কবিতা : পদ্মা Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : পদ্মা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৩০

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সত্য কথা, ময়ূরাক্ষীর এই খরস্রোতই বিশেষত্ব। বারো মাসের মধ্যে সাত-আট মাস ময়ূরাক্ষী মরুভূমি, এক মাইল দেড় মাইল প্রশর বালুকারাশি ধু-ধু করে। কিন্তু বর্ষার প্রারম্ভে সে রাক্ষসীর মত ভয়ঙ্করী। দুই পার্শ্বে চার-পাঁচ মাইল গাঢ় পিঙ্গলবর্ণ জলস্রোতে পরিব্যাপ্ত করিয়া বিপুল স্রোতে সে তখন ছুটিয়া চলে। আবার কখনও কখনও আসে 'হড়পা' বান, ছয়-সাত হাত উচ্চ জলস্রোত সম্মুখের বাড়ি-ঘর ক্ষেত-খামার গ্রামের পর গ্রাম নিঃশেষে ধুইয়া মুছিয়া দিয়া সমস্ত দেশটাকে প্লাবিত করিয়া দিয়া যায়। কিন্তু সে সচরাচর হয় না। বিশ বৎসর পূর্বে একবার হইয়াছিল।
ক
ঘূর্ণি' অর্থ কী?

উত্তর

'ঘূর্ণি' অর্থ- জল বা বায়ুর প্রচন্ড আবর্তন।
খ
'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার কী কী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর

➤ 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার প্রমত্ত ও কল্যাণময়ী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। ➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি ভয়ংকর, অন্যটি কল্যাণময়। এই ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপ পদ্মা নদীর হিংস্রতাকে নির্দেশ করে। তীব্র স্রোতে ধ্বংস করে দুই কূলের সাজানো বাগান, অসংখ্য জীবন আর জীবনের অজস্র সম্ভার। অন্যদিকে পদ্মার গতিময়তা পদ্মার কল্যাণময় রূপের প্রকাশ ঘটায়। পদ্মা যখন দুকূল ছাপিয়ে বয়ে চলে তখন পদ্মার দুই পাড় জুড়ে পড়ে পলিমাটির আন্তর। যা থেকে আবার প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে পদ্মাকে কেন্দ্র করে। সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার দুটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' পদ্মার কোন বৈশিষ্ট্যের ধারক? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' 'পদ্মা' কবিতার পদ্মা নদীর সুতীব্র গতি ও ভয়ংকর বৈশিষ্ট্যের ধারক। ➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুকে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো নদ-নদী। মানবজীবনের স্পন্দন পাওয়া যায় এসব নদ-নদীর বুকে। তবে এসব নদ-নদী কখনো কখনো বাংলার মানুষের হাহাকারের কারণ হয়ে ওঠে। জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ➤ উদ্দীপকে খরস্রোতা ময়ূরাক্ষী নদীর ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, বর্ষার প্রারম্ভে ময়ূরাক্ষী রাক্ষসীর মতো ভয়ংকরী। কখনো কখনো তার 'হড়পা' বান-এর ছয়-সাত হাত উঁচু জলস্রোত বাড়িঘর, খেত-খামার সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। 'পদ্মা' একদিকে যেমন জনজীবনে প্রাণের স্পন্দন জাগায় অন্যদিকে তেমনই ধ্বংসও ডেকে আনে। বর্ষায় পদ্মার খরস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের জীবন, সাজানো বাগান ও জীবনের নানা সম্ভার। কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার এই ভয়ংকর সর্বগ্রাসী হিংস্র বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী ধারণ করেছে। সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর সর্বগ্রাসী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী নদী।
ঘ
"উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ নদীমাতৃক বাংলাদেশে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নদী একাধারে ধ্বংস ও নব- সৃষ্টির প্রতীক। নদীর সঙ্গে বাংলার মানুষের তাই নিবিড় সম্পর্ক। ➤ উদ্দীপকে ময়ূরাক্ষী নদীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বর্ষায় সুতীব্র গতির স্রোত ও ভয়ংকর রূপটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষীর বিশেষত্ব তার খরস্রোতে। বর্ষায় সে রাক্ষসী ও ভয়ংকরী মূর্তি ধারণ করে। গ্রাম-লোকালয়-ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তীব্র স্রোত ও ভাঙনে। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এমন ভয়ংকর রূপটি অঙ্কন করেছেন। তবে উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রকাশ মাত্র। এটি ছাড়াও আলোচা কবিতায় পদ্মা নদীর নানামুখী ভাব ও বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। ➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার অনেক রূপ অঙ্কন করেছেন। পদ্মার হিংস্রতার বিষয় ছাড়াও পদ্মার মমতাময়ী, সৃজনশীল রূপটিও কবির চেতনায় ধরা পড়েছে। কবি এখানে পদ্মা নদীর নিরন্তর ছুটে চলা, সুতীব্র গতিময়তা, জীবনের স্পন্দন জাগানো, মুক্তিব উল্লাস ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে পদ্মা নদীর খরস্রোতা ও ভয়ংকরী রূপের প্রতি ইঙ্গিত করা হলেও পদ্মার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সত্য কথা, ময়ূরাক্ষীর এই খরস্রোতই বিশেষত্ব। বারো মাসের মধ্যে সাত-আট মাস ময়ূরাক্ষী মরুভূমি, এক মাইল দেড় মাইল প্রশর বালুকারাশি ধু-ধু করে। কিন্তু বর্ষার প্রারম্ভে সে রাক্ষসীর মত ভয়ঙ্করী। দুই পার্শ্বে চার-পাঁচ মাইল গাঢ় পিঙ্গলবর্ণ জলস্রোতে পরিব্যাপ্ত করিয়া বিপুল স্রোতে সে তখন ছুটিয়া চলে। আবার কখনও কখনও আসে 'হড়পা' বান, ছয়-সাত হাত উচ্চ জলস্রোত সম্মুখের বাড়ি-ঘর ক্ষেত-খামার গ্রামের পর গ্রাম নিঃশেষে ধুইয়া মুছিয়া দিয়া সমস্ত দেশটাকে প্লাবিত করিয়া দিয়া যায়। কিন্তু সে সচরাচর হয় না। বিশ বৎসর পূর্বে একবার হইয়াছিল।
ক
ঘূর্ণি' অর্থ কী?

উত্তর

'ঘূর্ণি' অর্থ- জল বা বায়ুর প্রচন্ড আবর্তন।
খ
'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার কী কী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর

➤ 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার প্রমত্ত ও কল্যাণময়ী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। ➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। একটি ভয়ংকর, অন্যটি কল্যাণময়। এই ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপ পদ্মা নদীর হিংস্রতাকে নির্দেশ করে। তীব্র স্রোতে ধ্বংস করে দুই কূলের সাজানো বাগান, অসংখ্য জীবন আর জীবনের অজস্র সম্ভার। অন্যদিকে পদ্মার গতিময়তা পদ্মার কল্যাণময় রূপের প্রকাশ ঘটায়। পদ্মা যখন দুকূল ছাপিয়ে বয়ে চলে তখন পদ্মার দুই পাড় জুড়ে পড়ে পলিমাটির আন্তর। যা থেকে আবার প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে পদ্মাকে কেন্দ্র করে। সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মার দুটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' পদ্মার কোন বৈশিষ্ট্যের ধারক? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের 'ময়ূরাক্ষী' 'পদ্মা' কবিতার পদ্মা নদীর সুতীব্র গতি ও ভয়ংকর বৈশিষ্ট্যের ধারক। ➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুকে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো নদ-নদী। মানবজীবনের স্পন্দন পাওয়া যায় এসব নদ-নদীর বুকে। তবে এসব নদ-নদী কখনো কখনো বাংলার মানুষের হাহাকারের কারণ হয়ে ওঠে। জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ➤ উদ্দীপকে খরস্রোতা ময়ূরাক্ষী নদীর ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, বর্ষার প্রারম্ভে ময়ূরাক্ষী রাক্ষসীর মতো ভয়ংকরী। কখনো কখনো তার 'হড়পা' বান-এর ছয়-সাত হাত উঁচু জলস্রোত বাড়িঘর, খেত-খামার সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। 'পদ্মা' একদিকে যেমন জনজীবনে প্রাণের স্পন্দন জাগায় অন্যদিকে তেমনই ধ্বংসও ডেকে আনে। বর্ষায় পদ্মার খরস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের জীবন, সাজানো বাগান ও জীবনের নানা সম্ভার। কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার এই ভয়ংকর সর্বগ্রাসী হিংস্র বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী ধারণ করেছে। সারকথা: 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর সর্বগ্রাসী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষী নদী।
ঘ
"উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ নদীমাতৃক বাংলাদেশে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নদী একাধারে ধ্বংস ও নব- সৃষ্টির প্রতীক। নদীর সঙ্গে বাংলার মানুষের তাই নিবিড় সম্পর্ক। ➤ উদ্দীপকে ময়ূরাক্ষী নদীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বর্ষায় সুতীব্র গতির স্রোত ও ভয়ংকর রূপটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের ময়ূরাক্ষীর বিশেষত্ব তার খরস্রোতে। বর্ষায় সে রাক্ষসী ও ভয়ংকরী মূর্তি ধারণ করে। গ্রাম-লোকালয়-ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তীব্র স্রোত ও ভাঙনে। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এমন ভয়ংকর রূপটি অঙ্কন করেছেন। তবে উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রকাশ মাত্র। এটি ছাড়াও আলোচা কবিতায় পদ্মা নদীর নানামুখী ভাব ও বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। ➤ 'পদ্মা' কবিতায় কবি পদ্মার অনেক রূপ অঙ্কন করেছেন। পদ্মার হিংস্রতার বিষয় ছাড়াও পদ্মার মমতাময়ী, সৃজনশীল রূপটিও কবির চেতনায় ধরা পড়েছে। কবি এখানে পদ্মা নদীর নিরন্তর ছুটে চলা, সুতীব্র গতিময়তা, জীবনের স্পন্দন জাগানো, মুক্তিব উল্লাস ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে পদ্মা নদীর খরস্রোতা ও ভয়ংকরী রূপের প্রতি ইঙ্গিত করা হলেও পদ্মার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পদ্মা যমুনা সুরমা মেঘনা গঙ্গা কর্ণফুলী, তোমাদের বুকে আমি নিরবধি গণমানবের তুলি! কত বিচিত্র জীবনের রং চারদিকে করে খেলা, মুগ্ধ মরণ বাঁকে বাঁকে ঘুরে কাটায় মারণ বেলা!
ক
কার গতি সুতীব্র?

উত্তর

পদ্মার গতি সুতীব্র।
খ
সংগ্রামী মানুষ কীভাবে প্রচুর শস্যদানা পেয়েছে?

উত্তর

➤ সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই তীরে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা পেয়েছে। ➤ পদ্মার প্রকৃত রূপ ভয়ংকর ও প্রমত্ত। পদ্মার প্রচন্ড ঢেউয়ে দুই পাড় প্লাবিত হওয়ার ফলে পলি পড়ে পান্ডুর হয়ে যায়। তবুও পদ্মাপাড়ের সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই পাড়ের ভরসায়ই বেঁচে থাকে। তারা পদ্মার সঙ্গে সংগ্রাম করে দুই পাড়ে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। পদ্মার দুই পাড়ের ফসলই তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। তাই তারা পদ্মাপাড়ে লাঙল চালিয়ে কঠিন শ্রমের বিনিময়ে প্রচুর শস্যদানা পায়। সারকথা: জীবনের তাগিদে সংগ্রামী মানুষ পদ্মার । দুই পাড়ে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা ফলায়।
গ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে এই দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, নদীর সঙ্গে মানুষের জীবনও জড়িয়ে থাকে। ➤ নদী বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। নদীকে কেন্দ্র করে অনেকেই জীবনের স্বপ্ন সাজায়। অথচ নদী আশীর্বাদের পাশাপাশি মানুষের জন্য অনেক সময় অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ➤ উদ্দীপকে এই বাংলায় জীবনরূপ যেসব নদী নিরন্তর বয়ে চলেছে, গণশিল্পীর তুলি হাতে কবি সেই বিচিত্র জীবনেরই রূপকার। তবে কবি মনে করেন বহমান জীবন এখানে বাধাহীন নয়। বহমান নদীর বাঁকে বাঁকে পাতা রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এই রূপবৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবিতায় তিনি বলেছেন নদী যেমন মানুষের জীবিকার উৎস তেমনই কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় পদ্মার রূপ হয় অন্যরকম। তার গতিস্রোতের সামনে যা কিছু পড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রচন্ড আক্রোশে আর ভয়াবহ স্রোত শত শত নর-নারীর সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি, অসংখ্য জীবন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সর্বোপরি বলা যায় যে, মানবজীবনের সঙ্গে নদী গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার এই নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন জড়িয়ে থাকার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে থাকে। জীবিকার এ জন্য নদীতে গিয়ে মানুষ যেমন জীবিকা আহরণ করে বেঁচে থাকে তেমনই বন্যা, স্রোত ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- যথার্থতা বিচার কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। নদী এদেশের মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন নদ-নদীর সঙ্গে। ➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনা করেছেন। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের জীবন যে বিচিত্রপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে তার কথা তুলে ধরেছেন। কবির মতে এই নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন বাধাহীন নয়। নদীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও বর্ষায় মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই বিষয়টি ছাড়াও পদ্মার সৌন্দর্য, পদ্মার হিংস্রতা, পদ্মার দান এবং বাংলার মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে পদ্মার সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। উদ্দীপকে এসব বিষয় অনুপস্থিত। ➤ ' পদ্মা' কবিতায় পদ্মার বিচিত্র রূপ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন কবি। কবি একদিকে যেমন তুলে ধরেছেন পদ্মার হিংস্রতা, তেমনই অন্যদিকে তুলে ধরেছেন পদ্মার গতিশীলতা, মানুষের সঙ্গে পদ্মার সম্পর্ক, পদ্মার দান ও কৃষকের অবস্থা। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু নদীর হিংস্র রূপের প্রকাশই ঘটেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতায় নদীর হিংস্রতার দিকটি উঠে এলেও আলোচ্য কবিতার অনেক বিষয় উদ্দীপকের অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পদ্মা যমুনা সুরমা মেঘনা গঙ্গা কর্ণফুলী, তোমাদের বুকে আমি নিরবধি গণমানবের তুলি! কত বিচিত্র জীবনের রং চারদিকে করে খেলা, মুগ্ধ মরণ বাঁকে বাঁকে ঘুরে কাটায় মারণ বেলা!
ক
কার গতি সুতীব্র?

উত্তর

পদ্মার গতি সুতীব্র।
খ
সংগ্রামী মানুষ কীভাবে প্রচুর শস্যদানা পেয়েছে?

উত্তর

➤ সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই তীরে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা পেয়েছে। ➤ পদ্মার প্রকৃত রূপ ভয়ংকর ও প্রমত্ত। পদ্মার প্রচন্ড ঢেউয়ে দুই পাড় প্লাবিত হওয়ার ফলে পলি পড়ে পান্ডুর হয়ে যায়। তবুও পদ্মাপাড়ের সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই পাড়ের ভরসায়ই বেঁচে থাকে। তারা পদ্মার সঙ্গে সংগ্রাম করে দুই পাড়ে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। পদ্মার দুই পাড়ের ফসলই তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। তাই তারা পদ্মাপাড়ে লাঙল চালিয়ে কঠিন শ্রমের বিনিময়ে প্রচুর শস্যদানা পায়। সারকথা: জীবনের তাগিদে সংগ্রামী মানুষ পদ্মার । দুই পাড়ে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা ফলায়।
গ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে এই দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, নদীর সঙ্গে মানুষের জীবনও জড়িয়ে থাকে। ➤ নদী বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। নদীকে কেন্দ্র করে অনেকেই জীবনের স্বপ্ন সাজায়। অথচ নদী আশীর্বাদের পাশাপাশি মানুষের জন্য অনেক সময় অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ➤ উদ্দীপকে এই বাংলায় জীবনরূপ যেসব নদী নিরন্তর বয়ে চলেছে, গণশিল্পীর তুলি হাতে কবি সেই বিচিত্র জীবনেরই রূপকার। তবে কবি মনে করেন বহমান জীবন এখানে বাধাহীন নয়। বহমান নদীর বাঁকে বাঁকে পাতা রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এই রূপবৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবিতায় তিনি বলেছেন নদী যেমন মানুষের জীবিকার উৎস তেমনই কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় পদ্মার রূপ হয় অন্যরকম। তার গতিস্রোতের সামনে যা কিছু পড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রচন্ড আক্রোশে আর ভয়াবহ স্রোত শত শত নর-নারীর সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি, অসংখ্য জীবন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সর্বোপরি বলা যায় যে, মানবজীবনের সঙ্গে নদী গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার এই নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন জড়িয়ে থাকার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে থাকে। জীবিকার এ জন্য নদীতে গিয়ে মানুষ যেমন জীবিকা আহরণ করে বেঁচে থাকে তেমনই বন্যা, স্রোত ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- যথার্থতা বিচার কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। নদী এদেশের মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন নদ-নদীর সঙ্গে। ➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনা করেছেন। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের জীবন যে বিচিত্রপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে তার কথা তুলে ধরেছেন। কবির মতে এই নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন বাধাহীন নয়। নদীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও বর্ষায় মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই বিষয়টি ছাড়াও পদ্মার সৌন্দর্য, পদ্মার হিংস্রতা, পদ্মার দান এবং বাংলার মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে পদ্মার সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। উদ্দীপকে এসব বিষয় অনুপস্থিত। ➤ ' পদ্মা' কবিতায় পদ্মার বিচিত্র রূপ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন কবি। কবি একদিকে যেমন তুলে ধরেছেন পদ্মার হিংস্রতা, তেমনই অন্যদিকে তুলে ধরেছেন পদ্মার গতিশীলতা, মানুষের সঙ্গে পদ্মার সম্পর্ক, পদ্মার দান ও কৃষকের অবস্থা। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু নদীর হিংস্র রূপের প্রকাশই ঘটেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতায় নদীর হিংস্রতার দিকটি উঠে এলেও আলোচ্য কবিতার অনেক বিষয় উদ্দীপকের অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলা আমার আমি বাংলার বাংলা আমার জন্মভূমি গঙ্গা ও যমুনা পদ্মা ও মেঘনা বহিছে যাহার চরণ চুমি।
ক
কত সালে 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়?

উত্তর

১৯৪৪ সালে 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়।
খ
'কেঁপেছে তোমাকে দেখে জলদস্যু- দুরন্ত হার্মাদ' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ আলোচ্য চরণ দ্বারা পদ্মা নদীর উন্মত্ত ও ভয়াল রূপকে বোঝানো হয়েছে। ➤ পদ্মার চলার গতি উদ্ধত ও উদ্দাম। হিংস্র অজগরের মতো তীব্র তার প্রবাহ। সে অন্ধ রোষে ধাবমান। তার স্রোত বিক্ষুব্দ। তার চলার গতিতে উপড়ে যায় বৃক্ষ, ভেঙে যায় দুকূল। ভয়ংকর ঘূর্ণিকে সঙ্গে নিয়ে সে বয়ে চলে সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের স্বাদে তৃপ্ত করে নিজেকে। এমন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পদ্মার বুকে ভেসে চলতে চলতে দুরন্ত হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যু) বুকও কেঁপে উঠেছে। যারা বাংলায় অবাধে লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্বিচারে নারীদের ওপর অত্যাচার চালাত তারাও পদ্মার উন্মত্ত ও ভয়াল রূপের কাছে কুণ্ঠিত হয়েছে। সারকথা: পদ্মার প্রকৃত রূপ এমনই ভয়ংকর, যা দেখে জলদস্যুরাও ভয় পেয়ে যেত।
গ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ?

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ বাংলার মানুষের সাহস ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় নদী। এই নদীগুলো বাংলার মানুষকে বাঁচতে শেখায়। তাই নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের গভীর মিতালি। ➤উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এদেশে গঙ্গা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনার মতো শত শত নদী চিরন্তন রূপ নিয়ে বহমান। তাই উদ্দীপকের কবি বাংলার এই নদীগুলোর বন্দনা করেছেন। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি ফররুখ আহমদ, পদ্মার বিভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কবি পদ্মার এই প্রভাবের কথাই আলোচ্য কবিতায় বিভিন্ন উপমা ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত উভয় জায়গায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর স্তুতিই প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে বাংলাদেশের নদীর বন্দনা করা হয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও পদ্মা নদীর বন্দনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। ➤ বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশে জড়িয়ে রয়েছে নদীর সঙ্গে। তাই নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানুষ টিকে থাকে। মানুষের এই জীবনসংগ্রাম আবর্তিত হয় নদীকে কেন্দ্র করে। ➤ উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার বন্দনা করা হয়েছে। কেননা এদেশের বুকের ওপর দিয়ে অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো অনেক নদী। সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ নদী পদ্মার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবি পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বন্দনা করার দিক থেকে উদ্দীপকটির সঙ্গে 'পদ্মা' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত। কারণ কবি এই কবিতার মধ্য দিয়ে সুতীব্র পদ্মার গতিময়তা, নতুন জীবন গড়ার সম্ভাবনা, ধ্বংসাত্মক রূপ, প্রদীপ্ত স্রোতধারা প্রভৃতি বিষয় তুলে এনেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। ➤ উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতা নদী বন্দনার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি পদ্মার যে বৈচিত্র্যময় রূপ তুলে। ধরেছেন তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। সারকথা: উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার একটি মাত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। উভয় কবি নদীর বন্দনা করেছেন। কিন্তু 'পদ্মা' কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার বৈচিত্র্যময় রূপ উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ। ভাব ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলা আমার আমি বাংলার বাংলা আমার জন্মভূমি গঙ্গা ও যমুনা পদ্মা ও মেঘনা বহিছে যাহার চরণ চুমি।
ক
কত সালে 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়?

উত্তর

১৯৪৪ সালে 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়।
খ
'কেঁপেছে তোমাকে দেখে জলদস্যু- দুরন্ত হার্মাদ' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ আলোচ্য চরণ দ্বারা পদ্মা নদীর উন্মত্ত ও ভয়াল রূপকে বোঝানো হয়েছে। ➤ পদ্মার চলার গতি উদ্ধত ও উদ্দাম। হিংস্র অজগরের মতো তীব্র তার প্রবাহ। সে অন্ধ রোষে ধাবমান। তার স্রোত বিক্ষুব্দ। তার চলার গতিতে উপড়ে যায় বৃক্ষ, ভেঙে যায় দুকূল। ভয়ংকর ঘূর্ণিকে সঙ্গে নিয়ে সে বয়ে চলে সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের স্বাদে তৃপ্ত করে নিজেকে। এমন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পদ্মার বুকে ভেসে চলতে চলতে দুরন্ত হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যু) বুকও কেঁপে উঠেছে। যারা বাংলায় অবাধে লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্বিচারে নারীদের ওপর অত্যাচার চালাত তারাও পদ্মার উন্মত্ত ও ভয়াল রূপের কাছে কুণ্ঠিত হয়েছে। সারকথা: পদ্মার প্রকৃত রূপ এমনই ভয়ংকর, যা দেখে জলদস্যুরাও ভয় পেয়ে যেত।
গ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ?

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ বাংলার মানুষের সাহস ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় নদী। এই নদীগুলো বাংলার মানুষকে বাঁচতে শেখায়। তাই নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের গভীর মিতালি। ➤উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এদেশে গঙ্গা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনার মতো শত শত নদী চিরন্তন রূপ নিয়ে বহমান। তাই উদ্দীপকের কবি বাংলার এই নদীগুলোর বন্দনা করেছেন। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি ফররুখ আহমদ, পদ্মার বিভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কবি পদ্মার এই প্রভাবের কথাই আলোচ্য কবিতায় বিভিন্ন উপমা ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত উভয় জায়গায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর স্তুতিই প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে বাংলাদেশের নদীর বন্দনা করা হয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও পদ্মা নদীর বন্দনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। ➤ বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশে জড়িয়ে রয়েছে নদীর সঙ্গে। তাই নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানুষ টিকে থাকে। মানুষের এই জীবনসংগ্রাম আবর্তিত হয় নদীকে কেন্দ্র করে। ➤ উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার বন্দনা করা হয়েছে। কেননা এদেশের বুকের ওপর দিয়ে অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো অনেক নদী। সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ নদী পদ্মার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবি পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বন্দনা করার দিক থেকে উদ্দীপকটির সঙ্গে 'পদ্মা' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত। কারণ কবি এই কবিতার মধ্য দিয়ে সুতীব্র পদ্মার গতিময়তা, নতুন জীবন গড়ার সম্ভাবনা, ধ্বংসাত্মক রূপ, প্রদীপ্ত স্রোতধারা প্রভৃতি বিষয় তুলে এনেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। ➤ উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতা নদী বন্দনার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি পদ্মার যে বৈচিত্র্যময় রূপ তুলে। ধরেছেন তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। সারকথা: উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার একটি মাত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। উভয় কবি নদীর বন্দনা করেছেন। কিন্তু 'পদ্মা' কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার বৈচিত্র্যময় রূপ উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ। ভাব ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো