Chapter 1 : মৎস্য চাষ কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র

HSC কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র এর Chapter 1 : মৎস্য চাষ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪০৭

প্রশ্ন

কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

রাক্ষুসে মাছ কী?

উত্তর

যেসব মাছ খাদ্যের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এমনকি পুকুরে চাষকৃত মাছের পোনা খেয়ে ফেলে সেগুলোই হলো রাক্ষুসে মাছ।
নিরাপদে মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাছ ধরার পর দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায় বিধায় পচনের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ গুণাগুণ মান বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন। এজন্য নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ জরুরি। নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের খাদ্য উপাদান যেমন- আমিষ ও খনিজ লবণের মান সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে মাছের দেহের ভিতরের এনজাইমের ক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করা যায়। মাছের আঁইশ, ফুলকা ও পাকস্থলীতে অবস্থানকারী ক্ষতিকর জীবাণুর কার্যক্রম স্থগিত করা যায়। ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সময়কালে মাছের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। এসব কারণেই নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
চিত্রে প্রদর্শিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি হচ্ছে রাজপুঁটি। নিচে মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- ১. রাজপুঁটি বেশ শক্ত গড়নের, অধিক ফলনশীল এবং সুস্বাদু ২. এরা তুলনামূলক কম অক্সিজেন ও বেশি তাপমাত্রাযুক্ত পানিতে টিকে থাকতে পারে। ৩. এ মাছের রোগবালাই খুবই কম। ৪. অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও এ মাছ চাষ করা যায়। ৫. রাজপুঁটি প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্যই গ্রহণ করে। তবে ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ এদের প্রিয় খাদ্য। ৬. ছোট বড় সব রকমের ডোবা, পুকুর, দীঘি ও পরিত্যক্ত জলাশয়ে এমনকি ধান ক্ষেতেও চাষ করা যায়। ৭. রুই-জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও চাষ করা যায়। ৮. দেশি সরপুঁটির তুলনায় ৪০- ৫০% বেশি বাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি পুকুরে চাষ করা কি লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো রাজপুঁটি। পুকুরে রাজপুঁটি মাছ -চাষ করা লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো- রাজপুঁটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চ ফলনশীল মাছ। কম গভীরতায় অল্প দিনে ও অল্প খরচে সহজেই এ মাছ চাষ করা যায়। তবে বড় পুকুরে মিশ্র চাষ করা বেশি লাভজনক। এ মাছ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে যেকোনো ধরনের স্বল্প ব্যয়ে খাবার দিয়ে প্রতিপালন করা যায়। যেসব পরিবেশে অন্যান্য মাছ চাষ করা কষ্টসাধ্য সেসব পরিবেশে রাজপুঁটি অনায়াসে চাষ করা যায়। অন্যান্য মাছ অপেক্ষা এ জাতীয় মাছের রোগবালাই কম। এই মাছ একই পুকুরে বছরে দু'বার চাষ করা যায়। কেননা ৬ মাসের মধ্যে মাছ, বাজারজাত করার উপযোগী হয়। ৩৩ শতক পুকুর বা জলাশয়ে এককভাবে ৩০০ কেজি পর্যন্ত অর্থাৎ বছরে দু'বারে প্রায় ৬০০ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করা সহজসাধ্য ও লাভজনক। তাছাড়া বাড়ির আশপাশে চাষ করলে সংসারের অন্যান্য সদস্যরাও মাছের দেখাশুনা করতে পারে। ফলে অল্প শ্রমেই লাভবান হওয়া যায়। অতএব, উপরোল্লিখিত সুবিধার কারণেই রাজপুঁটি মাছ পুকুরে চাষ করা লাভজনক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

রাক্ষুসে মাছ কী?

উত্তর

যেসব মাছ খাদ্যের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এমনকি পুকুরে চাষকৃত মাছের পোনা খেয়ে ফেলে সেগুলোই হলো রাক্ষুসে মাছ।
নিরাপদে মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাছ ধরার পর দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায় বিধায় পচনের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ গুণাগুণ মান বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন। এজন্য নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ জরুরি। নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের খাদ্য উপাদান যেমন- আমিষ ও খনিজ লবণের মান সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে মাছের দেহের ভিতরের এনজাইমের ক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করা যায়। মাছের আঁইশ, ফুলকা ও পাকস্থলীতে অবস্থানকারী ক্ষতিকর জীবাণুর কার্যক্রম স্থগিত করা যায়। ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সময়কালে মাছের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। এসব কারণেই নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
চিত্রে প্রদর্শিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি হচ্ছে রাজপুঁটি। নিচে মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- ১. রাজপুঁটি বেশ শক্ত গড়নের, অধিক ফলনশীল এবং সুস্বাদু ২. এরা তুলনামূলক কম অক্সিজেন ও বেশি তাপমাত্রাযুক্ত পানিতে টিকে থাকতে পারে। ৩. এ মাছের রোগবালাই খুবই কম। ৪. অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও এ মাছ চাষ করা যায়। ৫. রাজপুঁটি প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্যই গ্রহণ করে। তবে ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ এদের প্রিয় খাদ্য। ৬. ছোট বড় সব রকমের ডোবা, পুকুর, দীঘি ও পরিত্যক্ত জলাশয়ে এমনকি ধান ক্ষেতেও চাষ করা যায়। ৭. রুই-জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও চাষ করা যায়। ৮. দেশি সরপুঁটির তুলনায় ৪০- ৫০% বেশি বাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি পুকুরে চাষ করা কি লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো রাজপুঁটি। পুকুরে রাজপুঁটি মাছ -চাষ করা লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো- রাজপুঁটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চ ফলনশীল মাছ। কম গভীরতায় অল্প দিনে ও অল্প খরচে সহজেই এ মাছ চাষ করা যায়। তবে বড় পুকুরে মিশ্র চাষ করা বেশি লাভজনক। এ মাছ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে যেকোনো ধরনের স্বল্প ব্যয়ে খাবার দিয়ে প্রতিপালন করা যায়। যেসব পরিবেশে অন্যান্য মাছ চাষ করা কষ্টসাধ্য সেসব পরিবেশে রাজপুঁটি অনায়াসে চাষ করা যায়। অন্যান্য মাছ অপেক্ষা এ জাতীয় মাছের রোগবালাই কম। এই মাছ একই পুকুরে বছরে দু'বার চাষ করা যায়। কেননা ৬ মাসের মধ্যে মাছ, বাজারজাত করার উপযোগী হয়। ৩৩ শতক পুকুর বা জলাশয়ে এককভাবে ৩০০ কেজি পর্যন্ত অর্থাৎ বছরে দু'বারে প্রায় ৬০০ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করা সহজসাধ্য ও লাভজনক। তাছাড়া বাড়ির আশপাশে চাষ করলে সংসারের অন্যান্য সদস্যরাও মাছের দেখাশুনা করতে পারে। ফলে অল্প শ্রমেই লাভবান হওয়া যায়। অতএব, উপরোল্লিখিত সুবিধার কারণেই রাজপুঁটি মাছ পুকুরে চাষ করা লাভজনক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহাত তার বাবার সাথে বাজারে গিয়ে দেখলো যে, একজন মাছ ব্যবসায়ীর ঝুড়িতে বরফের স্তরে স্তরে মাছ সাজানো আছে। রাহাত বরফের স্তরে এভাবে মাছ সাজানোর কারণ জানতে চাইলো। এ বিষয়ে তার বাবা বললেন, এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় যাতে মাছগুলো পচে নষ্ট না হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

Jessore · 2025

একুয়াকালচার কী?

উত্তর

পানিতে বসবাসকারী প্রাণীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন ও লালন, বৃদ্ধি ও যত্ন করা বা উৎপাদন করাই হলো মাৎস্য চাষ বা একুয়াকালচার।
রোগাক্রান্ত মাছ কীভাবে চেনা যায়?

উত্তর

নিচে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে রোগাক্রান্ত মাছ চেনা যায়- ১. মাছ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয় অথবা স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহণ করে না। ২. মাছ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং অলসভাবে পানিতে ভেসে থাকে। ৩. মাছ পানিতে ভেসে উঠে খাবি খায় এবং মাথা কাত করে বৃত্তাকারে ঘোরে। ৪. অনেক সময় মাছের ফুলকা, আঁইশ, ত্বক বা পাখনায় ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়। ৫. আক্রান্ত মাছের আঁইশ ফুলে ওঠে বা খসে পড়ে এবং মাছের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হলো বরফজাতকরণ। নিচে বরফজাতকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ সংরক্ষণের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে বরফজাতকরণ। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মাছকে সাধারণ পানিতে ধুয়ে নেওয়া, হয়। এক্ষেত্রে মাছের আঁইশ কিংবা নাড়িভুঁড়ি বের করা হয় না। অতঃপর টুকরি বা ঝুড়িটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভিতরের চারদিকে চটের একটি আস্তরণ দেওয়া হয়। টুকরি বা ঝুড়ির তলায় ১.৫-২ ইঞ্চি পুরু করে টুকরা করা বরফের স্তর দেওয়া হয়। এরপর এক স্তর মাছ একস্তর বরফ এভাবে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে ঝুড়িটি ভর্তি করা হয়। এভাবে মাছের সর্বশেষ স্তরের উপরে এক স্তর বরফ দিয়ে তার উপরে একটি চটের টুকরা দিয়ে ঢেকে সেলাই করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বরফ ও মাছের অনুপাত মাছের ওজন ও ঋতুর উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বরফ ও মাছের অনুপাত গ্রীষ্মকালে ২:১ ও শীতকালে ১: ১ রাখা হয়। উপরোক্ত উপায়ে সঠিক পরিচর্যা, বরফ ও মাছের সঠিক অনুপাত ও সঠিক পাত্র ব্যবহার করা হলে মাছ ও চিংড়িকে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হচ্ছে বরফজাতকরণ পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে সম্পর্কে নিচে মতামত উপস্থাপন করা হলো- মাছ অতি দ্রুত পচনশীল প্রাণী। এ কারণে আহরণের পরপরই ধৃত মাছের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য মাছ সংরক্ষণ অতীব জরুরি। মাছ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে বরফজাতকরণ পদ্ধতি অন্যতম। এটি একটি স্বল্পকালীন মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি। বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে বছরের যেকোনো সময় মাছ সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে সহজ। ছোট বড় সব ধরনের মাছই এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। বরফ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ সহজে যেকোনো জায়গায় পরিবহন করা যায়। মাছ ধরা বা সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গেই বরফে রাখা যায়, বিশেষ করে ট্রলার, নৌকা ও হাট-বাজারে। আমাদের দেশে বরফ তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এ পদ্ধতি লাভজনক। আর এ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মাছের গুণাগুণ টাটকা মাছের গুণাগুণের অনুরূপ থাকে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও অবকাঠামোর প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতি একটি সহজ, কার্যকর ও তুলনামূলকভাবে সস্তা সংরক্ষণ পদ্ধতি। এজন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদ্ধতিটি খুবই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহাত তার বাবার সাথে বাজারে গিয়ে দেখলো যে, একজন মাছ ব্যবসায়ীর ঝুড়িতে বরফের স্তরে স্তরে মাছ সাজানো আছে। রাহাত বরফের স্তরে এভাবে মাছ সাজানোর কারণ জানতে চাইলো। এ বিষয়ে তার বাবা বললেন, এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় যাতে মাছগুলো পচে নষ্ট না হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

Jessore · 2025

একুয়াকালচার কী?

উত্তর

পানিতে বসবাসকারী প্রাণীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন ও লালন, বৃদ্ধি ও যত্ন করা বা উৎপাদন করাই হলো মাৎস্য চাষ বা একুয়াকালচার।
রোগাক্রান্ত মাছ কীভাবে চেনা যায়?

উত্তর

নিচে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে রোগাক্রান্ত মাছ চেনা যায়- ১. মাছ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয় অথবা স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহণ করে না। ২. মাছ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং অলসভাবে পানিতে ভেসে থাকে। ৩. মাছ পানিতে ভেসে উঠে খাবি খায় এবং মাথা কাত করে বৃত্তাকারে ঘোরে। ৪. অনেক সময় মাছের ফুলকা, আঁইশ, ত্বক বা পাখনায় ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়। ৫. আক্রান্ত মাছের আঁইশ ফুলে ওঠে বা খসে পড়ে এবং মাছের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হলো বরফজাতকরণ। নিচে বরফজাতকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ সংরক্ষণের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে বরফজাতকরণ। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মাছকে সাধারণ পানিতে ধুয়ে নেওয়া, হয়। এক্ষেত্রে মাছের আঁইশ কিংবা নাড়িভুঁড়ি বের করা হয় না। অতঃপর টুকরি বা ঝুড়িটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভিতরের চারদিকে চটের একটি আস্তরণ দেওয়া হয়। টুকরি বা ঝুড়ির তলায় ১.৫-২ ইঞ্চি পুরু করে টুকরা করা বরফের স্তর দেওয়া হয়। এরপর এক স্তর মাছ একস্তর বরফ এভাবে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে ঝুড়িটি ভর্তি করা হয়। এভাবে মাছের সর্বশেষ স্তরের উপরে এক স্তর বরফ দিয়ে তার উপরে একটি চটের টুকরা দিয়ে ঢেকে সেলাই করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বরফ ও মাছের অনুপাত মাছের ওজন ও ঋতুর উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বরফ ও মাছের অনুপাত গ্রীষ্মকালে ২:১ ও শীতকালে ১: ১ রাখা হয়। উপরোক্ত উপায়ে সঠিক পরিচর্যা, বরফ ও মাছের সঠিক অনুপাত ও সঠিক পাত্র ব্যবহার করা হলে মাছ ও চিংড়িকে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হচ্ছে বরফজাতকরণ পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে সম্পর্কে নিচে মতামত উপস্থাপন করা হলো- মাছ অতি দ্রুত পচনশীল প্রাণী। এ কারণে আহরণের পরপরই ধৃত মাছের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য মাছ সংরক্ষণ অতীব জরুরি। মাছ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে বরফজাতকরণ পদ্ধতি অন্যতম। এটি একটি স্বল্পকালীন মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি। বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে বছরের যেকোনো সময় মাছ সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে সহজ। ছোট বড় সব ধরনের মাছই এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। বরফ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ সহজে যেকোনো জায়গায় পরিবহন করা যায়। মাছ ধরা বা সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গেই বরফে রাখা যায়, বিশেষ করে ট্রলার, নৌকা ও হাট-বাজারে। আমাদের দেশে বরফ তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এ পদ্ধতি লাভজনক। আর এ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মাছের গুণাগুণ টাটকা মাছের গুণাগুণের অনুরূপ থাকে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও অবকাঠামোর প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতি একটি সহজ, কার্যকর ও তুলনামূলকভাবে সস্তা সংরক্ষণ পদ্ধতি। এজন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদ্ধতিটি খুবই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Dhaka · 2025

মাছের সম্পূরক খাদ্য কী?

উত্তর

মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পানিতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যেসব বাড়তি খাদ্য দেওয়া হয় সেগুলোই হলো মাছের সম্পূরক খাদ্য।
মাছ শুঁটকিকরণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শুঁটকিকরণ প্রক্রিয়ায় তাপ প্রয়োগে মাছের দেহস্থিত পানি অপসারণ করে মাছকে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। সূর্যালোক ব্যবহার করে মাছ শুঁটকিকরণ করা হয়। এর ফলে মাছের শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও দেহস্থ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। শুঁটকিকরণের মাধ্যমে মাছকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। শুঁটকিকরণ মাছের পচন রোধ করে দীর্ঘদিন মাছ ভালো রাখে। দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জন্য মাছ সংরক্ষণে এটি একটি সহজ উপায়।
উদ্দীপকের ছকে মাছ সংরক্ষণের ৩নং পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ছকে দেখানো মাছ সংরক্ষণের ৩নং পদ্ধতিটি হচ্ছে ক্যানিং বা টিনজাতকরণ। নিচে পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বায়ুশূন্য পাত্রে সংরক্ষণ করাই হচ্ছে ক্যানিং। এ পদ্ধতিতে তিন বছর পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যায়। প্রথমে মাছের মাথা, পাখনা, আঁইশ নাড়িভুঁড়ি অপসারণ করে পানি দিয়ে ধুয়ে টুকরা করা হয়। টুকরা মাছ লবণ পানিতে ধুয়ে নিয়ে পুনরায় পরিষ্কার পানিতে ধোয়া হয়। লবণ দ্রবণে মাছের টুকরাগুলোকে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে ঠাণ্ডা করা হয়। এ সিদ্ধ মাছগুলো জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টিনের কৌটায় স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখতে হবে। প্রতি স্তরে বিভিন্ন রকম মসলা, তেল, সস, লবণ ইত্যাদি দিতে হয়। এভাবে টিনের কৌটা ভর্তি করতে হবে যাতে কোথাও ফাঁকা না থাকে। তবে টিনের কৌটার উপরে ঢাকনার নিচে একটু ফাঁকা রাখতে হবে। মেশিনের সাহায্যে কৌটাকে বায়ুশূন্য করে মুখ বন্ধ করতে হবে। কৌটার বহির্ভাগের ময়লা সোডিয়াম ফসফেট মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে ধুতে হয়। এরপর উচ্চতাপ দিয়ে কৌটার ভিতরে মাছকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এখানে ১২০° সে. তাপমাত্রায়, ৫০-৬০ মিনিট উত্তপ্ত করা হয়। তাপ দেওয়া শেষ হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে কৌটা ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর টিনের কৌটার গায়ে লেবেলিং করা হয়। লেবেলিং কাগজে মাছের জাত, ওজন, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, কোম্পানির নাম, মাছ ছাড়া অন্যান্য দ্রব্যের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ থাকবে।
উদ্দীপকের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটিতে এবং কেন বেশিদিন মাছ সংরক্ষণ থাকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের পদ্ধতিগুলো হলো বরফজাতকরণ, হিমায়িতকরণ, টিনজাতকরণ ও ধূমায়িতকরণ। পদ্ধতিগুলোর মধ্যে টিনজাতকরণ পদ্ধতি দ্বারা বেশি দিন মাছ সংরক্ষণ থাকে। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো- ক্যানিং বা টিনজাতকরণ মাছ সংরক্ষণের একটি আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্যকে বায়ুরোধী অবস্থায় বা তাপে শোধিত করে সাধারণত প্রিজারভেটিভ যোগ করে কৌটার মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়, যেন এর খাদ্যমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার, বায়ু বা অক্সিজেন (O2)(O_2) হলো খাদ্যদ্রব্য পচনের অন্যতম সহায়ক। কারণ O2O_2 এর উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, এবং O2O_2 এর প্রতুলতা খাদ্যবস্তুতে কিছু কিছু অণুজীবের জৈবিক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ক্যানিং বা টিনজাতকরণ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দূর করে খাদ্যকে জারণ প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া এনজাইম বিনষ্ট এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের জন্যেও এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। এ পদ্ধতিতে ৩ বছর পর্যন্ত মাছের গুণগত মান ভালো থাকে। অন্যদিকে, বরফজাতকরণ প্রক্রিয়ায় বরফ দিয়ে মাছের তাপমাত্রা ০-৩ ডিগ্রি সে. করা হয়। এতে ৩-৫ দিন মাছ সংরক্ষিত থাকে। হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে মাছের দেহের ভিতরে পানি ও মাংসপেশিকে বরফে পরিণত করে সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণত ১৮ ডিগ্রি সে. বা এর নিচে হিমায়িত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১ বছর পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যায়। আর ধূমায়িতকরণ পদ্ধতিতে কাঠ পোড়ানো ধোঁয়া দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাছ ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। অতএব দেখা যাচ্ছে, মাছ সংরক্ষণের সকল পদ্ধতির মধ্যে একমাত্র টিনজাতকরণ পদ্ধতিতেই মাছ বেশিদিন সংরক্ষণে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Dhaka · 2025

মাছের সম্পূরক খাদ্য কী?

উত্তর

মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পানিতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যেসব বাড়তি খাদ্য দেওয়া হয় সেগুলোই হলো মাছের সম্পূরক খাদ্য।
মাছ শুঁটকিকরণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শুঁটকিকরণ প্রক্রিয়ায় তাপ প্রয়োগে মাছের দেহস্থিত পানি অপসারণ করে মাছকে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। সূর্যালোক ব্যবহার করে মাছ শুঁটকিকরণ করা হয়। এর ফলে মাছের শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও দেহস্থ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। শুঁটকিকরণের মাধ্যমে মাছকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। শুঁটকিকরণ মাছের পচন রোধ করে দীর্ঘদিন মাছ ভালো রাখে। দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জন্য মাছ সংরক্ষণে এটি একটি সহজ উপায়।
উদ্দীপকের ছকে মাছ সংরক্ষণের ৩নং পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ছকে দেখানো মাছ সংরক্ষণের ৩নং পদ্ধতিটি হচ্ছে ক্যানিং বা টিনজাতকরণ। নিচে পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বায়ুশূন্য পাত্রে সংরক্ষণ করাই হচ্ছে ক্যানিং। এ পদ্ধতিতে তিন বছর পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যায়। প্রথমে মাছের মাথা, পাখনা, আঁইশ নাড়িভুঁড়ি অপসারণ করে পানি দিয়ে ধুয়ে টুকরা করা হয়। টুকরা মাছ লবণ পানিতে ধুয়ে নিয়ে পুনরায় পরিষ্কার পানিতে ধোয়া হয়। লবণ দ্রবণে মাছের টুকরাগুলোকে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে ঠাণ্ডা করা হয়। এ সিদ্ধ মাছগুলো জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টিনের কৌটায় স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখতে হবে। প্রতি স্তরে বিভিন্ন রকম মসলা, তেল, সস, লবণ ইত্যাদি দিতে হয়। এভাবে টিনের কৌটা ভর্তি করতে হবে যাতে কোথাও ফাঁকা না থাকে। তবে টিনের কৌটার উপরে ঢাকনার নিচে একটু ফাঁকা রাখতে হবে। মেশিনের সাহায্যে কৌটাকে বায়ুশূন্য করে মুখ বন্ধ করতে হবে। কৌটার বহির্ভাগের ময়লা সোডিয়াম ফসফেট মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে ধুতে হয়। এরপর উচ্চতাপ দিয়ে কৌটার ভিতরে মাছকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এখানে ১২০° সে. তাপমাত্রায়, ৫০-৬০ মিনিট উত্তপ্ত করা হয়। তাপ দেওয়া শেষ হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে কৌটা ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর টিনের কৌটার গায়ে লেবেলিং করা হয়। লেবেলিং কাগজে মাছের জাত, ওজন, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, কোম্পানির নাম, মাছ ছাড়া অন্যান্য দ্রব্যের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ থাকবে।
উদ্দীপকের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটিতে এবং কেন বেশিদিন মাছ সংরক্ষণ থাকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের পদ্ধতিগুলো হলো বরফজাতকরণ, হিমায়িতকরণ, টিনজাতকরণ ও ধূমায়িতকরণ। পদ্ধতিগুলোর মধ্যে টিনজাতকরণ পদ্ধতি দ্বারা বেশি দিন মাছ সংরক্ষণ থাকে। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো- ক্যানিং বা টিনজাতকরণ মাছ সংরক্ষণের একটি আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্যকে বায়ুরোধী অবস্থায় বা তাপে শোধিত করে সাধারণত প্রিজারভেটিভ যোগ করে কৌটার মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়, যেন এর খাদ্যমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার, বায়ু বা অক্সিজেন (O2)(O_2) হলো খাদ্যদ্রব্য পচনের অন্যতম সহায়ক। কারণ O2O_2 এর উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, এবং O2O_2 এর প্রতুলতা খাদ্যবস্তুতে কিছু কিছু অণুজীবের জৈবিক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ক্যানিং বা টিনজাতকরণ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দূর করে খাদ্যকে জারণ প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া এনজাইম বিনষ্ট এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের জন্যেও এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। এ পদ্ধতিতে ৩ বছর পর্যন্ত মাছের গুণগত মান ভালো থাকে। অন্যদিকে, বরফজাতকরণ প্রক্রিয়ায় বরফ দিয়ে মাছের তাপমাত্রা ০-৩ ডিগ্রি সে. করা হয়। এতে ৩-৫ দিন মাছ সংরক্ষিত থাকে। হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে মাছের দেহের ভিতরে পানি ও মাংসপেশিকে বরফে পরিণত করে সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণত ১৮ ডিগ্রি সে. বা এর নিচে হিমায়িত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১ বছর পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যায়। আর ধূমায়িতকরণ পদ্ধতিতে কাঠ পোড়ানো ধোঁয়া দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাছ ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। অতএব দেখা যাচ্ছে, মাছ সংরক্ষণের সকল পদ্ধতির মধ্যে একমাত্র টিনজাতকরণ পদ্ধতিতেই মাছ বেশিদিন সংরক্ষণে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তাসরীফের পুকুরে কিছু রাজপুঁটি মাছ ভেসে উঠেছে। সে একটি মাছ পুকুর থেকে উঠিয়ে দেখেন দেহে লালদাগ ও ক্ষত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাসরীফ এ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে রোগ অন্য মাছে ছড়ায় নি।

Dhaka · 2025

প্ল্যাঙ্কটন কী?

উত্তর

প্ল্যাঙ্কটন হলো পানিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণ ঠিক রাখার জন্য এবং পানি মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য পুকুরের পানিতে চুন প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া পুকুরের মাটি ও পানি দূষণমুক্ত করা, মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পানিতে ক্যালসিয়াম বাড়াতে তথা পুকুরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য পুকুরের পানিতে চুন প্রয়োগ করা হয়।
তাসরীফ তার পুকুরের মাছের রোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

তাসরীফের পুকুরের মাছ ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মাছের ক্ষতরোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মাছের ক্ষতরোগের কারণ হলো Aphanomyces infadans নামক ব্যাকটেরিয়া। এই রোগটি সাধারণত পুকুরের তলায় বসবাসকারী মাছে বেশি হয়ে থাকে। উদ্দীপকে তাসরীফের পুকুরে চাষকৃত রাঁজপুটি মাছ ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই এই রোগ সারানো ও বিস্তার রোধে তিনি প্রতি কেজি খাবারের সাথে ১০০ মি. গ্রা. 'টেরামাইসিন' ওষুধ পরপর ৭-১০ দিন প্রয়োগ করেন। আক্রান্ত পুকুরের প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন এবং ৩.৫ কেজি লবণ একত্রে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেন। এছাড়াও আক্রান্ত মাছকে ৫ পিপিএম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ১ ঘণ্টা অথবা ১ পিপিএম তুঁতের দ্রবণে ১০-১৫ মিনিট গোসল করান। পাশাপাশি তিনি পুকুর আগাছামুক্ত রাখেন এবং জৈব সারের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তাসরীফের পুকুরে রাজপুঁটি মাছ ক্ষত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাকে মাছের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। নিচে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো- পুকুরে মাছ ভেসে উঠা এবং দেহে লাল দাগ ও ক্ষতের উপস্থিতি মাছের ক্ষত রোগের স্পষ্ট লক্ষণ। এ অবস্থায় তাসরীফ নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উক্ত রোগের লক্ষণ পর্যালোচনার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেন। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় তাসরীফ আক্রান্ত মাছের যথাযথ চিকিৎসা করতে পেরেছেন। যার ফলে তার মাছ চাষের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে নি এবং আর্থিকভাবে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয় নি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রোগটি আর অন্য মাছে ছড়ায় নি। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তাসরীফ পুকুরে চুন প্রয়োগ, মাছের শোধন, ওষুধ প্রয়োগ ইত্যাদি কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করে মাছের ক্ষত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খুবই কার্যকর ও অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তাসরীফের পুকুরে কিছু রাজপুঁটি মাছ ভেসে উঠেছে। সে একটি মাছ পুকুর থেকে উঠিয়ে দেখেন দেহে লালদাগ ও ক্ষত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাসরীফ এ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে রোগ অন্য মাছে ছড়ায় নি।

Dhaka · 2025

প্ল্যাঙ্কটন কী?

উত্তর

প্ল্যাঙ্কটন হলো পানিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণ ঠিক রাখার জন্য এবং পানি মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য পুকুরের পানিতে চুন প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া পুকুরের মাটি ও পানি দূষণমুক্ত করা, মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পানিতে ক্যালসিয়াম বাড়াতে তথা পুকুরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য পুকুরের পানিতে চুন প্রয়োগ করা হয়।
তাসরীফ তার পুকুরের মাছের রোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

তাসরীফের পুকুরের মাছ ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মাছের ক্ষতরোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- মাছের ক্ষতরোগের কারণ হলো Aphanomyces infadans নামক ব্যাকটেরিয়া। এই রোগটি সাধারণত পুকুরের তলায় বসবাসকারী মাছে বেশি হয়ে থাকে। উদ্দীপকে তাসরীফের পুকুরে চাষকৃত রাঁজপুটি মাছ ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই এই রোগ সারানো ও বিস্তার রোধে তিনি প্রতি কেজি খাবারের সাথে ১০০ মি. গ্রা. 'টেরামাইসিন' ওষুধ পরপর ৭-১০ দিন প্রয়োগ করেন। আক্রান্ত পুকুরের প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন এবং ৩.৫ কেজি লবণ একত্রে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেন। এছাড়াও আক্রান্ত মাছকে ৫ পিপিএম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ১ ঘণ্টা অথবা ১ পিপিএম তুঁতের দ্রবণে ১০-১৫ মিনিট গোসল করান। পাশাপাশি তিনি পুকুর আগাছামুক্ত রাখেন এবং জৈব সারের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তাসরীফের পুকুরে রাজপুঁটি মাছ ক্ষত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাকে মাছের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। নিচে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো- পুকুরে মাছ ভেসে উঠা এবং দেহে লাল দাগ ও ক্ষতের উপস্থিতি মাছের ক্ষত রোগের স্পষ্ট লক্ষণ। এ অবস্থায় তাসরীফ নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উক্ত রোগের লক্ষণ পর্যালোচনার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেন। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় তাসরীফ আক্রান্ত মাছের যথাযথ চিকিৎসা করতে পেরেছেন। যার ফলে তার মাছ চাষের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে নি এবং আর্থিকভাবে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয় নি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রোগটি আর অন্য মাছে ছড়ায় নি। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তাসরীফ পুকুরে চুন প্রয়োগ, মাছের শোধন, ওষুধ প্রয়োগ ইত্যাদি কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করে মাছের ক্ষত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খুবই কার্যকর ও অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

রাক্ষুসে মাছ কী?

উত্তর

যেসব মাছ খাদ্যের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এমনকি পুকুরে চাষকৃত মাছের পোনা খেয়ে ফেলে সেগুলোই হলো রাক্ষুসে মাছ।
নিরাপদে মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাছ ধরার পর দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায় বিধায় পচনের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ গুণাগুণ মান বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন। এজন্য নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ জরুরি। নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের খাদ্য উপাদান যেমন- আমিষ ও খনিজ লবণের মান সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে মাছের দেহের ভিতরের এনজাইমের ক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করা যায়। মাছের আঁইশ, ফুলকা ও পাকস্থলীতে অবস্থানকারী ক্ষতিকর জীবাণুর কার্যক্রম স্থগিত করা যায়। ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সময়কালে মাছের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। এসব কারণেই নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
চিত্রে প্রদর্শিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি হচ্ছে রাজপুঁটি। নিচে মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- ১. রাজপুঁটি বেশ শক্ত গড়নের, অধিক ফলনশীল এবং সুস্বাদু ২. এরা তুলনামূলক কম অক্সিজেন ও বেশি তাপমাত্রাযুক্ত পানিতে টিকে থাকতে পারে। ৩. এ মাছের রোগবালাই খুবই কম। ৪. অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও এ মাছ চাষ করা যায়। ৫. রাজপুঁটি প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্যই গ্রহণ করে। তবে ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ এদের প্রিয় খাদ্য। ৬. ছোট বড় সব রকমের ডোবা, পুকুর, দীঘি ও পরিত্যক্ত জলাশয়ে এমনকি ধান ক্ষেতেও চাষ করা যায়। ৭. রুই-জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও চাষ করা যায়। ৮. দেশি সরপুঁটির তুলনায় ৪০- ৫০% বেশি বাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি পুকুরে চাষ করা কি লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো রাজপুঁটি। পুকুরে রাজপুঁটি মাছ -চাষ করা লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো- রাজপুঁটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চ ফলনশীল মাছ। কম গভীরতায় অল্প দিনে ও অল্প খরচে সহজেই এ মাছ চাষ করা যায়। তবে বড় পুকুরে মিশ্র চাষ করা বেশি লাভজনক। এ মাছ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে যেকোনো ধরনের স্বল্প ব্যয়ে খাবার দিয়ে প্রতিপালন করা যায়। যেসব পরিবেশে অন্যান্য মাছ চাষ করা কষ্টসাধ্য সেসব পরিবেশে রাজপুঁটি অনায়াসে চাষ করা যায়। অন্যান্য মাছ অপেক্ষা এ জাতীয় মাছের রোগবালাই কম। এই মাছ একই পুকুরে বছরে দু'বার চাষ করা যায়। কেননা ৬ মাসের মধ্যে মাছ, বাজারজাত করার উপযোগী হয়। ৩৩ শতক পুকুর বা জলাশয়ে এককভাবে ৩০০ কেজি পর্যন্ত অর্থাৎ বছরে দু'বারে প্রায় ৬০০ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করা সহজসাধ্য ও লাভজনক। তাছাড়া বাড়ির আশপাশে চাষ করলে সংসারের অন্যান্য সদস্যরাও মাছের দেখাশুনা করতে পারে। ফলে অল্প শ্রমেই লাভবান হওয়া যায়। অতএব, উপরোল্লিখিত সুবিধার কারণেই রাজপুঁটি মাছ পুকুরে চাষ করা লাভজনক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

রাক্ষুসে মাছ কী?

উত্তর

যেসব মাছ খাদ্যের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এমনকি পুকুরে চাষকৃত মাছের পোনা খেয়ে ফেলে সেগুলোই হলো রাক্ষুসে মাছ।
নিরাপদে মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাছ ধরার পর দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায় বিধায় পচনের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ গুণাগুণ মান বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন। এজন্য নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ জরুরি। নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের খাদ্য উপাদান যেমন- আমিষ ও খনিজ লবণের মান সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে মাছের দেহের ভিতরের এনজাইমের ক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করা যায়। মাছের আঁইশ, ফুলকা ও পাকস্থলীতে অবস্থানকারী ক্ষতিকর জীবাণুর কার্যক্রম স্থগিত করা যায়। ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সময়কালে মাছের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। এসব কারণেই নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
চিত্রে প্রদর্শিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি হচ্ছে রাজপুঁটি। নিচে মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- ১. রাজপুঁটি বেশ শক্ত গড়নের, অধিক ফলনশীল এবং সুস্বাদু ২. এরা তুলনামূলক কম অক্সিজেন ও বেশি তাপমাত্রাযুক্ত পানিতে টিকে থাকতে পারে। ৩. এ মাছের রোগবালাই খুবই কম। ৪. অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও এ মাছ চাষ করা যায়। ৫. রাজপুঁটি প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্যই গ্রহণ করে। তবে ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ এদের প্রিয় খাদ্য। ৬. ছোট বড় সব রকমের ডোবা, পুকুর, দীঘি ও পরিত্যক্ত জলাশয়ে এমনকি ধান ক্ষেতেও চাষ করা যায়। ৭. রুই-জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতেও চাষ করা যায়। ৮. দেশি সরপুঁটির তুলনায় ৪০- ৫০% বেশি বাড়ে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি পুকুরে চাষ করা কি লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো রাজপুঁটি। পুকুরে রাজপুঁটি মাছ -চাষ করা লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো- রাজপুঁটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চ ফলনশীল মাছ। কম গভীরতায় অল্প দিনে ও অল্প খরচে সহজেই এ মাছ চাষ করা যায়। তবে বড় পুকুরে মিশ্র চাষ করা বেশি লাভজনক। এ মাছ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে যেকোনো ধরনের স্বল্প ব্যয়ে খাবার দিয়ে প্রতিপালন করা যায়। যেসব পরিবেশে অন্যান্য মাছ চাষ করা কষ্টসাধ্য সেসব পরিবেশে রাজপুঁটি অনায়াসে চাষ করা যায়। অন্যান্য মাছ অপেক্ষা এ জাতীয় মাছের রোগবালাই কম। এই মাছ একই পুকুরে বছরে দু'বার চাষ করা যায়। কেননা ৬ মাসের মধ্যে মাছ, বাজারজাত করার উপযোগী হয়। ৩৩ শতক পুকুর বা জলাশয়ে এককভাবে ৩০০ কেজি পর্যন্ত অর্থাৎ বছরে দু'বারে প্রায় ৬০০ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করা সহজসাধ্য ও লাভজনক। তাছাড়া বাড়ির আশপাশে চাষ করলে সংসারের অন্যান্য সদস্যরাও মাছের দেখাশুনা করতে পারে। ফলে অল্প শ্রমেই লাভবান হওয়া যায়। অতএব, উপরোল্লিখিত সুবিধার কারণেই রাজপুঁটি মাছ পুকুরে চাষ করা লাভজনক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহাত তার বাবার সাথে বাজারে গিয়ে দেখলো যে, একজন মাছ ব্যবসায়ীর ঝুড়িতে বরফের স্তরে স্তরে মাছ সাজানো আছে। রাহাত বরফের স্তরে এভাবে মাছ সাজানোর কারণ জানতে চাইলো। এ বিষয়ে তার বাবা বললেন, এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় যাতে মাছগুলো পচে নষ্ট না হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

Jessore · 2025

একুয়াকালচার কী?

উত্তর

পানিতে বসবাসকারী প্রাণীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন ও লালন, বৃদ্ধি ও যত্ন করা বা উৎপাদন করাই হলো মাৎস্য চাষ বা একুয়াকালচার।
রোগাক্রান্ত মাছ কীভাবে চেনা যায়?

উত্তর

নিচে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে রোগাক্রান্ত মাছ চেনা যায়- ১. মাছ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয় অথবা স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহণ করে না। ২. মাছ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং অলসভাবে পানিতে ভেসে থাকে। ৩. মাছ পানিতে ভেসে উঠে খাবি খায় এবং মাথা কাত করে বৃত্তাকারে ঘোরে। ৪. অনেক সময় মাছের ফুলকা, আঁইশ, ত্বক বা পাখনায় ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়। ৫. আক্রান্ত মাছের আঁইশ ফুলে ওঠে বা খসে পড়ে এবং মাছের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হলো বরফজাতকরণ। নিচে বরফজাতকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ সংরক্ষণের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে বরফজাতকরণ। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মাছকে সাধারণ পানিতে ধুয়ে নেওয়া, হয়। এক্ষেত্রে মাছের আঁইশ কিংবা নাড়িভুঁড়ি বের করা হয় না। অতঃপর টুকরি বা ঝুড়িটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভিতরের চারদিকে চটের একটি আস্তরণ দেওয়া হয়। টুকরি বা ঝুড়ির তলায় ১.৫-২ ইঞ্চি পুরু করে টুকরা করা বরফের স্তর দেওয়া হয়। এরপর এক স্তর মাছ একস্তর বরফ এভাবে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে ঝুড়িটি ভর্তি করা হয়। এভাবে মাছের সর্বশেষ স্তরের উপরে এক স্তর বরফ দিয়ে তার উপরে একটি চটের টুকরা দিয়ে ঢেকে সেলাই করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বরফ ও মাছের অনুপাত মাছের ওজন ও ঋতুর উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বরফ ও মাছের অনুপাত গ্রীষ্মকালে ২:১ ও শীতকালে ১: ১ রাখা হয়। উপরোক্ত উপায়ে সঠিক পরিচর্যা, বরফ ও মাছের সঠিক অনুপাত ও সঠিক পাত্র ব্যবহার করা হলে মাছ ও চিংড়িকে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হচ্ছে বরফজাতকরণ পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে সম্পর্কে নিচে মতামত উপস্থাপন করা হলো- মাছ অতি দ্রুত পচনশীল প্রাণী। এ কারণে আহরণের পরপরই ধৃত মাছের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য মাছ সংরক্ষণ অতীব জরুরি। মাছ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে বরফজাতকরণ পদ্ধতি অন্যতম। এটি একটি স্বল্পকালীন মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি। বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে বছরের যেকোনো সময় মাছ সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে সহজ। ছোট বড় সব ধরনের মাছই এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। বরফ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ সহজে যেকোনো জায়গায় পরিবহন করা যায়। মাছ ধরা বা সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গেই বরফে রাখা যায়, বিশেষ করে ট্রলার, নৌকা ও হাট-বাজারে। আমাদের দেশে বরফ তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এ পদ্ধতি লাভজনক। আর এ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মাছের গুণাগুণ টাটকা মাছের গুণাগুণের অনুরূপ থাকে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও অবকাঠামোর প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতি একটি সহজ, কার্যকর ও তুলনামূলকভাবে সস্তা সংরক্ষণ পদ্ধতি। এজন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদ্ধতিটি খুবই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহাত তার বাবার সাথে বাজারে গিয়ে দেখলো যে, একজন মাছ ব্যবসায়ীর ঝুড়িতে বরফের স্তরে স্তরে মাছ সাজানো আছে। রাহাত বরফের স্তরে এভাবে মাছ সাজানোর কারণ জানতে চাইলো। এ বিষয়ে তার বাবা বললেন, এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় যাতে মাছগুলো পচে নষ্ট না হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

Jessore · 2025

একুয়াকালচার কী?

উত্তর

পানিতে বসবাসকারী প্রাণীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন ও লালন, বৃদ্ধি ও যত্ন করা বা উৎপাদন করাই হলো মাৎস্য চাষ বা একুয়াকালচার।
রোগাক্রান্ত মাছ কীভাবে চেনা যায়?

উত্তর

নিচে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে রোগাক্রান্ত মাছ চেনা যায়- ১. মাছ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয় অথবা স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহণ করে না। ২. মাছ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং অলসভাবে পানিতে ভেসে থাকে। ৩. মাছ পানিতে ভেসে উঠে খাবি খায় এবং মাথা কাত করে বৃত্তাকারে ঘোরে। ৪. অনেক সময় মাছের ফুলকা, আঁইশ, ত্বক বা পাখনায় ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়। ৫. আক্রান্ত মাছের আঁইশ ফুলে ওঠে বা খসে পড়ে এবং মাছের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হলো বরফজাতকরণ। নিচে বরফজাতকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো- মাছ সংরক্ষণের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে বরফজাতকরণ। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মাছকে সাধারণ পানিতে ধুয়ে নেওয়া, হয়। এক্ষেত্রে মাছের আঁইশ কিংবা নাড়িভুঁড়ি বের করা হয় না। অতঃপর টুকরি বা ঝুড়িটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভিতরের চারদিকে চটের একটি আস্তরণ দেওয়া হয়। টুকরি বা ঝুড়ির তলায় ১.৫-২ ইঞ্চি পুরু করে টুকরা করা বরফের স্তর দেওয়া হয়। এরপর এক স্তর মাছ একস্তর বরফ এভাবে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে ঝুড়িটি ভর্তি করা হয়। এভাবে মাছের সর্বশেষ স্তরের উপরে এক স্তর বরফ দিয়ে তার উপরে একটি চটের টুকরা দিয়ে ঢেকে সেলাই করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বরফ ও মাছের অনুপাত মাছের ওজন ও ঋতুর উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বরফ ও মাছের অনুপাত গ্রীষ্মকালে ২:১ ও শীতকালে ১: ১ রাখা হয়। উপরোক্ত উপায়ে সঠিক পরিচর্যা, বরফ ও মাছের সঠিক অনুপাত ও সঠিক পাত্র ব্যবহার করা হলে মাছ ও চিংড়িকে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রাহাতের দেখা মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতিটি হচ্ছে বরফজাতকরণ পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে সম্পর্কে নিচে মতামত উপস্থাপন করা হলো- মাছ অতি দ্রুত পচনশীল প্রাণী। এ কারণে আহরণের পরপরই ধৃত মাছের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য মাছ সংরক্ষণ অতীব জরুরি। মাছ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে বরফজাতকরণ পদ্ধতি অন্যতম। এটি একটি স্বল্পকালীন মাছ সংরক্ষণ পদ্ধতি। বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে বছরের যেকোনো সময় মাছ সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে সহজ। ছোট বড় সব ধরনের মাছই এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। বরফ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ সহজে যেকোনো জায়গায় পরিবহন করা যায়। মাছ ধরা বা সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গেই বরফে রাখা যায়, বিশেষ করে ট্রলার, নৌকা ও হাট-বাজারে। আমাদের দেশে বরফ তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এ পদ্ধতি লাভজনক। আর এ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মাছের গুণাগুণ টাটকা মাছের গুণাগুণের অনুরূপ থাকে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও অবকাঠামোর প্রেক্ষাপটে বরফজাতকরণ পদ্ধতি একটি সহজ, কার্যকর ও তুলনামূলকভাবে সস্তা সংরক্ষণ পদ্ধতি। এজন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদ্ধতিটি খুবই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো