উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে আমাদের যে ঐতিহাসিক ভাষণের মিল খুঁজে পাওয়া যায় তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের বর্ণিত ভাষণের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এ ভাষণের তাৎপর্য ছিল অভূতপূর্ব। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালির জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লক্ষ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এই ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের দিকনির্দেশনাস্বরূপ। এখানে তিনি ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,... এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালের ১৯শে নভেম্বর গেটিসবার্গে একটি বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এই ভাষণে তিনি দীপ্তকণ্ঠে ক্রীতদাসদের স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৮৬৫ সালে মার্কিন গৃহযুদ্ধের অবসানকে ত্বরান্বিত করেছিল। এরূপ ভাষণের চিত্র পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাঝে। আর স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু তেজদীপ্ত কণ্ঠে বাঙালির মাঝে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনে দেন। সেটা লালন করে ২৬ শে মার্চ বীর বাঙালি শত্রুসেনার মুখোমুখি হয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসীম সাহসিকতায়। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বাঙালি ঘরে ঘরে যার যা ছিল তাই নিয়ে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলে। এ দুর্গ এতটাই দুর্ভেদ্য ছিল যে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা। সুতরাং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা বলা যায়, বিশ্বের ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণ হলো একটি সঞ্জীবনী শক্তি। যার স্পর্শে নিরীহ বাঙালি জাতি পরিণত হয় বীরের জাতিতে। তারা ছিনিয়ে আনে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য।
SSC পৌরনীতি ও নাগরিকতা অধ্যায়-১০ : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন (Full Syllabus) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · পৌরনীতি ও নাগরিকতা · অধ্যায়-১০ : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন (Full Syllabus) · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে আমাদের যে ঐতিহাসিক ভাষণের মিল খুঁজে পাও…
উদ্দীপক
Dhaka · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর