উদ্দীপকে প্রদত্ত 'চিত্র-ক' হলো খাদ্যদানির মাধ্যমে পুকুরে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ এবং 'চিত্র-খ' হলো সেকিডিস্কের মাধ্যমে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা। মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ এবং নিয়মিত প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান বিবেচ্য বিষয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জলাশয় থেকে মাছ প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করে বড় হয়। তবে মাছের উৎপাদন যথার্থ করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি কৃত্রিম বা সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। এ খাদ্যে মাছের প্রয়োজনীয় আমিষ, শ্বেতসার, খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ, স্নেহ ইত্যাদি সঠিক পরিমাণে বর্তমান থাকে। ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মাছ চাষে লাভবান হওয়া যায়। সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ না করলে মাছের যথাযথ বৃদ্ধি ঘটবে না এবং মাছ রোগাক্রান্ত হয়ে যাবে। ফলে মাছ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিত্রের খাদ্যদানির মাধ্যমে পুকুরে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করা হয়।
আবার পুকুরে নিয়মিত প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি ও মাত্রা জানা জরুরি। কারণ প্রাকৃতিক খাদ্যের উপর ভিত্তি করেই মাছ জীবনধারণ করে। পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য কম হলে সার প্রয়োগ করতে হয়। আবার প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যাপ্ত বা বেশি হলে সার দেওয়া বন্ধ রাখতে হয়। প্রাকৃতিক খাদ্য বেশি হলে সম্পূরক খাদ্যও দেওয়া বন্ধ রাখতে হয়। চিত্রের সেকিডিস্কের মাধ্যমে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি ও মাত্রা নিশ্চিত হওয়া যায়। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, মাছ চাষে লাভবান হতে হলে পুকুরে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করতে হয়।