দৃশ্যকল্প-২ এ রিয়াজ ও আমিন যথাক্রমে অপব্যাখ্যান ও ক্ষতিপূরণ কৌশল ব্যবহার করেছে যারা উভয়ই আত্মরক্ষামূলক কৌশলের শ্রেণিভুক্ত।
নিজের ব্যর্থতা ও অক্ষমতা থেকে উদ্ভূত পীড়াদায়ক গ্লানির কবল থেকে মুক্তি লাভের জন্য ব্যক্তি অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করে। এ কৌশলের মাধ্যমে ব্যক্তি তার অহম বোধকে অক্ষুন্ন রাখে এবং ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্তি লাভ করে। শৃগাল ও আঙ্গুর ফল টক-এর গল্প আমরা সবাই জানি । বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড় যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায়, “আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি আর ছেলেপেলেদের সাথে আমার খেলাধুলা সাজে।” এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য যুক্ত্যাভাসের আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করবার চেষ্টা করি । উদ্দীপকে দেখা যায়, রিয়াজ পরীক্ষায় ফেল করে তার কারণ হিসেবে শিক্ষকদের পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করে । এটি অপব্যাখ্যানকে নির্দেশ করে ।
কোনো ক্ষেত্রের ব্যর্থতা বা অক্ষমতার গ্লানিকে অন্য ক্ষেত্রের সফলতা দিয়ে আমরা ক্ষতিপূরণ করে থাকি। কোনো ছেলে পড়াশোনার খারাপ, কিন্তু খেলাধুলায় পারদর্শিতা দেখিয়ে সে তার পড়াশোনার বিফলতার ক্ষতিপূরণ করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আমিন পড়াশোনায় ভালো না হলেও ফুটবল খেলায় পারদর্শিতা দেখিয়ে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। এটি ক্ষতিপূরণ কৌশলকে নির্দেশ করে ।
পরিশেষে বলা যায়, কিছু কৌশল প্রয়োগ করে ব্যক্তি মানসিক চাপ থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। অপব্যাখ্যান ও ক্ষতিপূরণ এরূপ দুটি আত্মরক্ষামূলক কৌশল ।