দৃশ্যকল্প-১ এ শরীফের অবস্থাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কর্মভার বলে । নিচে কর্মভার ব্যাখ্যা করা হলো-
কর্মভার হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যেখানে কোনো উদ্দীপক তীব্র হয়ে উঠে এবং যা স্বাভাবিক কর্মপরিবেশকে ব্যাহত করে।
কর্মভারের ফলে আচরণগত প্রকাশ সকলের এক রকম হয় না। কারও ক্লান্তি আসে, কারও মাথাব্যথা করে, কারও ঘুমঘুম ভাব আসে, কারও অলসতা দেখা দেয়, কারও বা মনোযোগের অভাব দেখা দেয় । কর্মভারকে সাধারণত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১। দৈহিক কর্মভার ২। মানসিক কর্মভার।
১. দৈহিক কর্মভার : দৈহিক কর্মভারের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তন
ঘটে থাকে। এ ধরনের পরিবর্তন ব্যক্তি নিজে বা অন্যরাও প্রত্যক্ষ করতে পারে। যেমন, রিক্সা শ্রমিকদের কাজ, কুলির অতিরিক্ত কাজ। এক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলো হলো, মাথাভারী লাগা, শরীর ব্যথা করা, শরীর অবশ লাগা, তৃষ্ণা অনুভব করা, শরীর ঘামা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া প্রভৃতি। শিল্প কলকারখানার অতিরিক্ত কাজের সাথে দৈহিক কর্মভার অধিক সম্পর্কিত।
২. মানসিক কর্মভার : মানসিক কর্মভারের অনুভূতি হচ্ছে ক্লান্তি,
অবসাদ যা ব্যক্তি নিজে উপলব্ধি করতে পারে। অন্যরা প্রত্যক্ষ করতে বা অনুধাবন করতে পারে না। যেমন, কাজের প্রতি আগ্রহ
ও মনোযোগ না থাকা, প্রেষণা না থাকা, ধৈর্য্য না থাকা প্রভৃতি ।
কোনো উচ্চ আশা পূরণে ব্যক্তি অনেক সময় অনবরত তৎপরতা চালিয়ে যায় যার ফলে তার মধ্যে যে উদ্দীপিত মনোদৈহিক অবস্থা বিরাজ করে সেটি নেতিবাচক অবস্থা। এ ধরনের অবস্থা চলতে থাকলে ব্যক্তির মনোদৈহিক অতিরিক্ত ব্যয় হতে থাকে এবং শক্তিভাণ্ডার ক্রমশ নিঃশেষ হতে থাকে। এ ধরনের অবস্থা ব্যক্তির মধ্যে বিরামহীন অস্বস্তির সৃষ্টি করে। আবার ব্যক্তি নিজেও জটিল লক্ষ স্থির করে সে অনুযায়ী অনবরত তৎপরতা চালাতে পারে। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ডিপার্টমেন্টে ভর্তির লক্ষে কোনো ছাত্র অতিরিক্ত তৎপরতা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি প্রচণ্ড লোড বা প্রেসারে পড়তে পারে যা তার মধ্যে কর্মভার সৃষ্টিতে সহায়তা করে ।