উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যটি ছিল মাছ সংরক্ষণ সম্পর্কিত। উপযুক্ত পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মৎস্য আমিষের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
'মাছ সংরক্ষণ' হলো এমন কতকগুলো পদ্ধতি যার দ্বারা আহরিত মাছের গুণগত মান দীর্ঘসময় ঠিক রাখা হয়। মাছ সংরক্ষণের সময় মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক পদার্থ যাতে ব্যবহার না করা হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নামই হলো নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ। প্রতি বছর প্রচুর মাছ জালে বা ফাঁদে ধরা পড়ার পর বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সময়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বছর সংরক্ষণের অভাবে বাংলাদেশে প্রায় ২০ ২৫% মাছ পচে যায়। তাই মাছ ধরা পড়ার পর হতেই সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। মাছ সংরক্ষণ করা হলে অমৌসুমে মাছ পাওয়া সম্ভব হয়। আবার দেশের ভূতাত্ত্বিকগত ও জলাশয় সর্বত্র এক ধরনের নয় বিধায় সব ধরনের মাছ সব ধরনের নদী, খাল-বিল, ডোবায় একই সময়ে পাওয়া যায় না। তাই সময় ও স্থানভেদে আহরিত অন্যত্র অর্থাৎ যেখানে উৎপাদন হয় না সে সকল স্থানে পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। যেহেতু, মাছ আমাদের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম বড় একটি উৎস। বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৮০ ভাগ আসে মাছ বা মাছজাতীয় দ্রব্য থেকে অর্থাৎ ১২ গ্রাম আমিষ আসে মাছ থেকে। মাছে শতকরা ১৬.৫ ভাগ আমিষ বিদ্যমান বিধায় ১২ গ্রাম আমিষ পাওয়ার জন্য আমাদের প্রতিদিন ৭৩ গ্রাম মাছ খেতে হবে। আর এজন্যই উন্নত পদ্ধতিতে মাছ চাষের পাশাপাশি নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিরাপদ মাছ সংরক্ষণে শুঁটকিকরণ, লবণ জাতকরণ, হিমায়িতকরণ প্রভৃতি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের পচন রোধ হবে, মাছের গুণগতমান অব্যাহত থাকবে ফলে আমিষের চাহিদা পূরণে কোনো ধরনের ঘাটতির সম্মুখীন হতে হবে না।