দৃশ্যকল্প-২ এ চিত্রটি দ্বারা দ্বিগুণ বা দ্বৈত আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বকে ইঙ্গিত করছে, যা মানসিক চাপের অন্তর্ভুক্ত। মানসিক চাপ মোকাবেলা করার কৌশলসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো—
১. চাপমূলক পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন : চাপমূলক পরিস্থিতিকে
পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে হবে এবং নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। পরিশেষে নব উদ্যমে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধানে আত্মনিয়োগ করা। অর্থাৎ চাপমূলক যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সরাসরি সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সরাসরি মোকাবিলার সাথে উপরোক্ত বিষয়গুলো জড়িত রয়েছে। যে চাপমূলক পরিস্থিতি ব্যক্তি ভোগ করছে সেটিকে উপরোক্তভাবে সরাসরি মোকাবিলা করতে হবে। ২. পশ্চাৎপসারণ : যে সমস্যাজনক পরিস্থিতি ব্যক্তির জন্য মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছে, তা যদি সমাধান করা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব না হয়, তবে নিজেকে সে ঐ পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে নিতে পারে বা অপসারণ করতে পারে। ব্যক্তি পরিস্থিতি ও স্বীয় দক্ষতাকে বাস্তব দৃষ্টিতে যাচাই করে এ যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ।
৩. সমঝোতা : সমঝোতার মাধ্যমে আমরা মানসিক চাপ থেকে রেহাই পেতে পারি। ব্যক্তি সমস্যাজনক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন করে এবং নিজের অভ্যন্তরীণ অবস্থার কিছু পরিবর্তন এনে পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা এবং বিরাজমান পরিস্থিতিকে বাস্তব দৃষ্টিতে করে এ সমঝোতার পদক্ষেপ নেয়া হয় ।
৪. আত্মরক্ষামূলক কৌশল : প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে কিছু কৌশল প্রয়োগ করে মানসিক চাপের কবল থেকে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করার যে প্রচেষ্টা তাকেই আত্মরক্ষামূলক কৌশল বা প্রতিক্ষণ কৌশল বলে।
আত্মরক্ষামূলক কৌশল বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কৌশল হলো— অবদমন, অপব্যাখ্যান, প্রতিক্রিয়া সংগঠন, প্রত্যাবৃত্তি, অপস্থাপন ইত্যাদি ।