Chapter 3 : মনোভাব Psychology 2nd Paper

HSC Psychology 2nd Paper এর Chapter 3 : মনোভাব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৮৬

প্রশ্ন

Psychology 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বললেন। রাখালের গল্পের ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী তার ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করলেন। দৃশ্যকল্প-২: তালুকদার এবং মজুমদার দুই বন্ধু ও সহকর্মী। তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। কিন্তু তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

Dhaka · 2025

প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা কী?

উত্তর

যে অভীক্ষায় ব্যক্তির কাছে একটি অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও অসংগঠিত উদ্দীপক উপস্থাপন করে তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়, সে ধরনের অভীক্ষাগুলোকে প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বলা হয়।
অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী কেন?

উত্তর

কার্ল ইয়ং ব্যক্তিত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ ইয়ং এর মতবাদ এর সাথে একমত নন। ব্যক্তিত্বকে তারা শুধু দুটি ভাগে ভাগ করতে রাজি নন। কারণ একই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব কখনো অন্তর্মুখী আবার কখনো বহির্মুখীও হতে পারে। যেমন- কেউ আত্মকেন্দ্রিক আবার সামাজিকও বটে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে বলা হয় উভয়মুখী ব্যক্তিত্ব। অর্ন্তমুখিতা ও বহির্মুখিতা সম্বন্ধীয় অভীক্ষা বহু লোকের উপর প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ লোক পরিমাপকের মাঝামাঝিতে পড়ে। তারা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্মুখীও নয় আবার বহির্মুখীও নয়। অর্থাৎ তারা উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এজন্য অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
দৃশ্যকল্প-১ এ, রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি হলো কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা। নিচে কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা ব্যাখ্যা করা হলো- ১৯৩৫ সালে আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ানা মরগান এবং এইচ. এ. মারে সর্বপ্রথম কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এ অভীক্ষা ২০টি কার্ড নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১৯ টি অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক এবং ১টি কার্ড ফাঁকা বা সাদা। পরীক্ষণপাত্রকে ১টি ছবিযুক্ত কার্ড দিয়ে সেটি অবলম্বন করে একটি গল্প রচনা করতে বলা হয়। গল্প লেখার ধারা হলো ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে, কী ঘটছে, ছবিতে লোকগুলো কী ভাবছে, কীভাবে কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল, এর পরিণতিই বা কী ইত্যাদি। পরীক্ষণপাত্র প্রত্যেকটি ছবি থেকে একটি করে গল্প লেখার পর তাকে সাদা কার্ডটি দেয়া হয়। পরীক্ষণপাত্রকে সাদা কার্ডে একটি ছবি বা চিত্র কল্পনা করে নিয়ে সে সম্পর্কে তাকে একটি গল্প লিখতে বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্বের নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবি বিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বলেন। তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের এ পদ্ধতিটি কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষাকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার এবং মজুমদারের ব্যক্তিত্বের ধরনের তুলনা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব এবং মজুমদার বহিঃমুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নিচে অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের তুলনা করা হলো- অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। বাইরের জগতের প্রতি এদের আকর্ষণ খুবই কম। এ জাতীয় লোকের বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব আত্মকেন্দ্রিক, বাহ্য বস্তুর প্রতি উদাসীন, আত্মসচেতন এবং স্বার্থপর। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তাশীল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়। অন্যদিকে, বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের বাইরের জগতের প্রতি রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। এরা অন্যের সঙ্গে মিশতে এবং প্রাণ খুলে আনন্দ প্রকাশে আগ্রহী। বাইরের জগতের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গৃহে বন্দী থাকতে এরা নারাজ। এরা খুবই সামাজিক এবং যেকোনো সামাজিক পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে এরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অর্থাৎ তালুকদার সাহেব অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং মজুমদার সাহেব একজন বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বললেন। রাখালের গল্পের ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী তার ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করলেন। দৃশ্যকল্প-২: তালুকদার এবং মজুমদার দুই বন্ধু ও সহকর্মী। তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। কিন্তু তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

Dhaka · 2025

প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা কী?

উত্তর

যে অভীক্ষায় ব্যক্তির কাছে একটি অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও অসংগঠিত উদ্দীপক উপস্থাপন করে তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়, সে ধরনের অভীক্ষাগুলোকে প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বলা হয়।
অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী কেন?

উত্তর

কার্ল ইয়ং ব্যক্তিত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ ইয়ং এর মতবাদ এর সাথে একমত নন। ব্যক্তিত্বকে তারা শুধু দুটি ভাগে ভাগ করতে রাজি নন। কারণ একই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব কখনো অন্তর্মুখী আবার কখনো বহির্মুখীও হতে পারে। যেমন- কেউ আত্মকেন্দ্রিক আবার সামাজিকও বটে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে বলা হয় উভয়মুখী ব্যক্তিত্ব। অর্ন্তমুখিতা ও বহির্মুখিতা সম্বন্ধীয় অভীক্ষা বহু লোকের উপর প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ লোক পরিমাপকের মাঝামাঝিতে পড়ে। তারা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্মুখীও নয় আবার বহির্মুখীও নয়। অর্থাৎ তারা উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এজন্য অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
দৃশ্যকল্প-১ এ, রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি হলো কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা। নিচে কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা ব্যাখ্যা করা হলো- ১৯৩৫ সালে আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ানা মরগান এবং এইচ. এ. মারে সর্বপ্রথম কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এ অভীক্ষা ২০টি কার্ড নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১৯ টি অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক এবং ১টি কার্ড ফাঁকা বা সাদা। পরীক্ষণপাত্রকে ১টি ছবিযুক্ত কার্ড দিয়ে সেটি অবলম্বন করে একটি গল্প রচনা করতে বলা হয়। গল্প লেখার ধারা হলো ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে, কী ঘটছে, ছবিতে লোকগুলো কী ভাবছে, কীভাবে কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল, এর পরিণতিই বা কী ইত্যাদি। পরীক্ষণপাত্র প্রত্যেকটি ছবি থেকে একটি করে গল্প লেখার পর তাকে সাদা কার্ডটি দেয়া হয়। পরীক্ষণপাত্রকে সাদা কার্ডে একটি ছবি বা চিত্র কল্পনা করে নিয়ে সে সম্পর্কে তাকে একটি গল্প লিখতে বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্বের নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবি বিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বলেন। তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের এ পদ্ধতিটি কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষাকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার এবং মজুমদারের ব্যক্তিত্বের ধরনের তুলনা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব এবং মজুমদার বহিঃমুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নিচে অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের তুলনা করা হলো- অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। বাইরের জগতের প্রতি এদের আকর্ষণ খুবই কম। এ জাতীয় লোকের বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব আত্মকেন্দ্রিক, বাহ্য বস্তুর প্রতি উদাসীন, আত্মসচেতন এবং স্বার্থপর। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তাশীল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়। অন্যদিকে, বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের বাইরের জগতের প্রতি রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। এরা অন্যের সঙ্গে মিশতে এবং প্রাণ খুলে আনন্দ প্রকাশে আগ্রহী। বাইরের জগতের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গৃহে বন্দী থাকতে এরা নারাজ। এরা খুবই সামাজিক এবং যেকোনো সামাজিক পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে এরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অর্থাৎ তালুকদার সাহেব অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং মজুমদার সাহেব একজন বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যক্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। দৃশ্যকল্প-২: question image

Dhaka · 2025

ব্যক্তিত্ব কী?

উত্তর

ক্রাইডার ও তার সহযোগীদের মতে, "ব্যক্তিত্বকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার অনবদ্য ধরন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যা ব্যক্তিকে এবং ব্যক্তির সাথে পরিবেশের সম্পর্ককে চিহ্নিত করে।"
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের প্রশ্নমালা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালা। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলির মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, অনুভূতি, উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযোগ, মূল্যবোধ, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণাবলি এই অভীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। ব্যক্তিত্ব নির্ণায়ক বহু সংখ্যক প্রশ্ন করার সমন্বয়ে এ অভীক্ষা গঠিত। সাধারণত হ্যাঁ-না বা সত্য-মিথ্যার সাহায্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি হলো সাক্ষাৎকার। নিচে সাক্ষাৎকার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সাক্ষাৎকার একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া যেতে পারে, যেমন- ১. পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে কি কি প্রশ্ন করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে এবং আলোচনার ধারা একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে অগ্রসর হয়। ২. অনির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এক্ষেত্রে আলোচনার গতি আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে না। অনির্ধারিত সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং উত্তরসমূহ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন। ৩. চাপ মুলক সাক্ষাৎকার: তীব্র চাপমূলক পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কী ধরনের আচরণ করে তার মূল্যায়নের জন্য চাপ মূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ৪. ক্লান্তিমূলক সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার প্রদানকারিকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে তাকে ব্যতিব্যস্ত এবং ক্লান্ত করা হয়। ব্যক্তি ক্লান্ত এবং অবসন্ন হলে তার মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ ভেঙে পড়বে এবং তার অসংগতিগুলো ধরা পড়বে
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের 'AA^{\prime} এবং 'CC^{\prime} এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের A এবং C যথাক্রমে The Id (আদিসত্ত্বা) এবং The Super Ego(অতি অহম) কে নির্দেশ করে। নিচে আদিসত্ত্বা ও অতি অহম-এর তুলনামূলক আলোচনা বিশ্লেষণ করা হলো- আদিসত্ত্বা: ফ্রয়েড এর মতে জন্মের সময় শিশুর ব্যক্তিত্বে থাকে শুধু সুখের জন্য অবচেতন ধারণা। যে কল্পিত মানসিক কাঠামোতে এই ধারণাসমূহ অবস্থান করে তার নাম দিয়েছেন আদিসত্ত্বা। আদিসত্ত্বা সবসময় সুখের জন্য তার ধারণাগুলোর তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি পেতে চেষ্টা করে। আদিসত্ত্বা সুখ ভোগের নীতি অনুসরণ করে। সে কোনো সামাজিক রীতি, নীতি বা শিক্ষার ধার ধারে না। ফ্রয়েডের মতে আদিসত্ত্বা যে সুখ ভোগ করে তা টেনশন অপসারণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফ্রয়েড দুটি পথের কথা নির্দেশ করেছেন যার মাধ্যমে আদিসত্ত্বা টেনশনের মাত্রা কমাতে চেষ্টা করে। একটি হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং অপরটি হলো প্রাথমিক প্রক্রিয়ার চিন্তন। অতি অহম: মানসিক কাঠামোর তৃতীয় ভাগটি হলো অতি অহম, যা প্রায় ৫ বছর বয়স থেকে বিকশিত হতে শুরু করে। পিতা-মাতা এবং সমাজ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আমরা অর্জন করি তার ধারক ও বাহক হলো অতি অহম। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি অংশ নিয়ে গঠিত একটি অংশ হলো বিবেক- যা কতগুলো আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক বাধা প্রদান করে। অপরদিকে অপর অংশটি হলো অহম আদর্শ- এটি একজন ব্যক্তি আদর্শগতভাবে কি হতে পারে এবং কেমন আচরণ করা উচিত তার প্রতিচ্ছবি। মূলত ফ্রয়েডের মনোগতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আদিসত্ত্বা, অহম এবং অতি অহমের সমন্বয়ে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যক্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। দৃশ্যকল্প-২: question image

Dhaka · 2025

ব্যক্তিত্ব কী?

উত্তর

ক্রাইডার ও তার সহযোগীদের মতে, "ব্যক্তিত্বকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার অনবদ্য ধরন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যা ব্যক্তিকে এবং ব্যক্তির সাথে পরিবেশের সম্পর্ককে চিহ্নিত করে।"
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের প্রশ্নমালা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালা। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলির মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, অনুভূতি, উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযোগ, মূল্যবোধ, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণাবলি এই অভীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। ব্যক্তিত্ব নির্ণায়ক বহু সংখ্যক প্রশ্ন করার সমন্বয়ে এ অভীক্ষা গঠিত। সাধারণত হ্যাঁ-না বা সত্য-মিথ্যার সাহায্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি হলো সাক্ষাৎকার। নিচে সাক্ষাৎকার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সাক্ষাৎকার একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া যেতে পারে, যেমন- ১. পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে কি কি প্রশ্ন করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে এবং আলোচনার ধারা একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে অগ্রসর হয়। ২. অনির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এক্ষেত্রে আলোচনার গতি আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে না। অনির্ধারিত সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং উত্তরসমূহ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন। ৩. চাপ মুলক সাক্ষাৎকার: তীব্র চাপমূলক পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কী ধরনের আচরণ করে তার মূল্যায়নের জন্য চাপ মূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ৪. ক্লান্তিমূলক সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার প্রদানকারিকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে তাকে ব্যতিব্যস্ত এবং ক্লান্ত করা হয়। ব্যক্তি ক্লান্ত এবং অবসন্ন হলে তার মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ ভেঙে পড়বে এবং তার অসংগতিগুলো ধরা পড়বে
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের 'AA^{\prime} এবং 'CC^{\prime} এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের A এবং C যথাক্রমে The Id (আদিসত্ত্বা) এবং The Super Ego(অতি অহম) কে নির্দেশ করে। নিচে আদিসত্ত্বা ও অতি অহম-এর তুলনামূলক আলোচনা বিশ্লেষণ করা হলো- আদিসত্ত্বা: ফ্রয়েড এর মতে জন্মের সময় শিশুর ব্যক্তিত্বে থাকে শুধু সুখের জন্য অবচেতন ধারণা। যে কল্পিত মানসিক কাঠামোতে এই ধারণাসমূহ অবস্থান করে তার নাম দিয়েছেন আদিসত্ত্বা। আদিসত্ত্বা সবসময় সুখের জন্য তার ধারণাগুলোর তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি পেতে চেষ্টা করে। আদিসত্ত্বা সুখ ভোগের নীতি অনুসরণ করে। সে কোনো সামাজিক রীতি, নীতি বা শিক্ষার ধার ধারে না। ফ্রয়েডের মতে আদিসত্ত্বা যে সুখ ভোগ করে তা টেনশন অপসারণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফ্রয়েড দুটি পথের কথা নির্দেশ করেছেন যার মাধ্যমে আদিসত্ত্বা টেনশনের মাত্রা কমাতে চেষ্টা করে। একটি হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং অপরটি হলো প্রাথমিক প্রক্রিয়ার চিন্তন। অতি অহম: মানসিক কাঠামোর তৃতীয় ভাগটি হলো অতি অহম, যা প্রায় ৫ বছর বয়স থেকে বিকশিত হতে শুরু করে। পিতা-মাতা এবং সমাজ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আমরা অর্জন করি তার ধারক ও বাহক হলো অতি অহম। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি অংশ নিয়ে গঠিত একটি অংশ হলো বিবেক- যা কতগুলো আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক বাধা প্রদান করে। অপরদিকে অপর অংশটি হলো অহম আদর্শ- এটি একজন ব্যক্তি আদর্শগতভাবে কি হতে পারে এবং কেমন আচরণ করা উচিত তার প্রতিচ্ছবি। মূলত ফ্রয়েডের মনোগতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আদিসত্ত্বা, অহম এবং অতি অহমের সমন্বয়ে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বললেন। রাখালের গল্পের ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী তার ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করলেন। দৃশ্যকল্প-২: তালুকদার এবং মজুমদার দুই বন্ধু ও সহকর্মী। তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। কিন্তু তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

Dhaka · 2025

প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা কী?

উত্তর

যে অভীক্ষায় ব্যক্তির কাছে একটি অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও অসংগঠিত উদ্দীপক উপস্থাপন করে তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়, সে ধরনের অভীক্ষাগুলোকে প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বলা হয়।
অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী কেন?

উত্তর

কার্ল ইয়ং ব্যক্তিত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ ইয়ং এর মতবাদ এর সাথে একমত নন। ব্যক্তিত্বকে তারা শুধু দুটি ভাগে ভাগ করতে রাজি নন। কারণ একই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব কখনো অন্তর্মুখী আবার কখনো বহির্মুখীও হতে পারে। যেমন- কেউ আত্মকেন্দ্রিক আবার সামাজিকও বটে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে বলা হয় উভয়মুখী ব্যক্তিত্ব। অর্ন্তমুখিতা ও বহির্মুখিতা সম্বন্ধীয় অভীক্ষা বহু লোকের উপর প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ লোক পরিমাপকের মাঝামাঝিতে পড়ে। তারা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্মুখীও নয় আবার বহির্মুখীও নয়। অর্থাৎ তারা উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এজন্য অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
দৃশ্যকল্প-১ এ, রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি হলো কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা। নিচে কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা ব্যাখ্যা করা হলো- ১৯৩৫ সালে আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ানা মরগান এবং এইচ. এ. মারে সর্বপ্রথম কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এ অভীক্ষা ২০টি কার্ড নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১৯ টি অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক এবং ১টি কার্ড ফাঁকা বা সাদা। পরীক্ষণপাত্রকে ১টি ছবিযুক্ত কার্ড দিয়ে সেটি অবলম্বন করে একটি গল্প রচনা করতে বলা হয়। গল্প লেখার ধারা হলো ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে, কী ঘটছে, ছবিতে লোকগুলো কী ভাবছে, কীভাবে কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল, এর পরিণতিই বা কী ইত্যাদি। পরীক্ষণপাত্র প্রত্যেকটি ছবি থেকে একটি করে গল্প লেখার পর তাকে সাদা কার্ডটি দেয়া হয়। পরীক্ষণপাত্রকে সাদা কার্ডে একটি ছবি বা চিত্র কল্পনা করে নিয়ে সে সম্পর্কে তাকে একটি গল্প লিখতে বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্বের নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবি বিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বলেন। তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের এ পদ্ধতিটি কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষাকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার এবং মজুমদারের ব্যক্তিত্বের ধরনের তুলনা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব এবং মজুমদার বহিঃমুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নিচে অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের তুলনা করা হলো- অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। বাইরের জগতের প্রতি এদের আকর্ষণ খুবই কম। এ জাতীয় লোকের বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব আত্মকেন্দ্রিক, বাহ্য বস্তুর প্রতি উদাসীন, আত্মসচেতন এবং স্বার্থপর। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তাশীল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়। অন্যদিকে, বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের বাইরের জগতের প্রতি রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। এরা অন্যের সঙ্গে মিশতে এবং প্রাণ খুলে আনন্দ প্রকাশে আগ্রহী। বাইরের জগতের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গৃহে বন্দী থাকতে এরা নারাজ। এরা খুবই সামাজিক এবং যেকোনো সামাজিক পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে এরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অর্থাৎ তালুকদার সাহেব অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং মজুমদার সাহেব একজন বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বললেন। রাখালের গল্পের ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী তার ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করলেন। দৃশ্যকল্প-২: তালুকদার এবং মজুমদার দুই বন্ধু ও সহকর্মী। তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। কিন্তু তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

Dhaka · 2025

প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা কী?

উত্তর

যে অভীক্ষায় ব্যক্তির কাছে একটি অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও অসংগঠিত উদ্দীপক উপস্থাপন করে তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়, সে ধরনের অভীক্ষাগুলোকে প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বলা হয়।
অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী কেন?

উত্তর

কার্ল ইয়ং ব্যক্তিত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ ইয়ং এর মতবাদ এর সাথে একমত নন। ব্যক্তিত্বকে তারা শুধু দুটি ভাগে ভাগ করতে রাজি নন। কারণ একই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব কখনো অন্তর্মুখী আবার কখনো বহির্মুখীও হতে পারে। যেমন- কেউ আত্মকেন্দ্রিক আবার সামাজিকও বটে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে বলা হয় উভয়মুখী ব্যক্তিত্ব। অর্ন্তমুখিতা ও বহির্মুখিতা সম্বন্ধীয় অভীক্ষা বহু লোকের উপর প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ লোক পরিমাপকের মাঝামাঝিতে পড়ে। তারা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্মুখীও নয় আবার বহির্মুখীও নয়। অর্থাৎ তারা উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এজন্য অধিকাংশ মানুষই উভয়মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
দৃশ্যকল্প-১ এ, রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্ব নিরূপণে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাটি হলো কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা। নিচে কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা ব্যাখ্যা করা হলো- ১৯৩৫ সালে আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ানা মরগান এবং এইচ. এ. মারে সর্বপ্রথম কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন। এ অভীক্ষা ২০টি কার্ড নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১৯ টি অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক এবং ১টি কার্ড ফাঁকা বা সাদা। পরীক্ষণপাত্রকে ১টি ছবিযুক্ত কার্ড দিয়ে সেটি অবলম্বন করে একটি গল্প রচনা করতে বলা হয়। গল্প লেখার ধারা হলো ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে, কী ঘটছে, ছবিতে লোকগুলো কী ভাবছে, কীভাবে কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল, এর পরিণতিই বা কী ইত্যাদি। পরীক্ষণপাত্র প্রত্যেকটি ছবি থেকে একটি করে গল্প লেখার পর তাকে সাদা কার্ডটি দেয়া হয়। পরীক্ষণপাত্রকে সাদা কার্ডে একটি ছবি বা চিত্র কল্পনা করে নিয়ে সে সম্পর্কে তাকে একটি গল্প লিখতে বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় রাখাল বণিকের ব্যক্তিত্বের নিরূপণের জন্য মনোবিজ্ঞানী তাকে বিভিন্ন অস্পষ্ট ছবি বিশিষ্ট কয়েকটি কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি কার্ডের প্রেক্ষিতে পৃথক গল্প বলতে বলেন। তার ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের এ পদ্ধতিটি কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষাকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার এবং মজুমদারের ব্যক্তিত্বের ধরনের তুলনা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত তালুকদার অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব এবং মজুমদার বহিঃমুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নিচে অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের তুলনা করা হলো- অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। বাইরের জগতের প্রতি এদের আকর্ষণ খুবই কম। এ জাতীয় লোকের বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব আত্মকেন্দ্রিক, বাহ্য বস্তুর প্রতি উদাসীন, আত্মসচেতন এবং স্বার্থপর। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোকেরা অত্যন্ত চিন্তাশীল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়। অন্যদিকে, বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের বাইরের জগতের প্রতি রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। এরা অন্যের সঙ্গে মিশতে এবং প্রাণ খুলে আনন্দ প্রকাশে আগ্রহী। বাইরের জগতের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গৃহে বন্দী থাকতে এরা নারাজ। এরা খুবই সামাজিক এবং যেকোনো সামাজিক পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে এরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, তালুকদার অত্যন্ত মেধাবী এবং একজন গবেষক। তিনি অন্যদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। অর্থাৎ তালুকদার সাহেব অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অন্যদিকে, মজুমদার অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। তিনি সবসময়ই বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং মজুমদার সাহেব একজন বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যক্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। দৃশ্যকল্প-২: question image

Dhaka · 2025

ব্যক্তিত্ব কী?

উত্তর

ক্রাইডার ও তার সহযোগীদের মতে, "ব্যক্তিত্বকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার অনবদ্য ধরন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যা ব্যক্তিকে এবং ব্যক্তির সাথে পরিবেশের সম্পর্ককে চিহ্নিত করে।"
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের প্রশ্নমালা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালা। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলির মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, অনুভূতি, উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযোগ, মূল্যবোধ, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণাবলি এই অভীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। ব্যক্তিত্ব নির্ণায়ক বহু সংখ্যক প্রশ্ন করার সমন্বয়ে এ অভীক্ষা গঠিত। সাধারণত হ্যাঁ-না বা সত্য-মিথ্যার সাহায্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি হলো সাক্ষাৎকার। নিচে সাক্ষাৎকার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সাক্ষাৎকার একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া যেতে পারে, যেমন- ১. পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে কি কি প্রশ্ন করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে এবং আলোচনার ধারা একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে অগ্রসর হয়। ২. অনির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এক্ষেত্রে আলোচনার গতি আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে না। অনির্ধারিত সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং উত্তরসমূহ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন। ৩. চাপ মুলক সাক্ষাৎকার: তীব্র চাপমূলক পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কী ধরনের আচরণ করে তার মূল্যায়নের জন্য চাপ মূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ৪. ক্লান্তিমূলক সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার প্রদানকারিকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে তাকে ব্যতিব্যস্ত এবং ক্লান্ত করা হয়। ব্যক্তি ক্লান্ত এবং অবসন্ন হলে তার মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ ভেঙে পড়বে এবং তার অসংগতিগুলো ধরা পড়বে
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের 'AA^{\prime} এবং 'CC^{\prime} এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের A এবং C যথাক্রমে The Id (আদিসত্ত্বা) এবং The Super Ego(অতি অহম) কে নির্দেশ করে। নিচে আদিসত্ত্বা ও অতি অহম-এর তুলনামূলক আলোচনা বিশ্লেষণ করা হলো- আদিসত্ত্বা: ফ্রয়েড এর মতে জন্মের সময় শিশুর ব্যক্তিত্বে থাকে শুধু সুখের জন্য অবচেতন ধারণা। যে কল্পিত মানসিক কাঠামোতে এই ধারণাসমূহ অবস্থান করে তার নাম দিয়েছেন আদিসত্ত্বা। আদিসত্ত্বা সবসময় সুখের জন্য তার ধারণাগুলোর তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি পেতে চেষ্টা করে। আদিসত্ত্বা সুখ ভোগের নীতি অনুসরণ করে। সে কোনো সামাজিক রীতি, নীতি বা শিক্ষার ধার ধারে না। ফ্রয়েডের মতে আদিসত্ত্বা যে সুখ ভোগ করে তা টেনশন অপসারণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফ্রয়েড দুটি পথের কথা নির্দেশ করেছেন যার মাধ্যমে আদিসত্ত্বা টেনশনের মাত্রা কমাতে চেষ্টা করে। একটি হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং অপরটি হলো প্রাথমিক প্রক্রিয়ার চিন্তন। অতি অহম: মানসিক কাঠামোর তৃতীয় ভাগটি হলো অতি অহম, যা প্রায় ৫ বছর বয়স থেকে বিকশিত হতে শুরু করে। পিতা-মাতা এবং সমাজ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আমরা অর্জন করি তার ধারক ও বাহক হলো অতি অহম। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি অংশ নিয়ে গঠিত একটি অংশ হলো বিবেক- যা কতগুলো আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক বাধা প্রদান করে। অপরদিকে অপর অংশটি হলো অহম আদর্শ- এটি একজন ব্যক্তি আদর্শগতভাবে কি হতে পারে এবং কেমন আচরণ করা উচিত তার প্রতিচ্ছবি। মূলত ফ্রয়েডের মনোগতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আদিসত্ত্বা, অহম এবং অতি অহমের সমন্বয়ে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যক্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। দৃশ্যকল্প-২: question image

Dhaka · 2025

ব্যক্তিত্ব কী?

উত্তর

ক্রাইডার ও তার সহযোগীদের মতে, "ব্যক্তিত্বকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার অনবদ্য ধরন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যা ব্যক্তিকে এবং ব্যক্তির সাথে পরিবেশের সম্পর্ককে চিহ্নিত করে।"
ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের প্রশ্নমালা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালা। ব্যক্তিত্ব প্রশ্নমালার সাহায্যে ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলির মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, অনুভূতি, উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযোগ, মূল্যবোধ, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণাবলি এই অভীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। ব্যক্তিত্ব নির্ণায়ক বহু সংখ্যক প্রশ্ন করার সমন্বয়ে এ অভীক্ষা গঠিত। সাধারণত হ্যাঁ-না বা সত্য-মিথ্যার সাহায্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি হলো সাক্ষাৎকার। নিচে সাক্ষাৎকার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নে সাক্ষাৎকার একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী সামনাসামনি আসেন এবং প্রত্যক্ষ কথোপকথনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করা হয়। বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া যেতে পারে, যেমন- ১. পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে কি কি প্রশ্ন করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে এবং আলোচনার ধারা একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে অগ্রসর হয়। ২. অনির্ধারিত সাক্ষাৎকার: এক্ষেত্রে আলোচনার গতি আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে না। অনির্ধারিত সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং উত্তরসমূহ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন। ৩. চাপ মুলক সাক্ষাৎকার: তীব্র চাপমূলক পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কী ধরনের আচরণ করে তার মূল্যায়নের জন্য চাপ মূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ৪. ক্লান্তিমূলক সাক্ষাৎকার: এ ধরনের সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার প্রদানকারিকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে তাকে ব্যতিব্যস্ত এবং ক্লান্ত করা হয়। ব্যক্তি ক্লান্ত এবং অবসন্ন হলে তার মানসিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ ভেঙে পড়বে এবং তার অসংগতিগুলো ধরা পড়বে
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের 'AA^{\prime} এবং 'CC^{\prime} এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের A এবং C যথাক্রমে The Id (আদিসত্ত্বা) এবং The Super Ego(অতি অহম) কে নির্দেশ করে। নিচে আদিসত্ত্বা ও অতি অহম-এর তুলনামূলক আলোচনা বিশ্লেষণ করা হলো- আদিসত্ত্বা: ফ্রয়েড এর মতে জন্মের সময় শিশুর ব্যক্তিত্বে থাকে শুধু সুখের জন্য অবচেতন ধারণা। যে কল্পিত মানসিক কাঠামোতে এই ধারণাসমূহ অবস্থান করে তার নাম দিয়েছেন আদিসত্ত্বা। আদিসত্ত্বা সবসময় সুখের জন্য তার ধারণাগুলোর তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি পেতে চেষ্টা করে। আদিসত্ত্বা সুখ ভোগের নীতি অনুসরণ করে। সে কোনো সামাজিক রীতি, নীতি বা শিক্ষার ধার ধারে না। ফ্রয়েডের মতে আদিসত্ত্বা যে সুখ ভোগ করে তা টেনশন অপসারণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফ্রয়েড দুটি পথের কথা নির্দেশ করেছেন যার মাধ্যমে আদিসত্ত্বা টেনশনের মাত্রা কমাতে চেষ্টা করে। একটি হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং অপরটি হলো প্রাথমিক প্রক্রিয়ার চিন্তন। অতি অহম: মানসিক কাঠামোর তৃতীয় ভাগটি হলো অতি অহম, যা প্রায় ৫ বছর বয়স থেকে বিকশিত হতে শুরু করে। পিতা-মাতা এবং সমাজ থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আমরা অর্জন করি তার ধারক ও বাহক হলো অতি অহম। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি অংশ নিয়ে গঠিত একটি অংশ হলো বিবেক- যা কতগুলো আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক বাধা প্রদান করে। অপরদিকে অপর অংশটি হলো অহম আদর্শ- এটি একজন ব্যক্তি আদর্শগতভাবে কি হতে পারে এবং কেমন আচরণ করা উচিত তার প্রতিচ্ছবি। মূলত ফ্রয়েডের মনোগতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আদিসত্ত্বা, অহম এবং অতি অহমের সমন্বয়ে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সত্য কথা বললে প্রায়ই পুরস্কার। দেওয়া হতো। পরবর্তীতে দেখা যায়, স্কুলের সকলেই সত্য বলছে। দৃশ্যকল্প-২: দিলরুবা আপা মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক। তিনি প্রতিদিন সময়মতো ক্লাসে আসেন, সহজভাবে বিষয় সম্পর্কে বুঝিয়ে দেন এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সকল সহযোগিতা প্রদান করেন। ক্লাসের সকলেই তাকে খুব পছন্দ করে। টিভির একটি অনুষ্ঠানে একদিন দেখা গেল একজন ছাত্র দিলবুবা আপাকে নিয়ে প্রশংসা সূচক উক্তি করছে।
মনোভাবের অনুভূতিমূলক উপাদান কী?

উত্তর

মনোভাবের বিষয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তির আবেগীয় দিককেই মনোভাবের অনুভূতিমূলক উপাদান বলে।
নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ- ব্যক্তিকে বিভিন্ন তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে তার মনের পরিবর্তন করা যায়। মিটনিক ও ম্যাকগিনিজ (১৯৫৮) এর পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তথ্য পরিবেশনের সময় কোনো একটি দল যদি সেই তথ্যের সমালোচনা করে তবে অন্যান্য শ্রোতার উপর ঐ তথ্যের ক্রিয়া অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষকদ্বয় গোষ্ঠী সহনশীলতার উপর ভিত্তি করে একটি ছবি তৈরি করেন এবং ছবিটি দু'দল ছাত্র-ছাত্রীদের দেখান। যেসব ছাত্র-ছাত্রী বেশি সংস্কারমনা ছিল তাদেরকে এককভাবে ছবি দেখতে দেওয়ার ফলে তাদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং যারা কম সংস্কারমনা ছিল তাদেরকে ছবি দেখানোর সময় সমালোচনা করার সুযোগ দেওয়ার ফলে এদের মনোভাবের বেশি পরিবর্তন হয়নি। তাই বলা যায় নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষার্থীদের মনোভাব গঠনে কোন প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সত্য কথা বললে প্রায় পুরস্কার দেওয়া হতো, পরবর্তীতে দেখা যায় স্কুলের সকলেই সত্য বলছে। শিক্ষার্থীদের মনোভাব গঠনে এক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষণীয়। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- বাস্তব জীবনে মনোভাব গঠনের ক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ অন্যতম শিক্ষণ প্রক্রিয়া। স্কিনার সর্বপ্রথম করণ সাপেক্ষীকরণের ব্যাখ্যা দেন। করণ সাপেক্ষীকরণের মূল কথা হলো, যে আচরণের জন্য শিশু পুরষ্কৃত হয় সেটি তার মধ্যে বারবার দেখা যায়। আর যদি কোনো আচরণের জন্য তিরস্কৃত হয় তবে সেটি করা থেকে সে বিরত থাকে। যেমন , শিশুরা সত্য কথা বললে বাবা-মা, ভাই-বোনেরা যদি প্রশংসা করে তবে সত্যি কথার প্রতি শিশুর ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মিথ্যা কথা বললে শিশু যদি শান্তি পায় তবে মিথ্যার প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ইনস্কো (১৯৬৫) তাঁর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষণপাত্র নির্বাচন করে বসন্ত উৎসবের জন্য টেলিফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অর্ধেক পরীক্ষণপাত্রকে তাদের পরিকল্পনা বর্ণনাকালে ইতিবাচক মন্তব্য দ্বারা পুরষ্কৃত করা হয় এবং অর্ধেকের উত্তরের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এক সপ্তাহ পর একটি প্রশ্নমালায় বসন্ত উৎসব সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায় যে. ইতিবাচক মন্তব্যপ্রাপ্ত ধারণার প্রাধান্য এ মতামতে প্রতিফলিত হয়েছে। এভাবে মনোভাব গঠনে পুরষ্কৃত আচরণের প্রবণতা অর্থাৎ করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা দেখা যায়।
দৃশ্যকল্প-২ এ দিলরুবা আপাকে পছন্দ করা এবং টিভি অনুষ্ঠানে তার সম্পর্কে উক্তির মধ্যে কি পার্থক্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ শিক্ষককে পছন্দ করা হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের মনোভাব এবং টিভি অনুষ্ঠানে শিক্ষক সম্পর্কে ছাত্রের উক্তিটি হলো শিক্ষক সম্পর্কে ছাত্রের মতামত। নিচে মনোভাব ও মতামতের মধ্যেকার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো- question image উপরোক্ত পার্থক্যের আলোকে বলা যায়, মনোভাবের বাহ্যিক শব্দগত প্রকাশই হচ্ছে মতামত অর্থাৎ মনোভাব মতামতের আকারে ব্যক্ত হয়। এদিক থেকে বলা যায়, মতামত হলো একটি বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কে ব্যক্তি মনোভাবের পরিচায়ক বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সত্য কথা বললে প্রায়ই পুরস্কার। দেওয়া হতো। পরবর্তীতে দেখা যায়, স্কুলের সকলেই সত্য বলছে। দৃশ্যকল্প-২: দিলরুবা আপা মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক। তিনি প্রতিদিন সময়মতো ক্লাসে আসেন, সহজভাবে বিষয় সম্পর্কে বুঝিয়ে দেন এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সকল সহযোগিতা প্রদান করেন। ক্লাসের সকলেই তাকে খুব পছন্দ করে। টিভির একটি অনুষ্ঠানে একদিন দেখা গেল একজন ছাত্র দিলবুবা আপাকে নিয়ে প্রশংসা সূচক উক্তি করছে।
মনোভাবের অনুভূতিমূলক উপাদান কী?

উত্তর

মনোভাবের বিষয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তির আবেগীয় দিককেই মনোভাবের অনুভূতিমূলক উপাদান বলে।
নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর

নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ- ব্যক্তিকে বিভিন্ন তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে তার মনের পরিবর্তন করা যায়। মিটনিক ও ম্যাকগিনিজ (১৯৫৮) এর পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তথ্য পরিবেশনের সময় কোনো একটি দল যদি সেই তথ্যের সমালোচনা করে তবে অন্যান্য শ্রোতার উপর ঐ তথ্যের ক্রিয়া অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষকদ্বয় গোষ্ঠী সহনশীলতার উপর ভিত্তি করে একটি ছবি তৈরি করেন এবং ছবিটি দু'দল ছাত্র-ছাত্রীদের দেখান। যেসব ছাত্র-ছাত্রী বেশি সংস্কারমনা ছিল তাদেরকে এককভাবে ছবি দেখতে দেওয়ার ফলে তাদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং যারা কম সংস্কারমনা ছিল তাদেরকে ছবি দেখানোর সময় সমালোচনা করার সুযোগ দেওয়ার ফলে এদের মনোভাবের বেশি পরিবর্তন হয়নি। তাই বলা যায় নতুন তথ্য মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষার্থীদের মনোভাব গঠনে কোন প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সত্য কথা বললে প্রায় পুরস্কার দেওয়া হতো, পরবর্তীতে দেখা যায় স্কুলের সকলেই সত্য বলছে। শিক্ষার্থীদের মনোভাব গঠনে এক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষণীয়। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- বাস্তব জীবনে মনোভাব গঠনের ক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ অন্যতম শিক্ষণ প্রক্রিয়া। স্কিনার সর্বপ্রথম করণ সাপেক্ষীকরণের ব্যাখ্যা দেন। করণ সাপেক্ষীকরণের মূল কথা হলো, যে আচরণের জন্য শিশু পুরষ্কৃত হয় সেটি তার মধ্যে বারবার দেখা যায়। আর যদি কোনো আচরণের জন্য তিরস্কৃত হয় তবে সেটি করা থেকে সে বিরত থাকে। যেমন , শিশুরা সত্য কথা বললে বাবা-মা, ভাই-বোনেরা যদি প্রশংসা করে তবে সত্যি কথার প্রতি শিশুর ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মিথ্যা কথা বললে শিশু যদি শান্তি পায় তবে মিথ্যার প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ইনস্কো (১৯৬৫) তাঁর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষণপাত্র নির্বাচন করে বসন্ত উৎসবের জন্য টেলিফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অর্ধেক পরীক্ষণপাত্রকে তাদের পরিকল্পনা বর্ণনাকালে ইতিবাচক মন্তব্য দ্বারা পুরষ্কৃত করা হয় এবং অর্ধেকের উত্তরের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এক সপ্তাহ পর একটি প্রশ্নমালায় বসন্ত উৎসব সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায় যে. ইতিবাচক মন্তব্যপ্রাপ্ত ধারণার প্রাধান্য এ মতামতে প্রতিফলিত হয়েছে। এভাবে মনোভাব গঠনে পুরষ্কৃত আচরণের প্রবণতা অর্থাৎ করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা দেখা যায়।
দৃশ্যকল্প-২ এ দিলরুবা আপাকে পছন্দ করা এবং টিভি অনুষ্ঠানে তার সম্পর্কে উক্তির মধ্যে কি পার্থক্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ শিক্ষককে পছন্দ করা হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের মনোভাব এবং টিভি অনুষ্ঠানে শিক্ষক সম্পর্কে ছাত্রের উক্তিটি হলো শিক্ষক সম্পর্কে ছাত্রের মতামত। নিচে মনোভাব ও মতামতের মধ্যেকার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো- question image উপরোক্ত পার্থক্যের আলোকে বলা যায়, মনোভাবের বাহ্যিক শব্দগত প্রকাশই হচ্ছে মতামত অর্থাৎ মনোভাব মতামতের আকারে ব্যক্ত হয়। এদিক থেকে বলা যায়, মতামত হলো একটি বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কে ব্যক্তি মনোভাবের পরিচায়ক বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তমা ও মাসুদ দুই ভাইবোন। তারা দুজনেই ঢাকার স্কুলে পড়ে। তমা ৩য় শ্রেণিতে এবং মাসুদ অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ইদানীং বাবা-মা লক্ষ্য করলেন তমা পড়ালেখা ও অন্যান্য আচরণের ক্ষেত্রে স্কুলের। মিস এবং তার মাকে বেশি অনুসরণ করে। মা এবং শিক্ষক যা ভালো বলেন তাকে সেও পরবর্তীতে ভালো বলে শনাক্ত করে। পক্ষান্তরে, মাসুদ বন্ধুদের মতো করে চুল কাটে, পোশাক পরিধান করে, মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিশে অন্যায় কাজ করতেও দ্বিধা করে না। তার আচরণে বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তাকে ভালো বন্ধুদের সাথে মিশতে উৎসাহ দেয়। অবশেষে বন্ধুদের চাপে সে অন্যায় কাজ ছেড়ে দেয়।
মতামত কী?

উত্তর

কোনো একটি বিতর্কমূলক বিষয় সম্পর্কে একাধিক বিশ্বাসকে মতামত বলে।
"যুক্তির মাধ্যমে সমালোচনা খন্ডন"-মনোভাবের কোন উপাদান? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"যুক্তির মাধ্যমে সমালোচনা খন্ডন"-মনোভাবের ক্রিয়াগত উপাদান। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মনোভাবের বিষয় সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির সব ধরনের আচরণ প্রবণতাই হলো ক্রিয়াগত উপাদান। কোনো বিষয়ে ব্যক্তির ইতিবাচক মনোভাব হলো যে সর্বাত্মকভাবে তার ভালো কামনা করে। ব্যক্তি যে বিষয়টিকে সমর্থন করে সেটিকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে, যদি মনোভাব নেতিবাচক হয় তবে ব্যক্তি তার অমঙ্গল ও ধ্বংস কামনা করে। যেমন, কোনো ব্যক্তির সামনে যদি তার প্রিয় নেতার সমালোচনা করা হয় তবে উক্ত ব্যক্তি যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সমালোচনা খণ্ডন করে। নেতা যদি কোনো বিপদে পড়ে তবে ব্যক্তি তার সাহায্যে এগিয়ে আসে। এগুলো হলো মনোভাবের ক্রিয়াগত দিক। একইভাবে ব্যক্তি কাউকে অপছন্দ করে তার সমালোচনা করে থাকে তাকে এড়িয়ে চলে।
তমার মনোভাব গঠনে কোন প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তমার মনোভাব গঠনে অনুকরণ প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মনোভাব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো অনুকরণ। আশপাশের অনেক কিছু থেকেই শিশু অনুকরণ করতে শিখে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা মা, বড় ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রভৃতি ব্যক্তি আচরণ অনুকরণ করে থাকে। শিশু তার বাবা-মা যাকে ভালো বলেন তাকে ভালো ভাবতে শিখে, যা খারাপ বলেন তা মন্দ ভাবতে শিখে। একইভাবে বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষিকার ব্যক্তি মনোভাবের অনুকরণে শিশুর মনোভাব গড়ে ওঠে। আলবার্ট ব্যান্ডুরা (১৯৭১) এর মতে, শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনুকরণ করে বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার মনোভাব। উদ্দীপকে তমা স্কুলের মিস এবং তার মাকে বেশি অনুসরণ করে বিধায় উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে তমার মনোভাব গঠনে অনুকরণ প্রক্রিয়াটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মাসুদের মনোভাব গঠন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তীতে তার মনোভাব পরিবর্তন মাধ্যম বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মাসুদের মনোভাব গঠন প্রক্রিয়াটিতে সঙ্গীদল বা সমকক্ষ দলের প্রভাব রয়েছে এবং পরবর্তীতে তার মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে শপথ বা প্রতিশ্রুতি ভূমিকা রেখেছে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- সঙ্গীদল বা সমকক্ষ দল: সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চায়। প্রত্যেক মানুষ বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো না কোনো সমকক্ষ দলের সাথে নিজেকে একাত্ম করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি খেলার সাথী, সহপাঠী, বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তি প্রভৃতি এবং পরবর্তীতে সহকর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাহচর্যে এসে থাকে এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া করে। এ পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে অর্থাৎ সঙ্গীদলের বিভিন্ন সদস্যদের আচার- আচরণ ও চিন্তাধারার প্রভাবে ব্যক্তির মনোভাব গড়ে উঠে। উদ্দীপকে মাসুদ বন্ধুদের মতো করে চুল কাটে, পোশাক পরিধান করে, মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিশে অন্যায় কাজ করতেও দ্বিধা করে না। অপরদিকে বাবা-মা তাকে ভালো আচরণ করতে উৎসাহ দিলে পরবর্তীতে অন্যায় কাজ না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এক্ষেত্রে,শপথ বা প্রতিশ্রুতি: কোনো ব্যক্তি একটা মনোভাবের অনুকূলে তার নিজস্ব মনোভাব পরিবর্তন করার পর তার এ পরিবর্তনের কথা অন্যান্য লোকের সামনে উচ্চারণ করলে তার একটা আলাদা ফল পাওয়া যায়। যেমন- তাকে পূর্বেকার মনোভাবে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর হয়। ধর্মপ্রচারকরা এ পদ্ধতি পূর্ব থেকেই প্রয়োগ করতেন। পরিবর্তিত মনোভাবকে স্থিতিশীল করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির একটা গুরুত্ব রয়েছে; এ প্রতিশ্রুতি বা শপথ মনে মনে করার চেয়ে প্রকাশ্য জনসমক্ষে করার ফল অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCPsychology 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তমা ও মাসুদ দুই ভাইবোন। তারা দুজনেই ঢাকার স্কুলে পড়ে। তমা ৩য় শ্রেণিতে এবং মাসুদ অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ইদানীং বাবা-মা লক্ষ্য করলেন তমা পড়ালেখা ও অন্যান্য আচরণের ক্ষেত্রে স্কুলের। মিস এবং তার মাকে বেশি অনুসরণ করে। মা এবং শিক্ষক যা ভালো বলেন তাকে সেও পরবর্তীতে ভালো বলে শনাক্ত করে। পক্ষান্তরে, মাসুদ বন্ধুদের মতো করে চুল কাটে, পোশাক পরিধান করে, মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিশে অন্যায় কাজ করতেও দ্বিধা করে না। তার আচরণে বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তাকে ভালো বন্ধুদের সাথে মিশতে উৎসাহ দেয়। অবশেষে বন্ধুদের চাপে সে অন্যায় কাজ ছেড়ে দেয়।
মতামত কী?

উত্তর

কোনো একটি বিতর্কমূলক বিষয় সম্পর্কে একাধিক বিশ্বাসকে মতামত বলে।
"যুক্তির মাধ্যমে সমালোচনা খন্ডন"-মনোভাবের কোন উপাদান? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"যুক্তির মাধ্যমে সমালোচনা খন্ডন"-মনোভাবের ক্রিয়াগত উপাদান। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মনোভাবের বিষয় সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির সব ধরনের আচরণ প্রবণতাই হলো ক্রিয়াগত উপাদান। কোনো বিষয়ে ব্যক্তির ইতিবাচক মনোভাব হলো যে সর্বাত্মকভাবে তার ভালো কামনা করে। ব্যক্তি যে বিষয়টিকে সমর্থন করে সেটিকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে, যদি মনোভাব নেতিবাচক হয় তবে ব্যক্তি তার অমঙ্গল ও ধ্বংস কামনা করে। যেমন, কোনো ব্যক্তির সামনে যদি তার প্রিয় নেতার সমালোচনা করা হয় তবে উক্ত ব্যক্তি যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সমালোচনা খণ্ডন করে। নেতা যদি কোনো বিপদে পড়ে তবে ব্যক্তি তার সাহায্যে এগিয়ে আসে। এগুলো হলো মনোভাবের ক্রিয়াগত দিক। একইভাবে ব্যক্তি কাউকে অপছন্দ করে তার সমালোচনা করে থাকে তাকে এড়িয়ে চলে।
তমার মনোভাব গঠনে কোন প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তমার মনোভাব গঠনে অনুকরণ প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মনোভাব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো অনুকরণ। আশপাশের অনেক কিছু থেকেই শিশু অনুকরণ করতে শিখে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা মা, বড় ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রভৃতি ব্যক্তি আচরণ অনুকরণ করে থাকে। শিশু তার বাবা-মা যাকে ভালো বলেন তাকে ভালো ভাবতে শিখে, যা খারাপ বলেন তা মন্দ ভাবতে শিখে। একইভাবে বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষিকার ব্যক্তি মনোভাবের অনুকরণে শিশুর মনোভাব গড়ে ওঠে। আলবার্ট ব্যান্ডুরা (১৯৭১) এর মতে, শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনুকরণ করে বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার মনোভাব। উদ্দীপকে তমা স্কুলের মিস এবং তার মাকে বেশি অনুসরণ করে বিধায় উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে তমার মনোভাব গঠনে অনুকরণ প্রক্রিয়াটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মাসুদের মনোভাব গঠন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তীতে তার মনোভাব পরিবর্তন মাধ্যম বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মাসুদের মনোভাব গঠন প্রক্রিয়াটিতে সঙ্গীদল বা সমকক্ষ দলের প্রভাব রয়েছে এবং পরবর্তীতে তার মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে শপথ বা প্রতিশ্রুতি ভূমিকা রেখেছে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- সঙ্গীদল বা সমকক্ষ দল: সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চায়। প্রত্যেক মানুষ বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো না কোনো সমকক্ষ দলের সাথে নিজেকে একাত্ম করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি খেলার সাথী, সহপাঠী, বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তি প্রভৃতি এবং পরবর্তীতে সহকর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাহচর্যে এসে থাকে এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া করে। এ পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে অর্থাৎ সঙ্গীদলের বিভিন্ন সদস্যদের আচার- আচরণ ও চিন্তাধারার প্রভাবে ব্যক্তির মনোভাব গড়ে উঠে। উদ্দীপকে মাসুদ বন্ধুদের মতো করে চুল কাটে, পোশাক পরিধান করে, মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিশে অন্যায় কাজ করতেও দ্বিধা করে না। অপরদিকে বাবা-মা তাকে ভালো আচরণ করতে উৎসাহ দিলে পরবর্তীতে অন্যায় কাজ না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এক্ষেত্রে,শপথ বা প্রতিশ্রুতি: কোনো ব্যক্তি একটা মনোভাবের অনুকূলে তার নিজস্ব মনোভাব পরিবর্তন করার পর তার এ পরিবর্তনের কথা অন্যান্য লোকের সামনে উচ্চারণ করলে তার একটা আলাদা ফল পাওয়া যায়। যেমন- তাকে পূর্বেকার মনোভাবে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর হয়। ধর্মপ্রচারকরা এ পদ্ধতি পূর্ব থেকেই প্রয়োগ করতেন। পরিবর্তিত মনোভাবকে স্থিতিশীল করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির একটা গুরুত্ব রয়েছে; এ প্রতিশ্রুতি বা শপথ মনে মনে করার চেয়ে প্রকাশ্য জনসমক্ষে করার ফল অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো