স্মৃতিকে উন্নত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা যায়। নিম্নে কিছু কৌশল তুলে ধরা হলো-
আমরা যা শিখি আর যা কিছু ভুলে যাই এ দুয়ের পার্থক্য হলো স্মৃতি। তবে আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি এক রকম নয়। এক রকম না হলেও স্মৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা— শিক্ষণ, সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা প্রভৃতিকে অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিকে উন্নত করা যায়। স্মৃতিকে উন্নত করার কিছু কৌশল রয়েছে যার মধ্যে আবৃত্তি, যুক্তিনিষ্ঠ শিক্ষণ, সামগ্রিক শিক্ষণ, যথাযথ অনুষঙ্গ, সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি স্মৃতি, সংকেত, গভীর মনোযোগ, তাল ও ছন্দ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোনো পাঠ মুখস্থ করার সময়ে একই সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা না করে সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি করলে পাঠ- অভ্যাস দ্রুত হয় এবং দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হয়। কোনো পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে তাল ও ছন্দের উপস্থিতি থাকলে তার সাহায্যে শিখলেও শেখাটি দ্রুত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় শিক্ষক বিস্মৃতির কারণ এবং কীভাবে স্মৃতিকে উন্নত করা যায় সে সম্পর্কে ধারণা দেন। সেই ধারণা থেকে আমরা জানতে পারি স্মৃতি ও বিস্মৃতি আমাদের মস্তিষ্কের দুটি বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। মনোবিজ্ঞানী মরগ্যান স্মৃতিকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করার ব্যাপারে যে বিষয়গুলোর সুপারিশ করেছেন সেগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় মনে রাখার ব্যাপারে বেশ কার্যকর। এগুলো হলো— ১. বিষয়টির অর্থ ও তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। ২. বিষয়টি শেখার পর বিশ্রাম নিতে হবে । ৩. পঠিত বিষয় পুনরাবৃত্তি করতে হবে। ৪. শিক্ষার জন্য প্রেষণা বা তাগিদ থাকতে হবে। ৫. গভীর মনোযোগ দিয়ে অধ্যয়ন করতে হবে।
স্মৃতি আমাদের জীবনের মূল্যবান ব্যাপার। একে পুরোপুরি ধরে রাখা সম্ভব নয় । তবে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে স্মৃতিকে উন্নত করা সম্ভব ।