উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' অঞ্চলে যথাক্রমে শহুরে ও গ্রামীণ জনসংখ্যার প্রাধান্য লক্ষণীয়।
বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার ঘনত্ব সমান নয়। এদেশের শহরগুলোর তুলনায় গ্রামে জনসংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। সাধারণত কোনো স্থানের ভূপ্রকৃতি, মৃত্তিকা, জলবায়ু, পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষা, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতি নিয়ামকগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে জনসংখ্যার বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
নিচে গ্রামীণ ও নগর জনসংখ্যার ধরনের পার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতির ওপর একটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত নগরসমূহে শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠায় এখানে জনসংখ্যা গ্রামের তুলনায় বেশি। যেমন- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ। আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা যেখানে বেশি সেখানেও মানুষ অধিক হারে বাস করে। শহুরে এলাকায় গ্রামের তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় লোকজন শহরে আগমন করে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যেমন- চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা। নগরায়নের উপরও কোনো স্থানের জনসংখ্যার তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নগরে মানুষের জীবনধারনের উপযোগী সকল প্রকার সুবিধা বিদ্যমান থাকায় লোকবসতি গ্রামের তুলনায় বেশি। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণেও মানুষ নগরমুখী হয়। এছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, সেবা, বিনোদন, দর্শনীয় স্থান প্রভৃতির আধিক্যের কারণে নগরের জনসংখ্যা গ্রামের তুলনায় অধিক হয়ে থাকে।
উপরিউক্ত কারণগুলোই 'ক' এবং 'গ' অর্থাৎ নগর ও গ্রামীণ জনসংখ্যার ধরনের পার্থক্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে।