উদ্দীপকে উল্লিখিত উপস্থাপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো, 'বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।'
চিংড়ি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যা আর্থ্রোপোডা পর্বের ডেকাপোড়া বর্গের অন্তর্গত। বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি ও পানি চিংড়ি চাষের জন্য খুবই উপযোগী । দেশের প্রাকৃতিক উৎস থেকে সহজেই চিংড়ি পোনা পাওয়া যায় । কৃত্রিমভাবে ৪৩টি হ্যাচারিতে বাগদা ও ৩৯টি হ্যাচারিতে গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন করা হয়। রেণু সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি। তাছাড়া স্বল্প বিনিয়োগে সহজেই চিংড়ি খামার গড়ে তোলা যায়। গলদা চিংড়ির সাথে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষও অধিক লাভজনক। বাংলাদেশের অসংখ্য নদী খাল, ডোবা, পুকুর এবং বঙ্গোপসাগরের ৪৮০ কিলোমিটার তটরেখা বরাবর অর্থনৈতিক এলাকাসমূহে চিংড়ি চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় ৪০% জমিতে অর্থাৎ প্রায় ১.৭২ লাখ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। আরও অন্তত ২.৩৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা সম্ভব। এ দেশে চিংড়ির চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়িয়ে সহজেই পতিত জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।