উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-B দ্বারা স্নায়ু টিস্যুকে বুঝানো হয়েছে। স্নায়ু টিস্যুর গঠনগত ও কার্যগত একককে নিউরন বলা হয়। নিচে নিউরনের (স্নায়ু টিস্যুর) গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করা হলো-নিউরনের গঠন: একটি আদর্শ নিউরনের তিনটি অংশ থাকে, যথা-১. কোষদেহ: নিউরনের কোষদেহ বহুভূজাকৃতির এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত।, কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে। সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল না থাকায় নিউরন বিভাজিত হয় না।২. ডেনড্রাইট: কোষের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ড্রেনডন থেকে যে শাখা বের হয়, তাদের ডেনড্রাইট বলে। ড্রেনড্রাইটের সংখ্যা এক বা একাধিক হতে পারে।৩. অ্যাক্সন: নিউরনের কোষদেহ থেকে যে লম্বা স্নায়ুতন্তু পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের সাথে যুক্ত থাকে তাকে অ্যাক্সন বলে।একটি নিউরনের একটি মাত্র অ্যাক্সন থাকে। পরপর দুটি নিউরনের প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে যে স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয় তাকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপস এর মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়।নিউরনের কার্যপ্রণালী: স্নায়ু টিস্যু বা নিউরনের প্রধান কাজ হলোবাহির থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে তাতে সাড়া দেয়। উচ্চতর প্রাণীতে স্নায়ু টিস্যু স্মৃতি সংরক্ষণ করাসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।