'খ' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সম্পদের বণ্টন ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। এ দুটি অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়ায় তাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক এবং 'খ' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এ দুটি অর্থব্যবস্থার মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান বিধায় তাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় জমি, কলকারখানা ও অন্যান্য সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা বজায় থাকে কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জমি, কলকারখানা, খনি ও অন্যান্য সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় থাকে। আর ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় বিদেশে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় বিদেশে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে পারে না। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি তাদের ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী উৎপাদন, কলকারখানা স্থাপন, ব্যবসায় বাণিজ্য ইত্যাদি কাজকর্ম করে সম্পদ অর্জন করে। অন্যদিকে সমাজতন্ত্রে সব সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। এছাড়া ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেক ভোক্তা তার সামর্থ্য, ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য অবাধে ভোগ করতে পারে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দেশে কেবল সরকারি উদ্যোগে সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন ও আমদানি করা হয়।
সুতরাং আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।