হওয়া 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একটি সামগ্রিক চিত্রপট।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাঙালিরা প্রতিবাদী। তারা কখনই শত্রুর শাসন-শোষণ, অত্যাচার-নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেনি। তারা যথাসময়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা এক এতিম কিশোর। শৈশবে সে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়লেও ভীরু নয়। মিলিটারির হাত থেকে বাঁচার জন্য গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেলেও সে যায় না। গ্রামে মিলিটারি ঢুকে বাজারে আগুন দিলে বুধা সেখানে আগুন নিভাতে ছুটে যায়। পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশোধ নিতে বুধা আহাদ মুন্সির ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। কানু দয়ালের বাড়িতে রেডিওতে ভাষণ শুনে নিজেকে 'জয় বাংলা' বলে পরিচয় দেয়। মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে মিলিটারি ক্যাম্পে গিয়ে রেকি করে। বুধা কৌশলে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে মিলিটারিদের ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে নৌকার পাটাতনে পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে। উপন্যাসের এসব বিষয় উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। জয়নালও সাহসী কিশোর। সে পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা জলিলের পরামর্শে পাকসেনাদের আস্তানার কাছে গোপনে মাইন পুঁতে এসেছে এবং যথাসময়ে তা বিস্ফোরিত হলে আনন্দে আত্মহারা হয়েছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার মধ্যে যে সাহস ও দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের জয়নালের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তারা উভয়েই পাকিস্তানি হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গেরিলা আক্রমণ করেছে এবং সেই আক্রমণে জয়লাভ করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

গ্রামের নাম কমলা দিঘী। শান্ত, পরিপাটি ও আনন্দমুখর পরিবেশ। হঠাৎ একদিন বিকট শব্দে আঁতকে ওঠে গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে মুখোশধারী কিছু লোক চলে যায় বুটের শব্দের আওয়াজ তুলে। ছিন্ন-ভিন্ন গ্রামের এক কুটির থেকে একটি আর্তনাদ- এরা আমাদের পরিচিতজন নয়, এরা সবাই লুটেরা। এই আর্তনাদের কঠিন জবাব দেয় গ্রামেরই এক অল্পবয়সী ছেলে আজাদ। সে বলে, এই লুটেরাদের দেশছাড়া করব, নয়তো মরব।

Mymensingh · 2020

ক
বুধার দৃষ্টিতে লোহার টুপি পরা মানুষেরা কী করে?

উত্তর

বুধার দৃষ্টিতে লোহার টুপি পরা মানুষেরা গুলি করে মানুষ হত্যা করে।
খ
বুধার চাচি কেমন স্বভাবের মহিলা ছিলেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

বুধার চাচি আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের মহিলা ছিলেন। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে মা-বাবা ও চার ভাই-বোনের মৃত্যুর পর বুধা চাচার আশ্রয় লাভ করে। সেখানে তার চাচি তাকে সাদরে গ্রহণ করে না। অভাবের সংসারের বুধাকে বোঝা মনে করে। মরিচ পুড়িয়ে পান্তা খেতে দিয়ে সে বুধাকে বলেছে- 'পরের ছেলের বোঝা টানতে পারি না বাপু।' তার কথায় বুধা চুপ থাকলে সে তাকে ধমক দিয়েছে। আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হলেও বুধার চাচি অমানবিক ছিল না।
গ
উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের যে দিকটির ইঙ্গিত বহন করে তার ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধাদের গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ এবং তাদের বিরুদ্ধে বুধার প্রতিশোধ নেওয়ার দিকটির ইঙ্গিত করে।' • ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। তারা সারা দেশে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের অন্যায়ের সমুচিত জবাব দেয়। • উদ্দীপকে কমলা দিঘী গ্রামের আনন্দমুখর পরিবেশে মুখোশধারী কিছু লোকের আক্রমণ এবং সেই লুটেরাদের দেশছাড়া করার জন্য এক অল্পবয়সী ছেলের প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে। এখানে ঐ গ্রামের ছেলে আজাদ নিজের জীবন দিয়ে হলেও তার গ্রামের মানুষের ওপর আক্রমণকারী মুখোশধারী লুটেরাদের শাস্তি দিতে চেয়েছে। তার এই প্রতিশোধস্পৃহা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে প্রতিফলিত পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিশোর বুধার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করার কারণে বুধা আহাদ মুন্সির ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে গেরিলা যুদ্ধ করে। বাঙ্কারে মাইন পুঁতে পাকিস্তানি মিলিটারি ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয়।
ঘ
“উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধারই প্রতিধ্বনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

”উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধারই প্রতিধ্বনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। যুগে যুগে বহু অপশক্তির বিরুদ্ধে বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেছে। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে কিশোর বুধার গভীর দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। পাকিস্তানি মিলিটারির অত্যাচার-নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার জন্য গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেলেও বুধা তার গ্রামেই রয়ে যায়। গ্রামের বাজারে মিলিটারি আগুন দিয়ে, গুলি করে মানুষ হত্যা করে। তা দেখে বুধা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। মিলিটারি ও তাদের দোসরদের শাস্তি দিতে বুধার চোখ লাল হয়ে ওঠে। বুধার এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা একসূত্রে গাঁথা। কারণ কমলাদিঘী গ্রামের আনন্দময় পরিবেশে যারা তাণ্ডব চালিয়েছে আজাদ তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছে। সেও বুধার মতো শত্রুকে দেশছাড়া করতে চেয়েছে। • উদ্দীপকে মুখোশধারীরা আজাদের গ্রামে ঢুকে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রামের শান্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ নষ্ট করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসেও গুলি ছুড়তে ছুড়তে মিলিটারিরা বুধাদের গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে, আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। উভয় ক্ষেত্রে অন্যায়ের প্রতিবাদে বুধা এবং আজাদের অভিন্ন প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

গ্রামের নাম কমলা দিঘী। শান্ত, পরিপাটি ও আনন্দমুখর পরিবেশ। হঠাৎ একদিন বিকট শব্দে আঁতকে ওঠে গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে মুখোশধারী কিছু লোক চলে যায় বুটের শব্দের আওয়াজ তুলে। ছিন্ন-ভিন্ন গ্রামের এক কুটির থেকে একটি আর্তনাদ- এরা আমাদের পরিচিতজন নয়, এরা সবাই লুটেরা। এই আর্তনাদের কঠিন জবাব দেয় গ্রামেরই এক অল্পবয়সী ছেলে আজাদ। সে বলে, এই লুটেরাদের দেশছাড়া করব, নয়তো মরব।

Mymensingh · 2020

ক
বুধার দৃষ্টিতে লোহার টুপি পরা মানুষেরা কী করে?

উত্তর

বুধার দৃষ্টিতে লোহার টুপি পরা মানুষেরা গুলি করে মানুষ হত্যা করে।
খ
বুধার চাচি কেমন স্বভাবের মহিলা ছিলেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

বুধার চাচি আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের মহিলা ছিলেন। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে মা-বাবা ও চার ভাই-বোনের মৃত্যুর পর বুধা চাচার আশ্রয় লাভ করে। সেখানে তার চাচি তাকে সাদরে গ্রহণ করে না। অভাবের সংসারের বুধাকে বোঝা মনে করে। মরিচ পুড়িয়ে পান্তা খেতে দিয়ে সে বুধাকে বলেছে- 'পরের ছেলের বোঝা টানতে পারি না বাপু।' তার কথায় বুধা চুপ থাকলে সে তাকে ধমক দিয়েছে। আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হলেও বুধার চাচি অমানবিক ছিল না।
গ
উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের যে দিকটির ইঙ্গিত বহন করে তার ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধাদের গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ এবং তাদের বিরুদ্ধে বুধার প্রতিশোধ নেওয়ার দিকটির ইঙ্গিত করে।' • ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। তারা সারা দেশে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের অন্যায়ের সমুচিত জবাব দেয়। • উদ্দীপকে কমলা দিঘী গ্রামের আনন্দমুখর পরিবেশে মুখোশধারী কিছু লোকের আক্রমণ এবং সেই লুটেরাদের দেশছাড়া করার জন্য এক অল্পবয়সী ছেলের প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে। এখানে ঐ গ্রামের ছেলে আজাদ নিজের জীবন দিয়ে হলেও তার গ্রামের মানুষের ওপর আক্রমণকারী মুখোশধারী লুটেরাদের শাস্তি দিতে চেয়েছে। তার এই প্রতিশোধস্পৃহা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে প্রতিফলিত পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিশোর বুধার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করার কারণে বুধা আহাদ মুন্সির ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিনের পরামর্শে গেরিলা যুদ্ধ করে। বাঙ্কারে মাইন পুঁতে পাকিস্তানি মিলিটারি ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয়।
ঘ
“উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধারই প্রতিধ্বনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

”উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধারই প্রতিধ্বনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। যুগে যুগে বহু অপশক্তির বিরুদ্ধে বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেছে। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। • 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে কিশোর বুধার গভীর দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। পাকিস্তানি মিলিটারির অত্যাচার-নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার জন্য গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেলেও বুধা তার গ্রামেই রয়ে যায়। গ্রামের বাজারে মিলিটারি আগুন দিয়ে, গুলি করে মানুষ হত্যা করে। তা দেখে বুধা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। মিলিটারি ও তাদের দোসরদের শাস্তি দিতে বুধার চোখ লাল হয়ে ওঠে। বুধার এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের প্রতিবাদী চেতনা একসূত্রে গাঁথা। কারণ কমলাদিঘী গ্রামের আনন্দময় পরিবেশে যারা তাণ্ডব চালিয়েছে আজাদ তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছে। সেও বুধার মতো শত্রুকে দেশছাড়া করতে চেয়েছে। • উদ্দীপকে মুখোশধারীরা আজাদের গ্রামে ঢুকে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রামের শান্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ নষ্ট করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসেও গুলি ছুড়তে ছুড়তে মিলিটারিরা বুধাদের গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে, আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। উভয় ক্ষেত্রে অন্যায়ের প্রতিবাদে বুধা এবং আজাদের অভিন্ন প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলা নববর্ষ বাঙালির গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বাংলা সন কে কবে প্রচলন করেছিলেন এ নিয়ে মতান্তর থাকলেও ধরে নেওয়া হয় সম্রাট আকবরের সময় এই সনের গণনা আরম্ভ হয়। নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষ এই উৎসবকে প্রাণে ধারণ করেছে। আজকের বাংলাদেশ যে স্বাধীন হতে পেরেছে, তার পেছনেও নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণা কাজ করে। কারণ, পাকিস্তানিরা বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে নস্যাৎ করার জন্য তীব্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালিরা।

Mymensingh · 2020

ক
'শভিনিস্টিক' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'শভিনিস্টিক' শব্দের অর্থ আত্মগৌরব মতবাদী।
খ
“সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

• “সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।”- উক্তিটি দ্বারা প্রাচীন কৃষি সমাজের শীতকালীন নির্জীবতার পর নবজীবনের আবির্ভাবের ধারণার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের বিষয়টির সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়েছে। • কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের ধারণা তৈরি হয়। কালের পথ পরিক্রমায় এর উদ্যাপন রীতিতে নানা পালাবদল ঘটেছে এবং এটি বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জন করেছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসব সব বাঙালির। এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক। আর এই কারণেই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত।
গ
'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবটি উদ্দীপকে কতটুকু লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবটি উদ্দীপকে প্রায় সবটুকুই লক্ষণীয়। • নববর্ষ সব দেশের সব জাতির আনন্দ উৎসবের দিন, সব মানুষের কল্যাণ কামনার দিন। বিশ্বের সব মানুষের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা করা হয় নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন অনুষ্ঠানে। বাঙালিরা, প্রতিবছর বাংলা প্রথম মাসের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে। • উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এই উৎসবের ঐতিহাসিকতা, সম্রাট আকবরের বাংলা সন গণনা, নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে। 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধেও লেখক এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই প্রবন্ধে পাকিস্তান আমলে বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপনে বাধা দেওয়া, উৎসব পালন করতে না দেওয়ার যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে সেই দিকটিও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, জাতি, পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উৎসব। বাঙালিরা মহা সমারোহে প্রতিবছর 'পয়লা বৈশাখ' বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে। এই দিনে একসঙ্গে সারা দেশ আনন্দে মেতে ওঠে। এই উৎসবে প্রত্যেকে একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সৌহার্দ প্রকাশ করে। উদ্দীপকে এই বিষয় প্রকাশ পায়নি। বাঙালিদের নববর্ষ উৎসবে পালনের বিরোধিতা করা এবং বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার প্রতিবাদ করার বিষয়টি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকে অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এসব কারণে তাই বলা যায়, 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের প্রায় পুরো বিষয়ই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতীয়তায় নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণাটি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের সাথে একাত্মতা, ঘোষণা করে।”- মন্তব্যটির যুক্তিপূর্ণ মূল্যায়ন কর।

উত্তর

“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতীয়তায় নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণাটি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত। কালের পথপরিক্রমায় এবং উদযাপনের রীতির পরিবর্তন ধারায় বাংলা নববর্ষ উৎসব, বর্তমানে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক। • উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের বর্তমান ও অতীত অবস্থা নির্দেশ করে এই উৎসবের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন কীভাবে ধীরে ধীরে পূর্ববাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের চেতনা 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে নববর্ষ উদ্যাপনে যে পালাবদলের কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ পালনের বর্তমান অবস্থাকে নির্দেশ করে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী অনুষঙ্গের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা যুক্ত হয়েছিল। তখন এই অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষ ধর্ম ও সম্প্রদায় নিরপেক্ষভাবে একটি প্রতিবাদী মনোভাব নিয়ে পরম উৎসাহে এই উৎসব পালন করে। • 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে লেখক বাংলা নববর্ষে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের বাইরে এসে মানুষ হিসেবে বাঙালিদের মধ্যে সবার সঙ্গে সবার বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। নববর্ষ উদযাপনের রীতিটি বাঙালির একান্ত নিজস্ব রীতি এবং তা ঐতিহ্যবাহী ও গৌরমণ্ডিত। এই উৎসব পালনে বাঙালি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়। শোভাযাত্রা, মেলা, হালখাতা, সংগীতানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও এসব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলা নববর্ষ বাঙালির গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বাংলা সন কে কবে প্রচলন করেছিলেন এ নিয়ে মতান্তর থাকলেও ধরে নেওয়া হয় সম্রাট আকবরের সময় এই সনের গণনা আরম্ভ হয়। নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষ এই উৎসবকে প্রাণে ধারণ করেছে। আজকের বাংলাদেশ যে স্বাধীন হতে পেরেছে, তার পেছনেও নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণা কাজ করে। কারণ, পাকিস্তানিরা বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে নস্যাৎ করার জন্য তীব্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালিরা।

Mymensingh · 2020

ক
'শভিনিস্টিক' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'শভিনিস্টিক' শব্দের অর্থ আত্মগৌরব মতবাদী।
খ
“সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

• “সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।”- উক্তিটি দ্বারা প্রাচীন কৃষি সমাজের শীতকালীন নির্জীবতার পর নবজীবনের আবির্ভাবের ধারণার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের বিষয়টির সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়েছে। • কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের ধারণা তৈরি হয়। কালের পথ পরিক্রমায় এর উদ্যাপন রীতিতে নানা পালাবদল ঘটেছে এবং এটি বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জন করেছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসব সব বাঙালির। এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক। আর এই কারণেই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত।
গ
'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবটি উদ্দীপকে কতটুকু লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবটি উদ্দীপকে প্রায় সবটুকুই লক্ষণীয়। • নববর্ষ সব দেশের সব জাতির আনন্দ উৎসবের দিন, সব মানুষের কল্যাণ কামনার দিন। বিশ্বের সব মানুষের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা করা হয় নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন অনুষ্ঠানে। বাঙালিরা, প্রতিবছর বাংলা প্রথম মাসের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে। • উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এই উৎসবের ঐতিহাসিকতা, সম্রাট আকবরের বাংলা সন গণনা, নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে। 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধেও লেখক এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই প্রবন্ধে পাকিস্তান আমলে বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপনে বাধা দেওয়া, উৎসব পালন করতে না দেওয়ার যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে সেই দিকটিও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, জাতি, পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উৎসব। বাঙালিরা মহা সমারোহে প্রতিবছর 'পয়লা বৈশাখ' বাংলা নববর্ষ উৎসব উদ্যাপন করে। এই দিনে একসঙ্গে সারা দেশ আনন্দে মেতে ওঠে। এই উৎসবে প্রত্যেকে একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সৌহার্দ প্রকাশ করে। উদ্দীপকে এই বিষয় প্রকাশ পায়নি। বাঙালিদের নববর্ষ উৎসবে পালনের বিরোধিতা করা এবং বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার প্রতিবাদ করার বিষয়টি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকে অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এসব কারণে তাই বলা যায়, 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের প্রায় পুরো বিষয়ই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতীয়তায় নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণাটি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের সাথে একাত্মতা, ঘোষণা করে।”- মন্তব্যটির যুক্তিপূর্ণ মূল্যায়ন কর।

উত্তর

“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতীয়তায় নববর্ষের সক্রিয় প্রেরণাটি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত। কালের পথপরিক্রমায় এবং উদযাপনের রীতির পরিবর্তন ধারায় বাংলা নববর্ষ উৎসব, বর্তমানে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। কৃষিনির্ভর এদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাদেশিকতারও ধারক। • উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ উৎসবের বর্তমান ও অতীত অবস্থা নির্দেশ করে এই উৎসবের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন কীভাবে ধীরে ধীরে পূর্ববাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের চেতনা 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে নববর্ষ উদ্যাপনে যে পালাবদলের কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষ পালনের বর্তমান অবস্থাকে নির্দেশ করে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী অনুষঙ্গের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা যুক্ত হয়েছিল। তখন এই অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষ ধর্ম ও সম্প্রদায় নিরপেক্ষভাবে একটি প্রতিবাদী মনোভাব নিয়ে পরম উৎসাহে এই উৎসব পালন করে। • 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে লেখক বাংলা নববর্ষে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের বাইরে এসে মানুষ হিসেবে বাঙালিদের মধ্যে সবার সঙ্গে সবার বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। নববর্ষ উদযাপনের রীতিটি বাঙালির একান্ত নিজস্ব রীতি এবং তা ঐতিহ্যবাহী ও গৌরমণ্ডিত। এই উৎসব পালনে বাঙালি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়। শোভাযাত্রা, মেলা, হালখাতা, সংগীতানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও এসব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো