উদ্দীপক-২-এ রিনার কর্মকাণ্ড পূর্ণাঙ্গ সামাজিকীকরণে যথেষ্ট নয়।
সামাজিকীকরণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যা শিশুর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান থাকে। ব্যক্তির সামাজিকীকরণ সামাজিক পরিবেশ, সমাজ জীবন ও সামাজিক মূল্যবোধের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। সামাজিকীকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপাদানের গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য। তন্মধ্যে রয়েছে পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা, জাতীগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর ভূমিকা, বিদ্যালয় ও সহপাঠীর ভূমিকা, স্থানীয় সমাজ ও গোষ্ঠীর ভূমিকা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম প্রভৃতির ভূমিকা। উদ্দীপকে রীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং বাড়িতে সে ছোটদের পড়ালেখা শেখানো ছাড়াও মা-দাদির প্রতি খেয়াল রাখে। তার এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিকীকরণের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত হয়েছে। তথাপি, তার পূর্ণাঙ্গ সামাজিকীকরণে আরও কিছু উপাদানের প্রভাব অত্যাবশ্যকীয়। যেমন- সামাজিকীকরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। শিশু তার পরিবারের সদস্যদের ধর্মীয় আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। আর এসব বিষয় শিশুর ভবিষ্যৎ ধর্মীয় জীবন ও বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বে পরোপকার, একাত্মতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। আবার, গণমাধ্যম একটি প্রগতিশীল ও যুগোপযোগী সামাজিকীকরণ উপাদান যা ব্যক্তিকে নতুন জ্ঞান, বিনোদন প্রভৃতির মাধ্যমে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু রিনার সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর প্রভাব দিকটিও অস্পষ্ট। কিন্তু এসব উপাদানগুলো ব্যতীত সামাজিকীকরণ পূর্ণাঙ্গতা লাভ করবে না বলে আমি মনে করি।সুতরাং আমি উদ্দীপকে রিনার কর্মকান্ডে পূর্ণাঙ্গ সামাজিকীকরণ যথেষ্ট নয় বলে মনে করি।