জনাব মাহিন ও রবিনের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলোঃ
জনাব মাহিনের নেতৃত্বের ধরন হলো পিতৃসুলভ নেতৃত্ব। উদ্দীপকে জনাব মাহিন একজন মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থাপক।জনাব মাহিন তার অধীনে কর্মরত কর্মীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। তিনি কর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন না, শাস্তিও প্রদান করেন না।
উদ্দীপকের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, জনাব মাহিনের নেতৃত্বের ধরন পিতৃসুলভ নেতৃত্বের সাথে মিলে যায়। যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের ওপর বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ হলেও পিতা-পুত্রের মতো সদয় ও কল্যাণময়ী হয়ে তাদের দ্বারা কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন,তাকে পিতৃসুলভ নেতৃত্ব বলে।এরূপ নেতৃত্বেও কতৃত্ব ও ক্ষমতা নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।এক্ষেত্রে নেতা তার কাজের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেনা।এরূপ নেতৃত্ব নেতা সবসময় নিজ সন্তানের মতো ভালো ব্যবহার দেখিয়ে কাজ আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অপরদিকে জনাব রবিন কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন,ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন।
জনাব রবিনের নেতৃত্বের ধরন স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের ধরনের সাথে মিলে যাচ্ছে। যে নেতৃত্বে নেতা সব ক্ষমতা নিজের কাছে, কেন্দ্রীভূত করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এক্ষেত্রে নেতা যা ভালো মনে করেন তাই করে থাকেন।নেতা কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখানো ও শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের দ্বারা কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন।
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং পিতৃসুলভ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে
কার্যকরীতার কথা আসলে অবশ্যই পিতৃসুলভ নেতৃত্ব কার্যকরী।কারণ পিতৃসুলভ নেতৃত্বের মাধ্যমে অধস্তনদের সাথে ভালভাবে কথা বলা হয়, তাদের দিয়ে ভালো করে কাজ করিয়ে নেওয়া যায়, অধস্তনদের মন রক্ষা করা যায়।
কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে তা সম্ভব হয়না।নেতাই এখানে সর্বেসর্বা,অধস্তনদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না।ভয় ভীতি দেখায়।যা কোনো অধস্তন কোনোভাবেই সহ্য করা বা মেনে নিবে না।
তাই বলা যায়, জনাব মাহিন ও রবিনের নেতৃত্বের কার্যকারিতার ব্যপারের জনাব মাহিনের নেতৃত্ব কার্যকরী