উদ্দীপকে জাহাঙ্গীর হোসেনের যে ধরনের মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা হলো অসহায়ত্ব বা হতাশা। নিম্নে বর্ণনা করা হলো—
মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তির অসহায়ত্ব। এ অসহায়ত্ব হলো ব্যক্তির এমন একটি অবস্থা যেখানে পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তি, পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। জীবনের অনেক ঘটনার উপর ব্যক্তির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না, যা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় । কারণ ঘটনাটি ব্যক্তির কাছে পীড়াদায়ক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যক্তি অসহায়বোধ করে। এ অসহায়ত্বমূলক পরিস্থিতি ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। কোনো ব্যক্তির লক্ষ্যপূরণে স্বাভাবিক ধারায় যখন প্রতিবন্ধকতা উপস্থিত হয় এবং সে প্রতিবন্ধকতা সরানোর জন্য ব্যক্তির সামর্থ্যের ঘাটতি থাকে তখন ব্যক্তির মধ্যে হতাশা দেখা দেয় ।
এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর হোসেন সহকর্মীদের সঙ্গে পিকনিকে কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে সকাল ৭টার দিকে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। ড্রাইভার বলেন গাড়িটি মেরামত করতে ৮/১০ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে অন্য একটি গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাওয়ার কথা ভাবতে থাকেন। এ কারণে জাহাঙ্গীর হোসেনের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল ।
সংক্ষেপে বলা যায় যে, মানুষের স্বাভাবিক লক্ষ্যের পথে কোনো অপসারণের অযোগ্য প্রতিবন্ধক উপস্থিত হলে সে হতাশ হয়ে পড়ে । এ প্রতিবন্ধক হতে পারে কোনো বস্তু, ব্যক্তি, ঘটনা বা অবস্থা। উদ্দীপকে জাহাঙ্গীর হোসেনের ক্ষেত্রে পিকনিকের গাড়িটি নষ্ট হওয়া প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে।