বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো প্রভৃতির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়। নিচে এসব দুর্যোগের কারণসমূহ আলোচনা করা হলো- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল দেশ। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২,৩০০ মিলিমিটার। ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীসহ ৭০০টি নদী এদেশে জালের মতো বিস্তার করে আছে। এর মধ্যে ৫৪টি নদীর উৎসস্থল ভারতে অবস্থিত। বাংলাদেশে বন্যার প্রাকৃতিক কারণসমূহ হলো- উজানে প্রচুর বৃষ্টি, ভৌগোলিক অবস্থান, মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব, মূল নদীর গভীরতা কম, শাখানদীগুলো পলি দ্বারা আবৃত, হিমালয়ের বরফগলা পাঁনিপ্রবাহ, বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা, ভূমিকম্প এবং মানবসৃষ্ট কারণ হলো- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন, গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ, অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়। প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয় তা তোমরা পূর্বেই জেনেছ। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলার আকৃতির কারণে এদেশে অধিকসংখ্যাক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
এছাড়া মানুষের কর্মকান্ডের ফলে পরিবেশ দূষণ সংঘটিত হয়। যার ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগ।