দৃশ্যকল্প-২ এ পরিলক্ষিত সমস্যাটি হলো কর্মভার। কর্মভার নিরসনের পদক্ষেপগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. কর্মক্ষেত্রের প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন: কর্মক্ষেত্রে আলো, বায়ু-চলাচল, তাপমাত্রা প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ও অত্যুজ্জ্বল আলো উভয়ই দৃষ্টিগত অস্বস্তি ও ক্লান্তি ঘটায়। কলকারখানায় পর্যাপ্ত বায়ু-চলাচলের সুবন্দোবস্ত না থাকলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কাজেই কর্মক্ষেত্রের প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন হলে কর্মভার নিরসন হবে।
২. সঠিক কর্মানুসূচি ও কার্য-বিরতির ব্যবস্থা করা
(ক) কর্মঘণ্টা: সাধারণত মনে করা হয় যে, উৎপাদন বৃদ্ধির একটি সহজ উপায় হচ্ছে কর্মঘণ্টা বাড়ানো। কিন্তু দেখা যায় যে, কর্মঘণ্টা হ্রাস করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
(খ) কর্ম-বিরতি: ব্যক্তির কর্মক্লান্তি দূর করা এবং কর্মক্ষমতা সংরক্ষণের জন্য কর্ম বিরতির আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, কর্ম বিরতির ফলে যে সময় ব্যয় হয়, তাতে উৎপাদন হ্রাস পায় না বরং উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
(গ) পালাক্রমিক কাজ: বর্তমানে শিল্পকারখানায় কর্মানুসূচি বিন্যাসের একটি সাধারণ ব্যবস্থা হচ্ছে পালাক্রমিক কাজ। একজন কর্মীর কর্মানুসূচি সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক ভিত্তিতে বিভিন্ন পালায় (যেমন- সকাল, বিকাল বা রাত) আবর্তিত হয়। পালাক্রমিক কাজে কর্মীর দক্ষতা ও উৎপাদন অনেকাংশ বৃদ্ধি পাই।
৩ . কর্ম পুনর্বিন্যাস: শিল্প ক্ষেত্রে কর্ম পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে।কর্ম পুনর্বিন্যাস বলতে বোঝায় কোনো কর্মকে এমনভাবে পুনঃপরিকল্পনা করা, যার ফলে কর্মীর দক্ষতা, উৎপাদন ও কর্ম সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কর্মে একঘেয়েমি, বীতস্পৃহা ও অসন্তুষ্টি হ্রাস এবং প্রেষণা ও আগ্রহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়।