যে হ্যাঁ, উদ্দীপকে বস্তুটিকে বই বলে হিমেলের বুঝতে পারা এবং দুই বন্ধুর হাতি দেখা উভয় ঘটনাই প্রত্যক্ষণ (Perception)।
পারিপার্শ্বিক অবস্থাদি সম্পর্কে মানুষ বা প্রাণী যে অর্থপূর্ণ ধারণা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করে তাকে প্রত্যক্ষণ বলে। উত্তেজক পারিপার্শ্বিক বস্তু বা ঘটনার বার্তা মস্তিষ্কে বয়ে নিয়ে আসে এবং সাথে সাথে এর বিশ্লেষণ, সমন্বয়সাধন ও একীভূতকরণ শুরু হয়। মস্তিষ্কে এর বিশ্লেষণ, সমন্বয়সাধন ও একীভূতকরণের পর অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে উক্ত বস্তু বা ঘটনার একটা পরিচয় পাওয়া যায় এবং তখনই সৃষ্টি হয় প্রত্যক্ষণ।
প্রত্যক্ষণ সম্পর্কে রডিজার, রাস্টন, কেপালডি এবং প্যারিস বলেন, 'সংবেদন বলতে পরিবেশ থেকে উদ্দীপকের গ্রহণকে বোঝায়; অন্যদিকে প্রত্যক্ষণ সেই উদ্দীপনার ব্যাখ্যা ও অর্থবোধের বর্ণনা প্রদান করে।'
উদাহরণস্বরূপ- রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ এক ঝলক আলো চোখে এসে পড়ল। আলোর প্রতি প্রাথমিক এই অনুভূতি হলো সংবেদন। পরে যখন বোঝা গেল যে, সেটা মোটর গাড়ির হেড লাইটের আলো, তখন তা প্রত্যক্ষণে পরিণত হলো।
উদ্দীপকে, বইকে বই বলে চিনতে পারা হলো প্রত্যক্ষণ। আবার, দুই বন্ধুর হাতি দেখা এবং হাতির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করাও হলো প্রত্যক্ষণ। অর্থাৎ উদ্দীপকের উভয় ঘটনাই হলো প্রত্যক্ষণ।