উদ্দীপকের উল্লিখিত টিস্যুটি হলো স্নায়ুটিস্যু। এর গঠন ও কার্যকরী একক হলো নিউরন। প্রাণিদেহ সচল ও কর্মক্ষম রাখতে স্নায়ুটিস্যুর ভূমিকা অপরিহার্য নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-স্নায়ুতন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং দেহের উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ যেকোনো পরিবেশ থেকে স্নায়ুকোষের মাধ্যমে উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত পুনরায় স্নায়ুকোষের মাধ্যমে পেশিকোষে বা পেশিতন্ত্রে সাড়া জাগায়। পরবর্তীতে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেশিতন্ত্র সংকুচিত বা প্রসারিত হয়, ফলে অঙ্গ সে অনুযায়ী কাজ করে। স্নায়ুকোষের উদ্দীপনা গ্রহণ ও প্রেরণের মাধ্যমে পেশিকোষের ক্রিয়ায় মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ কর্মক্ষম থাকে। হাঁটা, চলা, খাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশ থেকে দ্রুত সরে আসা ইত্যাদি কাজে স্নায়ুটিস্যুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে প্রেরিত উদ্দীপনা অনুযায়ী পেশিটিস্যু কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন বাহ্যিক উদ্দীপনা যেমন- আলো, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ ইত্যাদি চোখ, কান, নাক ও ত্বকের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্ক তখন এই উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং মানুষের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়।পরিশেষে বলা যায়, স্নায়ুটিস্যু প্রাণিদেহ সচল ও কর্মক্ষম রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।