উদ্দীপকে রাহিলের ক্ষেত্রে যেসব চাপমূলক অবস্থা পরিলক্ষিত হয় তা হলো- স্বামী-স্ত্রীর কলহ ও বিচ্ছেদ এবং শৈশবকালীন মানসিক আঘাত । মৌসুমির ক্ষেত্রে চাপমূলক অবস্থাটি হলো পিতামাতার উচ্চ প্রত্যাশা।
সন্তান সব সময় মা-বাবার কাছ থেকে স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। কিন্তু মা-বাবা দ্বন্দ্ব-কলহ বা কোনো কারণে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে অথবা আলাদা আলাদা বসবাস করলে শিশুটিকে যে কোনো একজনের কাছে অথবা ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে শিশুটি চাপগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শৈশবকালের ভীতিকর বা মর্মান্তিক কোনো ঘটনা স্বভাবতই ছোট একটি শিশুর মনে প্রচণ্ড আঘাতরূপে কাজ করে। এটি তার মনে বিশাল ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীকালে তাকে চাপমূলক অবস্থায় রাখে । এরা প্রাপ্ত বয়সে দুর্বলচিত্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে ওঠে ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাহিলের পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়েছে। এছাড়া শৈশবে তার সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনা এখনও তাকে পীড়া দেয়। সুতরাং, রাহিলের মধ্যে পরিলক্ষিত চাপমূলক পরিস্থিতি হলো- স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ এবং শৈশবকালীন মানসিক আঘাত ।
প্রত্যেক বাবা-মা প্রত্যাশা করে তাদের সন্তান বড় হয়ে সাফল্যের উচ্চ শিখরে উপনীত হবে। কিন্তু অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে সন্তানের কাছ থেকে তারা বেশি প্রত্যাশা করে সন্তানকে অধিক চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এতে বারবার ব্যর্থ হয়ে শিশু তার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ফলে শিশুরা প্রচণ্ড মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মৌসুমিকে জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার জন্য তার মা খুব চাপ দেয়। ফলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ মৌসুমির চাপমূলক পরিস্থিতি হলো পিতামাতার উচ্চ প্রত্যাশা ।