উদ্দীপকে খেলার মাঠে অভির চিৎকার করা হলো প্রাথমিক চেতনা। এই প্রাথমিক চেতনাই হলো সংবেদন এবং পরবর্তিতে লোহার পেরেক শনাক্ত করার বিষয়টি হলো সংবেদনের ব্যাখ্যা বা অর্থবোধক করা। এই অর্থবোধক করাই হলো প্রত্যক্ষণ। নিচে সংবেদন ও প্রত্যক্ষণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো বস্তু বা বিষয় সম্বন্ধে প্রাথমিক চেতনাই হলো সংবেদন আর সংবেদনকে যখন ব্যাখ্যা বা অর্থবোধক করা হয় তখনই তা হয়ে ওঠে প্রত্যক্ষণ। হেনরি এল. রডিজার এবং তাঁর সহযোগীরা বলেন, সংবেদন বলতে পরিবেশ থেকে উদ্দীপনার গ্রহণকে বোঝায়, অপর পক্ষে প্রত্যক্ষণ ঐ উদ্দীপনার ব্যাখ্যা ও অর্থবোধক বর্ণনা করে।
সংবেদন ও প্রত্যক্ষণকে 'আমরা' আলাদাভাবে না দেখে বরং বলতে পারি এরা একই লম্বা দিগন্তের দুটি বিন্দু। কোনো উদ্দীপক যখন কোনো একটি বিশেষ ইন্দ্রীয় যন্ত্রে আঘাত করে তখন আশ্চার্যজনকভাবে দ্রুতগতিতে তা ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষণের সৃষ্টি হয়। তাই সংবেদন ও প্রত্যক্ষণের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা তৈরি করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ খেলার মাঠে অভি খেলতে গিয়ে একটি তীক্ষ্ণবস্তু পায়ের নিচে পড়তে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। তীব্র ব্যথার এই অনুভূতিই হলো সংবেদন। আর যখন বোঝা গেল যে, একটি লোহার পেরেক পায়ে ঢুকাতেই এই ব্যথা অনুভব হয়েছে, তখনই তা প্রত্যক্ষণে পরিণত হলো।