বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. খাদ্য ও পুষ্টিতে: মানুষের খাদ্য তালিকায় মাছ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রাণিজ প্রোটিনের শতকরা ৮০ ভাগ আসে মাছ জাতীয় দ্রব্য থেকে। সুতরাং মাছ পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দিয়ে আমাদের পুষ্টিমান উন্নয়নে সহায়তা করে। ২. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ১২ জন লোক মাছ ধরা বা মাছ সম্বন্ধীয় কাজের সাথে জড়িত আছে। বাংলাদেশে নিবিড় মাছ চাষ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে মাছের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেত। নিবিড় মাছ চাষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর জনশক্তি প্রয়োজন। এভাবেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার জন্য মাছ চাষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ৩. 'বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ১০ ভাগ আসে মাছ ও মাছ জাতীয় পণ্য থেকে রপ্তানিকৃত মাৎস্য সম্পদের মধ্যে চিংড়ি, শুঁটকি মাছ, ব্যাঙের পা, কাঁকড়া, কচ্ছপ ইত্যাদি। ৪. জাতীয় অর্থনীতিতে : বাংলাদেশের জাতীয় আয় যে সকল খাত থেকে অর্জিত হচ্ছে তাদের মধ্যে মৎস্য খাত অন্যতম। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৬৯%। ৫. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন : বাংলাদেশে গ্রামগঞ্জে অসংখ্য পুকুর ডোবা ছড়িয়ে আছে। সংস্কারের মাধ্যমে এ সমস্ত পুকুরে মাছ চাষ করে বিত্তহীন লোক ও বেকার যুবকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। ৬. হাঁস-মুরগির খাদ্য: মাছের অব্যবহৃত অংশ যেমন- আঁইশ, কাঁটা, নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি এবং শুষ্ক মৎস্য চূর্ণ দ্বারা হাঁস-মুরগির উত্তম সুষম খাদ্য তৈরি করা সম্ভব। ৭. পতিত জমির ব্যবহার: আমাদের দেশে অসংখ্য পতিত জমি, জলাশয়, দীঘি, মজাপুকুর, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ইত্যাদি রয়েছে। যেগুলোকে মাছ চাষের আওতায় এনে সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব এবং পারিবারিক মাছের চাহিদা মেটানো যায়। ৮. জমিতে সার হিসেবে : বড় মাছের কাঁটা, খাওয়ার অযোগ্য মাছ, আঁশ, বিষাক্ত মাছ শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করা যায়।। অতএব উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
HSC কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র Chapter 1 : মৎস্য চাষ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র · Chapter 1 : মৎস্য চাষ · সৃজনশীল
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর

উত্তর

