উদ্দীপকে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের সময় করিম হঠাৎ একটা দড়ি দেখে সে ভয়ে সাপ বলে চিৎকার করল। করিমের এ ধরনের প্রত্যক্ষণের প্রকৃতি হলো ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ বা অধ্যাস। কেননা, কোনো রাস্তব উদ্দীপককে বা ঘটনাকে ভ্রান্তভাবে প্রত্যক্ষণ করার নামই ভ্ৰান্ত প্রত্যক্ষণ বা অধ্যাস। নিচে এর শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করা হলো-
অধ্যাস বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যথা— জ্যামিতিক অধ্যাস, গতি, অধ্যাস, চান্দ্র অধ্যাস, প্রাকৃতিক অধ্যাস প্রভৃতি।
১. জ্যামিতিক অধ্যাস : রেখা, কোণ ইত্যাদি বিষয়ে পরিমাপ সম্পর্কে চোখে নানা ধরনের ভ্রান্তি দেখা দেয়। এ ধরনের ভ্রান্তিই হলো জ্যামিতিক অধ্যাস। যেমন, মূলার লায়ার অধ্যাস। পাশের চিত্রে যদিও রেখা দুটি সমান তথাপি পালক চিহ্নিত রেখা তীর চিহ্নিত রেখা অপেক্ষা বড় দেখায় ৷
২. গতি অধ্যাস : এ ধরনের অধ্যাসে স্থির বস্তুকে গতিশীল হিসেবে প্রত্যক্ষণ করা হয়। যেমন, ফাই ঘটনা। বিয়ে বাড়ির বাতিগুলো স্থির কিন্তু মনে হয় আরো দ্রুততার সাথে ছুটে চলেছে। এটি গতি অধ্যাসের উদাহরণ ।
৩. চান্দ্র অধ্যাস : চাঁদের দিকে তাকালে দিগন্তের চাঁদকে মধ্য আকাশের চাঁদ অপেক্ষা বড় দেখা যায়। কেবল অবস্থানের জন্য একই চাঁদকে ছোট বা বড় দেখাচ্ছে । চান্দ্র অধ্যাসের জন্য এরূপ ঘটে থাকে ।
৪. প্রাকৃতিক অধ্যাস : গ্লাসের স্বচ্ছ পানিতে এক টাকার একটি কয়েন রাখলে একে অনেক উপরে বলে মনে হয়। আবার অর্ধ বালতি পানিতে একটু সোজা লাঠি রাখা হলে একে বাঁকা দেখা যায় । যা প্রাকৃতিক অধ্যাস ।