উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র-Y হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন এবং চিত্র-Z হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। জীবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চিত্র-Z মাইটোসিস কোষ বিভাজন অধিক ভূমিকা পালন করে।নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ বা প্রাণীর ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি করে। জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়।আবার যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড জনন কোষের মিলন ঘটে, তখন জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয় অর্থাৎ ডিপ্লয়েড। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখে। অন্যদিকে, মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সব বহুকোষী জীবই জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষই বার বার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়। মাইটোসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দৈহিক বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হয়। এককোষী জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে, মাইটোসিসের ফলে অঙ্গজ প্রজনন সাধিত হয় এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য। মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিয়োসিস অপেক্ষা মাইটোসিস অধিক ভূমিকা রাখে।