উল্লিখিত চিত্রের B ও C চিহ্নিত অংশ দ্বারা ফল ও বীজকে চিহ্নিত হয়েছে। নিষেকের মাধ্যমে ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয় এবং ডিম্বক বীজে পরিণত হয়। নিচে নিষেক প্রক্রিয়ার তাৎপর্য যুক্তিসহ মূল্যায়ন করা হলো-নিষেকের সময় ডিম্বাণু ও পুংগ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে প্রোটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের সংযুক্তি ঘটে যার ফলে প্রজাতিতে জিনের সংমিশ্রণ ঘটে এবং প্রকরণ সৃষ্টি করে। এ প্রকরণ বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রকরণ সৃষ্টির ফলে জীবের জীবনীশক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং নতুন নতুন পরিবেশে অভিযোজন ক্ষমতাও বাড়ে। নিষেকের পর গর্ভাশয় ফলে এবং গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে ডিম্বক বীজে পরিণত হয়। উদ্ভিদের যৌন জনন বীজ তৈরির মাধ্যমে ঘটে থাকে। এই বীজ থেকে সৃষ্টি হয় নতুন উদ্ভিদ যা তার প্রজাতিকে রক্ষা করে। বীজের সৃষ্টি না হলে অধিকাংশ পুষ্পক উদ্ভিদই বিলুপ্ত হয়ে যেত। আমরা আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, ধান, গম, বার্লি, ভুট্টা ইত্যাদি যা খেয়ে থাকি তা সবই নিষেক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। ফলের পাশাপাশি বীজও প্রাণিকুলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং উদ্ভিদের ফল এবং বীজের উপরই খাদ্যের জন্য প্রাণিকুল, বিশেষ করে মানুষ সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। আবার নিষেক প্রক্রিয়া না ঘটলে উদ্ভিদসমূহ হ্যাপ্লয়েড অবস্থা হতে পুনরায় ডিপ্লয়েড অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। কাজেই নিষেক প্রক্রিয়ার তাৎপর্য অপরিসীম।