আরিফ চৌধুরী এবং রায়হানের আত্মরক্ষার কৌশলগুলো হলো যথাক্রমে অপস্থাপন এবং অপব্যাখ্যান ।
অনেক সময় ব্যক্তি ব্যর্থ হলে মনে আক্রোশের সৃষ্টি হয়। ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি যদি অত্যন্ত শক্তিশালী হয় তাহলে তার ক্রোধ দুর্বল ও নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি স্থানান্তরিত হয়। এ ধরনের স্থানান্তরকে অপস্থাপন বলে। প্রমোশন না পেয়ে ব্যক্তি ক্রোধান্বিত হয়ে বাড়ি গিয়ে নিরপরাধ স্ত্রী-কন্যার উপর অহেতুক ক্রোধ প্রকাশ করা। দমন করে রাখা আবেগ এভাবে প্রকাশ করলে তাতে মানসিক চাপ অনেকটা কমে যায়। উদ্দীপকে আরিফ চৌধুরীর ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায় যা অপস্থাপন কৌশলকে নির্দেশ করে । আবার নিজের ব্যর্থতা ও অক্ষমতা থেকে উদ্ভূত পীড়াদায়ক গ্লানির কবল থেকে মুক্তি লাভের জন্য ব্যক্তি অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করে। এ কৌশলের মাধ্যমে ব্যক্তি তার অহমবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখে এবং ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্তি লাভ করে। বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড় যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায়, “আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি তার ছেলেপিলেদের সাথে আমার খেলাধুলা সাজে।” এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য যুক্ত্যাভাসের আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করি। উদ্দীপকে দেখা যায়, রায়হান কোথাও চাকরি না পেয়ে চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে বলতে শুরু করে মামা, চাচা, ঘুষ ছাড়া চাকরি হবে না । এটি অপব্যাখ্যানকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, অপস্থাপন ও অপব্যাখ্যান দুটি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল হলেও উভয়ই আত্মরক্ষামূলক কৌশলের অন্তর্গত ।