রহিম ও করিমের প্রতিরক্ষা কৌশল হলো যথাক্রমে প্রতিপেক্ষণ এবং অবদমন ।
নিজের অভ্যন্তরীণ আবেগ, বৈশিষ্ট্য বা প্রবণতা বাইরের কোনো কিছুতে প্রতিফলন করাকে প্রতিক্ষেপণ বলে । নিজের ব্যর্থতার জন্য বাইরের কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়কে দায়ী করা। নিজের মিথ্যাচারের সাফাই গাইতে গিয়ে হয়তো বলি সবাইতো মিথ্যা কথা বলে। পরীক্ষার হলে নকল করতে গিয়ে পরীক্ষার্থী হয়তো মনে মনে বলে, আমি এমন কি দোষ করেছি, আমার আশে-পাশের সবাইতো নকল করছে। উদ্দীপকে রহিম দুর্নীতিগ্রস্ত একজন অফিস সহকারী। এ বিষয়ে তার বক্তব্য অন্যরা দুর্নীতি করে তাই আমিও করি । তার এ ধরনের কৌশল প্রতিক্ষেপণকে নির্দেশ করে ।
অন্যদিকে তীব্র মানসিক চাপের ফলে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো বা অসামাজিক ও নীতিবিরোধী কাজগুলো আমাদের নিজেদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না বা তৃপ্তি সাধন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কামনা বাসনাকে ব্যক্তি স্বভাবতই জোরপূর্বক ভুলে থাকে বা সচেতন মনে দাবিয়ে রাখে। এ জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা দাবিয়ে রাখার কাজটিকে অবদমন বলে। প্রকৃতির দিকে দিয়ে অবদমন হলো সঙ্গতি বিধানের চরমতম এবং নিকৃষ্টতম কৌশল। উদ্দীপকে করিম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে মারামারি করে তার ভুল বুঝতে পারে। সে বন্ধুর নিকট ক্ষমা চায় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে যেতে চায়। তার এ ভুলে যাওয়ার চেষ্টাকে অবদমন বলে।
পরিশেষে বলা যায়, কিছু কৌশল প্রয়োগ করে মানসিক চাপের কবল থেকে আত্মরক্ষা করার প্রচেষ্টাই হলো প্রতিরক্ষা কৌশল । প্রতিক্ষেপণ ও অবদমন হলো এরকম দুটি কৌশল ।