ঘটনা-২ এ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতায় শিল্পক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকতাসমূহকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পখাতে ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে শিল্পখাতের মৌলিক ও ভিত্তিমূলক শিল্প নেই বলে শিল্পখাতে খুব দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারছে না। ভারী শিল্প, যেমন- লোহা ও ইস্পাত শিল্প, ভারী যানবাহন শিল্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিষয়ক শিল্প ইত্যাদি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের অভাব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের উচ্চমূল্য এগুলো উৎপাদন ও সরবরাহে অপর্যাপ্ততা, রাস্তাঘাট, সেতু ইত্যাদির অপ্রতুলতা ও অনুন্নত অবস্থা নতুন শিল্প স্থাপনে ও উৎপাদন বৃদ্ধির বড় প্রতিবন্ধক। শিল্পক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে- প্রথমত, দেশের সার্বিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য শিল্পখাতের প্রসার, ভারী বা মৌলিক শিল্প স্থাপন এবং এ খাতের সার্বিক উন্নয়ন জরুরি। দ্বিতীয়ত, জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা; নারীদের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার মূলধারায় নিয়ে আসা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে, শ্রমঘন, রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপন, দেশের শিল্পায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা; একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক শিল্পখাত গড়ে তোলা প্রভৃতি তৃতীয়ত, শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রধান বিষয় মূলধন। এজন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মুলধন প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি সহজতর করা। চতুর্থত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া।উল্লিখিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।