শেয়ারFacebookWhatsApp

একুশের চেতনা (ঢা. বো. ২৫; রা. বো. ২৫; ব. বো. ২৫; দি. বো. ১৫, ১১; সি. বো. ১১, ০৫; চ. বো. ১১, ০৯; সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা; কুমিল্লা সরকারি কলেজ।)

উত্তর: একুশের চেতনা ভূমিকা: একুশ একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক, একটি মহাবিস্ফোরণ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালির জীবনোৎসর্গের ঘটনা সারা বিশ্বে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য ইতিহাস। বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অমর একুশের রয়েছে সীমাহীন অবদান। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত আজ সারা বিশ্ব। একুশ আজ কেবল বাঙালির জাতীয় ইতিহাস নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা ভাষার মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একুশের এ বিশ্ব জয় সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয়। একুশের পটভূমি: একুশের রয়েছে গৌরবদীপ্ত ইতিহাস। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফসল আমাদের স্বাধীনতা। ১৪ আগস্ট ১৯৪৭-এ পাকিস্তান সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই বাঙালি জাতির চেতনায় বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের তরঙ্গ প্রবাহিত। তদানীন্তন পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ভাষার দাবি । জোরালো হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহর ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করলে সরকার ও ছাত্রসমাজের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' পালন ও সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলন দমন করার জন্য পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে জনসভা, মিছিল বন্ধ করে দেয়। ছাত্ররা সংগঠিতভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। = এ মিছিলে নির্বিচার গুলি চালায় পুলিশ। শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকে। মাতৃভাষার দাবিতে রক্তাক্ত একুশের স্মৃতিকে ভাস্বর করার জন্য গড়া হয় শহিদ মিনার, যা আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর সারা দেশে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়লে দেশবাসী প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কোনো উপায় না দেখে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে প্রণীত সংবিধানে শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। একুশের চেতনায় স্বাধীনতার বীজমন্ত্র: মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বাঙালির প্রথম ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি। একুশের চেতনা আমাদের শেখায় আত্মত্যাগের মহামন্ত্র। এ চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। সেদিনের ভাষা আন্দোলন সময়ের দাবিতে ক্রমে রূপ নিয়েছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম আসলে একুশের চেতনারই পরিণত রূপ। একুশের তাৎপর্য: একুশ আমাদের কাছে কেবল ঐতিহাসিক দিন নয়, এর তাৎপর্য অনেক গভীর ও ব্যাপক। একুশ শুধু বাঙালিকে নয়, গোটা পৃথিবীর সকল জাতিসত্তাকে শিখিয়েছে যে, বিশ্বে কোনো ভাষাকে অবদমন করার অধিকার কারো নেই। একুশ বাঙালির মেধা-মনন, চিন্তা-চেতনাকে স্বচ্ছতা, জাতীয় জীবনের দুর্দিন ও সংকটে যথার্থ পথ নির্ধারণের শিক্ষা দিয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয় চেতনায় সংগঠিত হতে একুশ আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে একুশের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। একুশের চেতনা ও তাৎপর্যের উত্তরণ: বাঙালি জাতির আত্মোপলব্ধির উত্তরণ ঘটে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। বাঙালি জাতীয় চেতনার উপলব্ধির ক্রমবিকাশ এখানে এসে গাঢ়তায় রূপ নেয়। সমগ্র জাতি ভাবতে শেখে তার জাতীয় সত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সত্তার কথা। একুশের চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: একুশের চেতনা যে সাংস্কৃতিক চেতনার জন্ম দেয় তার মধ্যে জাতীয়তাবোধের বিকাশমুখী আন্দোলনের একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও ছিল। একুশের চেতনা এমনই প্রগতিশীল ছিল, এমনই প্রগাঢ় ছিল যে যার জন্য স্বাধিকার সংগ্রাম তীব্রতর হয়েছিল। একুশের ভাবধারা প্রথম দিকে ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীকালে তাতে দেশের আপামর জনসাধারণও উদ্বুদ্ধ হয়। একুশের চেতনা ও স্বনির্ভরতা অর্জন: স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে একুশের চেতনা গোটা জাতির দীর্ঘ পরাধীনতার অভিশাপপ্রসূত দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে আত্মসম্ভ্রমবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে গঠনমূলক প্রতীতির জন্ম দিয়েছিল। এটা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই একুশের চেতনার সার্থক স্বীকৃতি। স্বাধীনতার স্পর্শে জাতীয় জীবনে নৈতিকতা, পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, বলিষ্ঠ জাতীয় চরিত্র চেতনার বিকাশ এবং দারিদ্র্য মোচনের দ্বারা স্বনির্ভরশীলতা অর্জনের মধ্যেই একুশের প্রকৃত প্রত্যয় নিহিত। একুশের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: একুশের চেতনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জ্ঞানের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি সম্মানবোধকে জাগিয়ে তুলেছিল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সেই মূল্যবোধের বলিষ্ঠ বিকাশ প্রত্যাশিত রয়ে গেছে আজও। তবে একুশের চেতনা কালপরিক্রমায় সেই মনোভঙ্গি ও দূরদৃষ্টিকে করে সবল ও স্বচ্ছ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার মাধ্যমে বাঞ্ছিত লক্ষ্যে আজ এগিয়ে এসেছে সবাই। এটি একুশের চেতনার অবিনশ্বর অভিযাত্রা। একুশের চেতনা ও অর্থনৈতিক মুক্তি: দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরের মধ্যেই সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির উপায় নিহিত। স্বনির্ভর অর্থনীতি উৎসারিত আত্মমর্যাদাবোধ জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম রক্ষাকবচ। সে লক্ষ্যে পৌছাতে হলে মানবসম্পদের উন্নয়ন আবশ্যক। একুশের চেতনা এ মুহূর্তে দেশবাসীকে সেই প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে এবং জাগাতে পারে শক্তি ও সাহস। একুশের চেতনা ও বাংলা সাহিত্য: ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একুশে ফেব্রুয়ারি মিছিলে গুলি করে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এবং তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ 'স্মৃতির মিনার' শীর্ষক কবিতা রচনা করেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি', সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফের রচনা ও সুরে 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং বাগেরহাটের চারণকবি শামসুদ্দিন আহমেদ রচনা করেন 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি' শীর্ষক গান। ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক এবং জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' শীর্ষক উপন্যাস। ভাষা আন্দোলনকে উপলক্ষ্য করে রচিত এসব কবিতা, গান, নাটক ও উপন্যাস বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একুশের চেতনা ও বাংলা একাডেমি: একুশের সাংস্কৃতিক চেতনার অসামান্য ফসল ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা। বাংলা একাডেমি প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে আসছে, যা আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। একুশের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: একুশের স্মৃতিকে ভাস্বর করার জন্য এবং ভাষা শহিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ১৯৫২ সালে নির্মিত হয় শহিদ মিনার। ১৯৫৩ সালে শহিদ দিবস উদ্যাপন করতে গিয়ে তখনকার প্রগতিশীল কর্মীরা কালো পতাকা উত্তোলন, খালি পায়ে প্রভাতফেরি ও সমবেত কণ্ঠে একুশের গান, শহিদদের কবর ও শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেন। এখন এসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় একুশের চেতনা: বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ বাঙালি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করেছিল। কিন্তু বায়ান্নর পরেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে নয়া ঔপনিবেশিক শাসক-শোষকদের চক্রান্ত থেমে যায়নি। এসব অপচেষ্টার মধ্যে ছিল বাংলা ও উর্দু মিলে একটা ভাষা তৈরি করা, বাংলা বর্ণমালা তুলে রোমান হরফে বাংলা প্রবর্তন করা, রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের চক্রান্ত, রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধকরণ, নজরুল সাহিত্যকে খণ্ডিতকরণের চেষ্টা, বাংলা সাহিত্যে জোরপূর্বক পাকিস্তানিকরণ প্রচেষ্টা ইত্যাদি। কিন্তু একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শোষকদের সব হীনচক্রান্তকে প্রতিহত করেছে আমাদের সাধারণ মানুষ ও প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিকের বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। একুশ যেভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেল: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ শুধু বাংলাদেশি বা বাঙালিরই নয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দিনটি সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। কানাডা প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রথম উদ্যোগী ভূমিকা নেন। তাঁরা ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি চিঠি লেখেন। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর মহাসচিব কইচিরো মাতসুরার উপস্থিতিতে প্যারিসের সদর দপ্তরে ১৯১টি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে বিলটি পাশ হয়। এরপর ২০০০ সাল থেকে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তাৎপর্যমন্ডিত একুশের গুরুত্ব: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এ দেশের বাঙালির উপর যে অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছিল তার যবনিকাপাতের মূল পথ তৈরি করেছিল '৫২র ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বিস্মৃত বাঙালিরা জাতি হিসেবে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে আবিষ্কার করেছিল। পরবর্তীকালে সমস্ত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-সংগ্রামে একুশের চেতনা প্রেরণার উৎসস্থল হিসেবে কাজ করেছে। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার স্মারক হিসেবে একুশের তাৎপর্য তাই অনস্বীকার্য। উপসংহার: একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের যেকোনো শুভ প্রয়াসের মূর্ত প্রতীক। সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশে একুশ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল বীরত্বগাথা ও প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ একুশের চেতনা ও প্রেরণায় উজ্জীবিত এবং যেকোনো জাতীয় সংকট ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বতোভাবে ঐক্যবদ্ধ। একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও জাতীয় চেতনামূলক আন্দোলনের চালিকাশক্তি। একুশের চেতনায় আমরা বারবার উজ্জীবিত হয়েছি, পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

HSC Bangla 2nd Paper প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Bangla 2nd Paper · প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

একুশের চেতনা (ঢা. বো. ২৫; রা. বো. ২৫; ব. বো. ২৫; দি. বো. ১৫, ১১; সি. বো. ১১, ০৫; চ. বো. ১১, ০৯; সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা; কুমিল্লা সরকারি কলেজ।)

উত্তর

একুশের চেতনা ভূমিকা: একুশ একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক, একটি মহাবিস্ফোরণ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালির জীবনোৎসর্গের ঘটনা সারা বিশ্বে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য ইতিহাস। বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অমর একুশের রয়েছে সীমাহীন অবদান। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত আজ সারা বিশ্ব। একুশ আজ কেবল বাঙালির জাতীয় ইতিহাস নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা ভাষার মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একুশের এ বিশ্ব জয় সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয়। একুশের পটভূমি: একুশের রয়েছে গৌরবদীপ্ত ইতিহাস। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফসল আমাদের স্বাধীনতা। ১৪ আগস্ট ১৯৪৭-এ পাকিস্তান সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই বাঙালি জাতির চেতনায় বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের তরঙ্গ প্রবাহিত। তদানীন্তন পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ভাষার দাবি । জোরালো হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহর ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করলে সরকার ও ছাত্রসমাজের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' পালন ও সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলন দমন করার জন্য পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে জনসভা, মিছিল বন্ধ করে দেয়। ছাত্ররা সংগঠিতভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। = এ মিছিলে নির্বিচার গুলি চালায় পুলিশ। শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকে। মাতৃভাষার দাবিতে রক্তাক্ত একুশের স্মৃতিকে ভাস্বর করার জন্য গড়া হয় শহিদ মিনার, যা আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর সারা দেশে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়লে দেশবাসী প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কোনো উপায় না দেখে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে প্রণীত সংবিধানে শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। একুশের চেতনায় স্বাধীনতার বীজমন্ত্র: মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে বাঙালির প্রথম ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি। একুশের চেতনা আমাদের শেখায় আত্মত্যাগের মহামন্ত্র। এ চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। সেদিনের ভাষা আন্দোলন সময়ের দাবিতে ক্রমে রূপ নিয়েছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম আসলে একুশের চেতনারই পরিণত রূপ। একুশের তাৎপর্য: একুশ আমাদের কাছে কেবল ঐতিহাসিক দিন নয়, এর তাৎপর্য অনেক গভীর ও ব্যাপক। একুশ শুধু বাঙালিকে নয়, গোটা পৃথিবীর সকল জাতিসত্তাকে শিখিয়েছে যে, বিশ্বে কোনো ভাষাকে অবদমন করার অধিকার কারো নেই। একুশ বাঙালির মেধা-মনন, চিন্তা-চেতনাকে স্বচ্ছতা, জাতীয় জীবনের দুর্দিন ও সংকটে যথার্থ পথ নির্ধারণের শিক্ষা দিয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয় চেতনায় সংগঠিত হতে একুশ আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে একুশের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। একুশের চেতনা ও তাৎপর্যের উত্তরণ: বাঙালি জাতির আত্মোপলব্ধির উত্তরণ ঘটে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। বাঙালি জাতীয় চেতনার উপলব্ধির ক্রমবিকাশ এখানে এসে গাঢ়তায় রূপ নেয়। সমগ্র জাতি ভাবতে শেখে তার জাতীয় সত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সত্তার কথা। একুশের চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: একুশের চেতনা যে সাংস্কৃতিক চেতনার জন্ম দেয় তার মধ্যে জাতীয়তাবোধের বিকাশমুখী আন্দোলনের একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও ছিল। একুশের চেতনা এমনই প্রগতিশীল ছিল, এমনই প্রগাঢ় ছিল যে যার জন্য স্বাধিকার সংগ্রাম তীব্রতর হয়েছিল। একুশের ভাবধারা প্রথম দিকে ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীকালে তাতে দেশের আপামর জনসাধারণও উদ্বুদ্ধ হয়। একুশের চেতনা ও স্বনির্ভরতা অর্জন: স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে একুশের চেতনা গোটা জাতির দীর্ঘ পরাধীনতার অভিশাপপ্রসূত দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে আত্মসম্ভ্রমবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে গঠনমূলক প্রতীতির জন্ম দিয়েছিল। এটা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই একুশের চেতনার সার্থক স্বীকৃতি। স্বাধীনতার স্পর্শে জাতীয় জীবনে নৈতিকতা, পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, বলিষ্ঠ জাতীয় চরিত্র চেতনার বিকাশ এবং দারিদ্র্য মোচনের দ্বারা স্বনির্ভরশীলতা অর্জনের মধ্যেই একুশের প্রকৃত প্রত্যয় নিহিত। একুশের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: একুশের চেতনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জ্ঞানের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি সম্মানবোধকে জাগিয়ে তুলেছিল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সেই মূল্যবোধের বলিষ্ঠ বিকাশ প্রত্যাশিত রয়ে গেছে আজও। তবে একুশের চেতনা কালপরিক্রমায় সেই মনোভঙ্গি ও দূরদৃষ্টিকে করে সবল ও স্বচ্ছ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার মাধ্যমে বাঞ্ছিত লক্ষ্যে আজ এগিয়ে এসেছে সবাই। এটি একুশের চেতনার অবিনশ্বর অভিযাত্রা। একুশের চেতনা ও অর্থনৈতিক মুক্তি: দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরের মধ্যেই সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির উপায় নিহিত। স্বনির্ভর অর্থনীতি উৎসারিত আত্মমর্যাদাবোধ জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম রক্ষাকবচ। সে লক্ষ্যে পৌছাতে হলে মানবসম্পদের উন্নয়ন আবশ্যক। একুশের চেতনা এ মুহূর্তে দেশবাসীকে সেই প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে এবং জাগাতে পারে শক্তি ও সাহস। একুশের চেতনা ও বাংলা সাহিত্য: ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একুশে ফেব্রুয়ারি মিছিলে গুলি করে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এবং তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ 'স্মৃতির মিনার' শীর্ষক কবিতা রচনা করেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি', সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফের রচনা ও সুরে 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং বাগেরহাটের চারণকবি শামসুদ্দিন আহমেদ রচনা করেন 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি' শীর্ষক গান। ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক এবং জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' শীর্ষক উপন্যাস। ভাষা আন্দোলনকে উপলক্ষ্য করে রচিত এসব কবিতা, গান, নাটক ও উপন্যাস বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একুশের চেতনা ও বাংলা একাডেমি: একুশের সাংস্কৃতিক চেতনার অসামান্য ফসল ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা। বাংলা একাডেমি প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে আসছে, যা আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। একুশের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: একুশের স্মৃতিকে ভাস্বর করার জন্য এবং ভাষা শহিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ১৯৫২ সালে নির্মিত হয় শহিদ মিনার। ১৯৫৩ সালে শহিদ দিবস উদ্যাপন করতে গিয়ে তখনকার প্রগতিশীল কর্মীরা কালো পতাকা উত্তোলন, খালি পায়ে প্রভাতফেরি ও সমবেত কণ্ঠে একুশের গান, শহিদদের কবর ও শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেন। এখন এসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় একুশের চেতনা: বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ বাঙালি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করেছিল। কিন্তু বায়ান্নর পরেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিরুদ্ধে নয়া ঔপনিবেশিক শাসক-শোষকদের চক্রান্ত থেমে যায়নি। এসব অপচেষ্টার মধ্যে ছিল বাংলা ও উর্দু মিলে একটা ভাষা তৈরি করা, বাংলা বর্ণমালা তুলে রোমান হরফে বাংলা প্রবর্তন করা, রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের চক্রান্ত, রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধকরণ, নজরুল সাহিত্যকে খণ্ডিতকরণের চেষ্টা, বাংলা সাহিত্যে জোরপূর্বক পাকিস্তানিকরণ প্রচেষ্টা ইত্যাদি। কিন্তু একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শোষকদের সব হীনচক্রান্তকে প্রতিহত করেছে আমাদের সাধারণ মানুষ ও প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিকের বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। একুশ যেভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেল: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ শুধু বাংলাদেশি বা বাঙালিরই নয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দিনটি সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। কানাডা প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রথম উদ্যোগী ভূমিকা নেন। তাঁরা ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি চিঠি লেখেন। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর মহাসচিব কইচিরো মাতসুরার উপস্থিতিতে প্যারিসের সদর দপ্তরে ১৯১টি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে বিলটি পাশ হয়। এরপর ২০০০ সাল থেকে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তাৎপর্যমন্ডিত একুশের গুরুত্ব: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এ দেশের বাঙালির উপর যে অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছিল তার যবনিকাপাতের মূল পথ তৈরি করেছিল '৫২র ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বিস্মৃত বাঙালিরা জাতি হিসেবে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে আবিষ্কার করেছিল। পরবর্তীকালে সমস্ত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-সংগ্রামে একুশের চেতনা প্রেরণার উৎসস্থল হিসেবে কাজ করেছে। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার স্মারক হিসেবে একুশের তাৎপর্য তাই অনস্বীকার্য। উপসংহার: একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের যেকোনো শুভ প্রয়াসের মূর্ত প্রতীক। সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশে একুশ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল বীরত্বগাথা ও প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ একুশের চেতনা ও প্রেরণায় উজ্জীবিত এবং যেকোনো জাতীয় সংকট ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বতোভাবে ঐক্যবদ্ধ। একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও জাতীয় চেতনামূলক আন্দোলনের চালিকাশক্তি। একুশের চেতনায় আমরা বারবার উজ্জীবিত হয়েছি, পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
HSCBangla 2nd Paperপ্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান (বি. বো. ২৩; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।)

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান (বি. বো. ২৩; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (চি. বো. ২৩)

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (চি. বো. ২৩)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.মাদকাসক্তি ও তরুণ সমাজ (কু. বো. ২৩; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা; সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর।)

মাদকাসক্তি ও তরুণ সমাজ (কু. বো. ২৩; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা; সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.দেশগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা (সি. বো. ২৫; দি. বো. ১৭; য. বো. ১৫; রা. বো. ১৩; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।)

দেশগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা (সি. বো. ২৫; দি. বো. ১৭; য. বো. ১৫; রা. বো. ১৩; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.সময়ানুবর্তিতা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, পাহাড়কাঞ্চনপুর, সখিপুর, টাঙ্গাইল)

সময়ানুবর্তিতা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, পাহাড়কাঞ্চনপুর, সখিপুর, টাঙ্গাইল)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ ( রা. বো. ২৫; কু. বো. ২৪; য. বো. ২৪; ঘ. বো. ১৯; চ. বো. ১৯; সি. বো. ১৯; রা. বো. ১৭; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ )

তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ ( রা. বো. ২৫; কু. বো. ২৪; য. বো. ২৪; ঘ. বো. ১৯; চ. বো. ১৯; সি. বো. ১৯; রা. বো. ১৭; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ )

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.বৈষম্যবিরোধী ছাত্রগণআন্দোলন (বি. বো. ২৫)

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রগণআন্দোলন (বি. বো. ২৫)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার (সি. বো. ১৫, ১৩, ০৯, ০৪; রা. বো. ১৪, ০৯, ০৬, ০৩; ঢা. বো. ১০, ০৯, ০২; চ. বো. ১৬, ১৫, ০৬, ০৩, ০২; দি. বো. ১৫, ০৯; ঢাকা কলেজ; ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ; সিলেট ক্যাডেট কলেজ।)

পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার (সি. বো. ১৫, ১৩, ০৯, ০৪; রা. বো. ১৪, ০৯, ০৬, ০৩; ঢা. বো. ১০, ০৯, ০২; চ. বো. ১৬, ১৫, ০৬, ০৩, ০২; দি. বো. ১৫, ০৯; ঢাকা কলেজ; ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ; সিলেট ক্যাডেট কলেজ।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প (ঢা. বো. ২৫; কু. বো. ২৫; সি. বো. ২৫; রা. বো. ২৫, ১৭; চ. বো. ২৫, ১৬, ১১, ০৬, ০৩; য. বো. ২৫, ২৩; দি বো. ২৫, ২৩, ১৬; ব. বো. ২৫, ২৩, ১৫, ১৩, ১১; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ, উত্তরা সরকারি কলেজ, ঢাকা; আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা)

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প (ঢা. বো. ২৫; কু. বো. ২৫; সি. বো. ২৫; রা. বো. ২৫, ১৭; চ. বো. ২৫, ১৬, ১১, ০৬, ০৩; য. বো. ২৫, ২৩; দি বো. ২৫, ২৩, ১৬; ব. বো. ২৫, ২৩, ১৫, ১৩, ১১; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ, উত্তরা সরকারি কলেজ, ঢাকা; আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা (মি. বো. ২৫; দি.বো. ১৪; নটর ডেম কলেজ, ঢাকা; ঢাকা কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ; মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা।)

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা (মি. বো. ২৫; দি.বো. ১৪; নটর ডেম কলেজ, ঢাকা; ঢাকা কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ; মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (রা. বো. ১৭; কু. বো. ২৫; চ. বো. ২৪; ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, ঢাকা; ঢাকা সিটি কলেজ, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী।)

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (রা. বো. ১৭; কু. বো. ২৫; চ. বো. ২৪; ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, ঢাকা; ঢাকা সিটি কলেজ, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্বদেশপ্রেম (মি. বো. ২৫; রা. রো. ১৭; দি. বো. ১৯, ১৭; ব. বো. ১৭; দি. বো. ২৪, ১৩, ০৯; কু. বো. ২৪, ১০; সি. বো. ১৯, ১৪; চ. বো. ১৯, ১৬; য. বো. ২৫, ২৪, ১৬, ১২; ঢাকা কলেজ; আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা; রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা; মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা; বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, ঢাকা।)

স্বদেশপ্রেম (মি. বো. ২৫; রা. রো. ১৭; দি. বো. ১৯, ১৭; ব. বো. ১৭; দি. বো. ২৪, ১৩, ০৯; কু. বো. ২৪, ১০; সি. বো. ১৯, ১৪; চ. বো. ১৯, ১৬; য. বো. ২৫, ২৪, ১৬, ১২; ঢাকা কলেজ; আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা; রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা; মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা; বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, ঢাকা।)

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান (বি. বো. ২৩; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ডদৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (চি. বো. ২৩)মাদকাসক্তি ও তরুণ সমাজ (কু. বো. ২৩; ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এদেশগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা (সি. বো. ২৫; দি. বো. ১৭; য. বো. ১৫; রা. বো. ১৩; ঢাকা সময়ানুবর্তিতা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, পাহাড়কাঞ্চনপুর, সখিপুর, টাঙ্গাইতথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ ( রা. বো. ২৫; কু. বো. ২৪; য. বো. ২৪; ঘ. বো. ১৯; চ. বো. বৈষম্যবিরোধী ছাত্রগণআন্দোলন (বি. বো. ২৫)পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার (সি. বো. ১৫, ১৩, ০৯, ০৪; রা. বো. ১৪, ০৯, ০৬, ০৩; ঢা. ববাংলাদেশের পর্যটনশিল্প (ঢা. বো. ২৫; কু. বো. ২৫; সি. বো. ২৫; রা. বো. ২৫, ১৭; চ. ববাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা (মি. বো. ২৫; দি.বো. ১৪; নটর ডেম কলেজ, ঢমুক্তিযুদ্ধের চেতনা (রা. বো. ১৭; কু. বো. ২৫; চ. বো. ২৪; ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লাস্বদেশপ্রেম (মি. বো. ২৫; রা. রো. ১৭; দি. বো. ১৯, ১৭; ব. বো. ১৭; দি. বো. ২৪, ১৩,

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।