রাষ্ট্র হিসেবে রানিয়ার দেশের উল্লিখিত কাজকে আমি সার্বিক কাজ হিসেবে মনে করি না।
রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের সর্বপ্রথম কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে পরিচিত করা, রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত সম্পদের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠিত করা। অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করা, অর্থনৈতিক বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করা প্রভৃতি। চতুর্থত, আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ। রাষ্ট্রীয় আইনসভা বা পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন প্রণীত হয়। পঞ্চমত, অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের একটি মুখ্য কাজ। রাষ্ট্রের অধীনে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ। এসব মুখ্য কাজ ছাড়াও আরও কিছু ঐচ্ছিক দায়িত্ব রয়েছে- যেমন জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসার; জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা; জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষা করা; রাষ্ট্রের কর্মীবাহিনীকে পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা; রাষ্ট্রের বিবিধ উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর কাজ সম্পাদন করা প্রভৃতি।সুতরাং দেখা যাচ্ছে, রানিয়ার দেশের উল্লিখিত কাজই সার্বিক কাজ নয়, রাষ্ট্রের আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে।