বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা চিংড়িতে ফরমালিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় আমেরিকা সেই চিংড়ি ফেরত পাঠায়। কারণ, ফরমালিনযুক্ত চিংড়ি মানুষের শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। ফরমালিন যুক্ত মাছ খেলে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ যেমন- শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, চর্মরোগ, বমি, কিডনির ক্ষতি, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা ছাড়াও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। ফরমালিনযুক্ত চিংড়ির গন্ধ প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে হাঁচি, কাশি, কণ্ঠনালীতে অম্লীয় অনুভূতি, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফরমালিনের বিষাক্ততা দীর্ঘদিন থাকে এবং, রান্না করার পরও বিষাক্ততা কমে না। এ সকল কারণে আমেরিকা ফরমালিনযুক্ত চিংড়ি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
কিন্তু পরের বছর এগ্রোফুড লিঃ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাথা ও খোসাসহ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করে আমেরিকায় রপ্তানি করে। নিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। চিংড়ি চাষ, রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে যে লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান জড়িত তা আশঙ্কামুক্ত হয়। এগ্রোফুড লিঃ ছাড়াও অন্যান্য কোম্পানি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করায় দেশের চিংড়ি চাষের বাজার সম্প্রসারিত হয়। ফলে প্রতি বছর চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ, ফরমালিনযুক্ত চিংড়ি স্বাস্থ্যকর না হওয়ায় তা দু-দেশের সম্পর্কে সাময়িক বিরূপ প্রভাব ফেললেও এগ্রোফুড কোম্পানির নিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি পুনরায় ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়।