না, জুঁই এবং চাঁপার বিস্মৃতির কারণ একই নয়। জুঁই এর বিস্মৃতির কারণ অব্যবহারজনিত স্মৃতির অবক্ষয় এবং চাঁপার বিস্মৃতির কারণ অনুশিক্ষণ প্রতিবন্ধকতা । নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
জুঁই-এর ক্ষেত্রে বিস্মৃতির কারণ অব্যবহারজনিত স্মৃতির অবক্ষয়। শিক্ষণকৃত বিষয় যদি ব্যবহার না করি বা অনুশীলন না করি তাহলে কালের স্রোতে তা হারিয়ে যায়। অর্থাৎ অব্যবহারজনিত কারণে কালের প্রবাহে স্মৃতি চিহ্নগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। ফলে আমরা শিক্ষণকৃত বিষয়গুলো বিস্মৃত হই। এ অব্যবহারজনিত বিস্মৃতির কারণেই আমরা অনেক জানা গল্প বা ঘটনা বিস্মৃত হই।
অব্যবহারজনিত কারণে স্মৃতির অবক্ষয় ঘটলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বা কোনো কোনো সময়ে তা পুনর্জাগরণ হয়ে থাকে। যেমন বাল্যকালের কোনো একটি ঘটনা ঘটেছিল যার কথা ভুলে গিয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে ঘটনাক্রমে হঠাৎ করে স্মৃতির পাতায় বাল্যকালের সেই ঘটনাটি জাগরিত হতে পারে। তবুও বলা যায় যে, শিক্ষণকৃত বিষয় যদি ব্যবহার করা না হয় বা পর্যালোচনা করা না হয়, তাহলে সময়ের সাথে সাথে তা বিস্মৃতির অতল তলে হারিয়ে যায়।
আবার, চাঁপার ক্ষেত্রে বিস্মৃতির কারণ অনুশিক্ষণ প্রতিবন্ধকতা। এ মতবাদের মূল বিষয় হলো, নতুন বিষয় শিক্ষা করার ফলে আমরা পূর্বে শিক্ষা করা বিষয় ভুলে যাই। শিক্ষণ ও পুনরুদ্রেকের মধ্যকার বিরতির সময়ে মানসিক কার্যের ফলে স্মৃতির যে ব্যাঘাত হয় তাকে অনুশিক্ষণ প্রতিবন্ধকতা বা পশ্চাদমুখী বাধা বলা হয়। কোনো বিষয় শিক্ষণের সময় প্রথমটি শেখার পর কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে তবে দ্বিতীয়টা শিক্ষা করতে হয়। কিন্তু কোনো একটা বিষয় শেখার পরই কোনো বিরতি না দিয়ে যদি সঙ্গে সঙ্গে আর একটি বিষয় শিখি, তাহলে দেখা যাবে যে প্রথম বিষয়টির অংশ বিশেষ ভুলে গেছি। এর কারণ দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথম বিষয়টি মনে রাখার পক্ষে বাধার সৃষ্টি করেছে এবং পেছন দিক থেকে এসে প্রথম বিষয়টিকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, জুঁই এবং চাঁপার বিস্মৃতির কারণ একই নয় ।