HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সত্য কথা, ময়ূরাক্ষীর এই খরস্রোতই বিশেষত্ব। বারো মাসের মধ্যে সাত-আট মাস ময়ূরাক্ষী মরুভূমি, এক মাইল দেড় মাইল প্রশর বালুকারাশি ধু-ধু করে। কিন্তু বর্ষার প্রারম্ভে সে রাক্ষসীর মত ভয়ঙ্করী। দুই পার্শ্বে চার-পাঁচ মাইল গাঢ় পিঙ্গলবর্ণ জলস্রোতে পরিব্যাপ্ত করিয়া বিপুল স্রোতে সে তখন ছুটিয়া চলে। আবার কখনও কখনও আসে 'হড়পা' বান, ছয়-সাত হাত উচ্চ জলস্রোত সম্মুখের বাড়ি-ঘর ক্ষেত-খামার গ্রামের পর গ্রাম নিঃশেষে ধুইয়া মুছিয়া দিয়া সমস্ত দেশটাকে প্লাবিত করিয়া দিয়া যায়। কিন্তু সে সচরাচর হয় না। বিশ বৎসর পূর্বে একবার হইয়াছিল।
ক
ঘূর্ণি' অর্থ কী?
উত্তর
'ঘূর্ণি' অর্থ- জল বা বায়ুর প্রচন্ড আবর্তন।
খ
'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার কী কী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর
➤ 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার প্রমত্ত ও কল্যাণময়ী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি ভয়ংকর, অন্যটি কল্যাণময়। এই ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপ পদ্মা নদীর হিংস্রতাকে নির্দেশ করে। তীব্র স্রোতে ধ্বংস করে দুই কূলের সাজানো বাগান, অসংখ্য জীবন আর জীবনের অজস্র সম্ভার। অন্যদিকে পদ্মার গতিময়তা পদ্মার কল্যাণময় রূপের প্রকাশ ঘটায়। পদ্মা যখন দুকূল ছাপিয়ে বয়ে চলে তখন পদ্মার দুই পাড় জুড়ে পড়ে পলিমাটির আন্তর। যা থেকে আবার প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে পদ্মাকে কেন্দ্র করে।
সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার দুটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' পদ্মার কোন বৈশিষ্ট্যের ধারক? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' 'পদ্মা' কবিতার পদ্মা নদীর সুতীব্র গতি ও ভয়ংকর বৈশিষ্ট্যের ধারক।
➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুকে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো নদ-নদী। মানবজীবনের স্পন্দন পাওয়া যায় এসব নদ-নদীর বুকে। তবে এসব নদ-নদী কখনো কখনো বাংলার মানুষের হাহাকারের কারণ হয়ে ওঠে। জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
➤ উদ্দীপকে খরস্রোতা ময়ূরাক্ষী নদীর ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, বর্ষার প্রারম্ভে ময়ূরাক্ষী রাক্ষসীর মতো ভয়ংকরী। কখনো কখনো তার 'হড়পা' বান-এর ছয়-সাত হাত উঁচু জলস্রোত বাড়িঘর, খেত-খামার সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। 'পদ্মা' একদিকে যেমন জনজীবনে প্রাণের স্পন্দন জাগায় অন্যদিকে তেমনই ধ্বংসও ডেকে আনে। বর্ষায় পদ্মার খরস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের জীবন, সাজানো বাগান ও জীবনের নানা সম্ভার। কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার এই ভয়ংকর সর্বগ্রাসী হিংস্র বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী ধারণ করেছে।
সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর সর্বগ্রাসী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী নদী।
ঘ
"উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
➤ "উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ নদীমাতৃক বাংলাদেশে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নদী একাধারে ধ্বংস ও নব- সৃষ্টির প্রতীক। নদীর সঙ্গে বাংলার মানুষের তাই নিবিড় সম্পর্ক।
➤ উদ্দীপকে ময়ূরাক্ষী নদীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বর্ষায় সুতীব্র গতির স্রোত ও ভয়ংকর রূপটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষীর বিশেষত্ব তার খরস্রোতে। বর্ষায় সে রাক্ষসী ও ভয়ংকরী মূর্তি ধারণ করে। গ্রাম-লোকালয়-ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তীব্র স্রোত ও ভাঙনে। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এমন ভয়ংকর রূপটি অঙ্কন করেছেন। তবে উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রকাশ মাত্র। এটি ছাড়াও আলোচা কবিতায় পদ্মা নদীর নানামুখী ভাব ও বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে।
➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার অনেক রূপ অঙ্কন করেছেন। পদ্মার হিংস্রতার বিষয় ছাড়াও পদ্মার মমতাময়ী, সৃজনশীল রূপটিও কবির চেতনায় ধরা পড়েছে। কবি এখানে পদ্মা নদীর নিরন্তর ছুটে চলা, সুতীব্র গতিময়তা, জীবনের স্পন্দন জাগানো, মুক্তিব উল্লাস ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে পদ্মা নদীর খরস্রোতা ও ভয়ংকরী রূপের প্রতি ইঙ্গিত করা হলেও পদ্মার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো