মিজান সাহেব ও তার বন্ধুরা যে নীতিটি অনুসরণ করলে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারতেন তা হলো "উযুক্ততার নীতি”। নিম্নে উদ্দীপকের আলোকে এ নীতিটি বিশ্লেষণ করা হলো-স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে স্থায়ী মূলধন সরবরাহ করা অর্থায়নের একটি নীতি। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখার জন্য যে নিত্যনৈমিত্তিক অর্থের প্রয়োজন হয়, সেটিই চলতি মূলধন। চলতি মূলধনের পরিমাণ কম হয় বলে এর উৎসও কম হয়, ফলে এটি স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করা ভালো। বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিভিন্ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ব্যাংক, ডিবেঞ্চারহোল্ডার, এই ধরনের উৎসগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। পক্ষান্তরে বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে চলতি মূলধনের ব্যবস্থাপনা করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক হারে সুদ প্রদান করতে হয়। ফলে যদি চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়, তবে দেখা যায় উপার্জিত আয় হতে ঋণের সুদ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে যায়।উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, মিজান সাহেব ও তার দুইজন বন্ধু মিলে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের ব্যবসায়ে অর্থ সংকট দেখা দেয়। তখন তারা নিজ তহবিল ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি তারা সমানভাবে বণ্টন করেন। কিন্তু মূলধনের যথাযথ ব্যবহার না করার ফলে ব্যবসায়টি তেমন লাভজনক হচ্ছে না এবং ঋণের সুদ পরিশোধ করতে পারছে না।উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, মিজান সাহেব ও তার বন্ধুদের স্বল্পমেয়াদী উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করা উচিত এবং তাদের উপযুক্ততার নীতি অনুসরণ করা উচিত। তবেই তারা ব্যবসায় সাফল্য পাবে।