উদ্দীপকে সজলের ঘটনাটি হলো অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ । অপরদিকে রাকিনের ঘটনাটি হলো অলীক প্রত্যক্ষণ। তাদের দেখা এ ঘটনা দুটি এক নয়, দুটিই ভিন্ন ঘটনা।
উদ্দীপক থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে যে চেতনা লাভ করি তাই পংবেদন। আর এই সংবেদনের অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হলো প্রত্যক্ষণ। কিন্তু এ প্রত্যক্ষণ যদি সঠিক না হয় তখন তাকে ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ বা অধ্যাস বলা হয়। অর্থাৎ কোন উদ্দীপককে যখন আমরা ভুলভাবে প্রত্যক্ষণ করি তাকে অধ্যাস বলে। আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই সজল মামার সাথে কক্সবাজার বেড়াতে গেল। সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের সময় হঠাৎ একটা দড়ি দেখে সে ভয়ে সাপ বলে চিৎকার করল। অর্থাৎ সজল কোনো বাস্তব উদ্দীপককে ভুলভাবে প্রত্যক্ষণ করল, যা অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণকে নির্দেশ করে ।
অপরদিকে রাস্তবে কোন উদ্দীপক নেই কিন্তু কোনো ব্যক্তি ঐ উদ্দীপকের উপস্থিতি টের পেল তাকে অলীক প্রত্যক্ষণ বলে । শুধুমাত্র অলীক প্রত্যক্ষণকারী ব্যক্তির কাছে ঐ উদ্দীপক অনুভূত হয়, আশেপাশের ব্যক্তির কাছে তা অনুভূত হয় না। আমরা দৃশ্যকল্প ২ এ দেখতে পাই রাকিন ও শাফিন রাতের বেলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ রাকিন বলল, কেউ একজন আমাদের পিছন পিছন আসছে। শাফিন বলল, কোথায় কাউকে তো দেখতে পাচ্ছি না। রাকিনের এ ঘটনাটি অলীক প্রত্যক্ষণকে নির্দেশ করে, কেননা সেখানে কোন উদ্দীপক না থাকলে তার কাছে অনুভূত হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি অধ্যাস ও অলীক প্রত্যক্ষণ উভয়ই অবাস্তব ঘটনা হলেও উভয়ের মাঝে উদ্দীপকের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির পার্থক্য রয়েছে।