দৃশ্যকল্প-২ এ হতাশার ক, খ ও গ এ তিনটি উৎস হলো-পরিবেশগত, ব্যক্তিগত ও দ্বন্দ্ব।
যে সকল বস্তু বা ঘটনা লক্ষ্যবস্তু লাভে বাধার সৃষ্টি করে। সে সকল বস্তু বা ঘটনাকে হতাশার উৎস বলে। হতাশার উৎসকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- পরিবেশগত, ব্যক্তিগত ও দ্বন্দ্ব।
পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রেষণা পরিতৃপ্তিতে বাধার সৃষ্টি হতে পারে এবং এর ফলে ব্যক্তি হতাশাগ্রস্ত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, বনভোজনে যাবার সময় মাঝ পথে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া প্রভৃতি পরিবেশগত কারণে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে।
সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন রীতি-নীতি, বর্ণ-বৈষম্য ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেক ক্ষেত্রে হতাশার সৃষ্টি করে। যেমন- দরিদ্রতা, যুদ্ধ, বন্যা, অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভৃতি কারণে মানবিক চাহিদা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং সুপরিকল্পিত পরিকল্পনাসমূহ উল্টে যায়। এর ফলে জীবনযাত্রা ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তখন মানুষ হতাশার গভীরতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলির কারণ থেকেও হতাশার উদ্ভব হতে পারে। শারীরিক বিকৃতি, পঙ্গুত্ব, কুৎসিত চেহারা, অন্ধত্ব, বধিরতা প্রভৃতি ব্যক্তিগত ত্রুটি প্রেষণার পরিতৃপ্তিতে বাধা দিলে হতাশার সৃষ্টি হয়। যেমন সিনেমার নায়িকা হবার খুব ইচ্ছে, কিন্তু লম্বায় খুব খাট, অথবা মোহাম্মদ আলীর মতো বিশ্ববিখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা হবার তীব্র বাসনা কিন্তু হাতের কব্জিতে জোর নেই।
দুটি সমান শক্তিশালী প্রেষণা যখন একই সাথে উপস্থিত হয়, তখন আমরা দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হই। প্রেষণাগুলো সমান আকর্ষণীয় বা পরস্পর বিপরীত ধর্মীয় হতে পারে। দ্বন্দ্বের সার্থক সমাধানে ব্যর্থ হলেই হতাশার সৃষ্টি হয়। যেমন: দুটি ভালো এবং আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি হয়েছে, কোন্টি গ্রহণ করবে অথবা ভালো বেতনের চাকুরি হয়েছে কিন্তু চাকুরীস্থল হলো বান্দরবানের শেষ প্রান্তে অথবা চাকুরি হয়েছে বান্দরবানে কিন্তু বেতন কম- আমরা প্রতিনিয়ত এমন বিভিন্ন দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হই। দ্বন্দ্বের সমাধান করতে না পারলে, তখন দেখা দেয় হতাশা।
আমরা প্রতিনিয়ত চাপ অনুভব করি, হতাশাগ্রস্ত হই। এই হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি আমরা ব্যক্তিজীবনে মোকাবেলা করে থাকি। প্রথমেই প্রকৃত সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে হবে এবং নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। পরিশেষে নব উদ্যমে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধানে আত্ম নিয়োগ করতে হবে। আবার অনেক সময় প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে কিছু কৌশল প্রয়োগ করে হতাশা কবল থেকে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করার যে প্রচেষ্টা তাকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল বলে। স্বীয় ব্যর্থতাকে ঢেকে রাখার জন্য আমরা প্রায়শই আত্মরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করে থাকি।