উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে বায়ুদূষণ এবং পানিদূষণ। এ দুই ধরনের দূষণই মানুষের জন্য ক্ষতিকর। নিচে বায়ু ও পানিদূষণ প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো- সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপ্তের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্ধে পরিচিতি প্রদান করতে হবে। পরিবেশে জনসংখ্যার ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের আগে সরকার থেকে অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যদিকে পানি দূষণ প্রতিরোধে নিম্নোক্ত বিষয়াবলি অনুসরণ করতে হয়। নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্য যাতে নদীর পানিতে না মিশে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। শিল্পকারখানার রং, গ্রিজ, রাসায়নিক দ্রব্য, উষ্ণ পানি ইত্যাদি যাতে নদীর পানিতে না মিশে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে না ফেলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া উক্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সরকারি, বেসরকারি পরিকল্পনা প্রণয়ন, পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গবেষণা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম চালাতে হবে।
তবেই আমাদের দেশের পানিদূষণ রোধ সম্ভব হবে। পরিশেষে বলা যায়, মানুষের নানামুখী অপরিকল্পিত কর্মকান্ডের ফলে বিভিন্ন কারণে প্রকৃতিতে বায়ু ও পানিদূষণ হয় তা যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক পন্থায় প্রতিরোধ করা না গেলে প্রাণী ও জীবকুলের জন্য তা হবে হুমকিস্বরূপ।