উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ পুলকের প্রত্যক্ষণ হলো অধ্যাস বা প্রান্ত- প্রত্যক্ষণ এবং পুলকের মামার প্রত্যক্ষণ হলো অলীক প্রত্যক্ষণ ।
ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণে বাস্তব উদ্দীপক আছে, কিন্তু ৰাস্তব উদ্দীপককে আমরা ভ্রান্তভাবে প্রত্যক্ষণ করি। সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি, কোনো বাস্তব উদ্দীপকে ভ্রান্তভাবে প্রত্যক্ষণ করার নামই হচ্ছে অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ । যেমন- অন্ধকারে রাস্তায় পড়ে থাকা কোনো মোটা দড়িকে সাপ মনে করা। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১. এ পুলকের ঘটনার জন্য ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ দায়ী। পুলক গতি অধ্যাসের কারণে বাসে যাওয়ার সময় তার মনে হচ্ছে গাছপালা সব পিছনে দৌড়াচ্ছে এবং প্রচন্ড অধ্যাসের কারণে রাতে মধ্য আকাশের চাঁদটিকে বড় মনে হচ্ছে ।
বাস্তবে কোনো উদ্দীপক নেই অথচ তাকে প্রত্যক্ষণ করা হয়— এরূপ প্রত্যক্ষণই অলীক প্রত্যক্ষণ। অর্থাৎ অবাস্তব উদ্দীপকের প্রত্যক্ষণই হচ্ছে অলীক প্রত্যক্ষণ। উদাহরণস্বরূপ, আবছা অন্ধকারে একজন দেখতে পেল সাদা কাপড় পরিহিত এক মহিলা তাকে ইশারায় ডাকছে। অথচ বাস্তবে সেখানে কোনো মহিলার অস্তিত্ব নেই।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ পুলকের মামার ঘটনার জন্য দায়ী অলীক প্রত্যক্ষণ । যার কারণে তার মনে হচ্ছে তার মৃত মা তাকে ডাকছেন। সাধারণত মস্তিষ্কের বিকৃতি ও মানবিক অস্বাভাবিকতাই অলীক প্রত্যক্ষণের জন্য দায়ী। সুতরাং বলা যায়, পুলক ও তার মামার ঘটনাটি দুটি আলাদা প্ৰত্যক্ষণ। যেখানে পুলকের ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণের বাস্তব ভিত্তি আছে কিন্তু পুলকের মামার অলীক প্রত্যক্ষণের বাস্তব ভিত্তি নেই ।