উদ্দীপকে সংঘটিত অবস্থাটি তথা জোয়ার-ভাটা পৃথিবীর ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।সমুদ্রের পানি চাঁদের আকর্ষণে ফুলে ওঠা ও বিপরীত অবস্থায় কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে তার থেকে দূরে সরে যাওয়াকে জোয়ার-ভাটা বলে। এটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অর্থাৎ প্রতি ছয় ঘণ্টা পর পর ঘটে, যা উদ্দীপকে বিবৃত আছে। জোয়ার-ভাটা পৃথিবীর উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমি প্রশ্নোক্ত এ বক্তব্যটিকে যথার্থ মনে করি। পৃথিবী তথা স্থলভাগ, পানিরাশি ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। দৈনিক দুবার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয়। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। অনেক নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। পৃথিবীর বহু নদীতে ভাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। জোয়ার-ভাটায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে, আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিকে আবদ্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়। ফলে শীতপ্রধান দেশে নদীর পানি চলাচলের অনুকূলে থাকে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে, আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিকে আবদ্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়।উপরিউক্ত আলোচনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, জোয়ার-ভাটা পৃথিবীর ওপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে।