কুকুর এবং ইঁদুরের গবেষণায় যে পদ্ধতি দুটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো চিরায়ত সাপেক্ষীকরণ ও সহায়ক শিক্ষণ। চিরায়ত সাপেক্ষীকরণ ও সহায়ক শিক্ষণ এর মধ্যে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। সহায়ক শিক্ষণে পরীক্ষণপাত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিক্রিয়া করে থাকে কিন্তু চিরায়ত সাপেক্ষীকরণে প্রতিক্রিয়াটি আদায় করে নেয়া হয়। সহায়ক শিখনে সন্তুষ্টি বা বলবর্ধক নির্ভুল প্রতিবেদন করার পর আসে, চিরায়ত সাপেক্ষীকরণে বলবর্ধক নিজেই নির্ভুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে। সহায়ক শিক্ষণে, প্রাণীকে অধিক স্বাধীনতা দেয়া হয় কিন্তু সাপেক্ষীকরণে প্রাণীর এরূপ স্বাধীনতা নেই। সহায়ক শিক্ষণে পরীক্ষণপাত্র সক্রিয় এবং পরীক্ষণকারী অনেকাংশে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে অপরদিকে সাপেক্ষীকরণের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাত্র অনেকাংশে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। সহায়ক শিক্ষণে বলবর্ধক পাওয়ার পূর্বে কোনো সংকেত পায় না কিন্তু সাপেক্ষীকরণে প্রাণী বলবর্ধক আগমনের পূর্বে সংকেত পেয়ে থাকে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, চিরায়ত সাপেক্ষীকরণ ও সহায়ক শিক্ষণ উভয়ই শিক্ষণের পদ্ধতি হলেও দুই শিক্ষণ পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান।