উদ্দীপকে রেহানার ক্ষেত্রে অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু কলির বেলায় অলীক প্রত্যক্ষণের ঘটনায় ঘটেছে। অধ্যাস এবং অলীক প্রত্যক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও পৃথক। নিচে উক্তিটির । যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, রেহানা দড়িকে সাপ মনে করেছে। অর্থাৎ, বাস্তব উদ্দীপক থাকলেও একে সে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। অপরদিকে, কলি অবাস্তব বা অনুপস্থিত একটি বিষয়কে প্রত্যক্ষণ করছে । অর্থাৎ, মৃত মানুষের ডাক শুনছে। একে বলা হয় অলীক প্রত্যক্ষণ। এ দুটি বিষয় প্রত্যক্ষণ হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান ।
প্রত্যক্ষণ সংক্রান্ত হওয়ায় অধ্যাস ও অলীক প্রত্যক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণে উদ্দীপকের উপস্থিতি থাকে, কিন্তু অলীক প্রত্যক্ষণে কোনো উদ্দীপক থাকে না। দ্বিতীয়ত, উদ্দীপকের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য এবং অবস্থানের কারণে ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ ঘটে। কিন্তু প্রাণীর স্নায়বিক বা মস্তিষ্কের অসুস্থতায় অলীক প্রত্যক্ষণ হয়। তৃতীয়ত, অধ্যাস ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন দু ধরনের হতে পারে। অলীক প্রত্যক্ষণ শুধু ব্যক্তিগত চতুর্থত, অধ্যাস কোন অসুস্থতা নয়, একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অলীক প্রত্যক্ষণ এক জাতীয় অসুস্থতা। পঞ্চমত, অধ্যাসের বিজ্ঞানসম্মত পরিমাপ করা যায়। কিন্তু অলীক প্রত্যক্ষণের বিজ্ঞানসম্মত পরিমাপ সম্ভব হয় না। ষষ্ঠত, দেহের সংবেদী অংশ অপসারণ করা হলে অধ্যাস ঘটে না। কিন্তু দেহের সংবেদী অংশ অপসারণ করা হলেও অলীক প্রত্যক্ষণ ঘটতে পারে।
এই আলোচনা থেকে যথার্থই বোঝা যায়, অধ্যাস ও অলীক প্ৰত্যক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান ।