জনাব রফিকের নেতৃত্বটি হলো স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং জনাব রফিকের নেতৃত্বটি হলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব। স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের চেয়ে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব শ্রেয়।
যে নেতৃত্বে নেতা প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। অন্যদিকে যে নেতৃত্বে নেতা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন এবং সকল সিদ্ধান্ত একাই গ্রহণ করেন তাছাড়া কাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কর্মীদের ভয়-ভীতি ও শাস্তি প্রদান করেন তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এটি এমন এক ধরনের নেতৃত্ব যেখানে নেতা সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব ভোগ করেন।
উদ্দীপকে জনাব রফিক একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের নিকট হতে মাছ চাষের নিয়ামক যেমন- মাছের পোনা, খাদ্য, পুকুর ব্যবস্থাপনা, ঔষধ, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং তাদেরকে সে মোতাবেক কর্মসম্পাদনের নির্দেশনা প্রদান করেন। অন্যদিকে একই প্রকৃতির ব্যবসায়ী জনাব শফিকের ধারণা তাঁর কর্মীরা কম শিক্ষিত। তাই তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াটা সময় অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। এজন্য তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সব সিদ্ধান্ত একাই গ্রহণ করেন এবং তা পালন করতে কর্মীদের নির্দেশনা দেন।
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কারো সাথে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেন না। ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস যায়, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য কখনই কাম্য নয়। অপরদিকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে নেয় এবং তাদের ভালো-মন্দের দিকটি বিবেচনা করা হয়। ফলে কর্মীরা নেতার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তাই আমি মনে করি, জনাব রফিকের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বটি জনাব শফিকের স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের চেয়ে শ্রেয়।